মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত ফিল্ম ‘ভোঁসলে’ উস্কে দেয় পরিযায়ী রাজনীতি এবং ‘বহিরাগত’ বিতর্ক

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 30, 2021 10:29 pm|    Updated: March 30, 2021 10:29 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 30, 2021 10:29 pm Updated: March 30, 2021 10:29 pm

সদ্য জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মানে ভূষিত হওয়া মনোজ বাজপেয়ী এই ছবির নাম চরিত্রে, পুলিশ কনস্টেবল ‘ভোঁসলে’র চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি নানা কারণে অত্যন্ত আকর্ষক। সহ-চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক দেবাশীষ মাখিজা অত্যন্ত সঠিক ভাবে চরিত্রটির কোনো পুরনো গল্প আমাদের সামনে নিয়ে আসেননি – আমরা জানি না ভোঁসলে ব্যাচেলর, নাকি বিপন্তীক, তাঁর কোনো ছেলেমেয়ে আছে কী না, আত্মীয় স্বজন কেউ আছে কী না। তিনি শুধু রোজকার ক্লান্তিকর কাজ করে চলেন একটিই আশায়, যদি তাঁর সার্ভিস এক্সটেন্ড করে আরও কিছুদিনের জন্য চাকরি করার সুযোগ তাকে দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে থানায় গিয়ে পুরনো কলিগদের নিজের হাতে বানানো চা খাইয়ে খুশি করার চেষ্টা করেন, তাও খানিক সেই চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর আশাতেই। এই একলা মানুষের গল্প হিসেবে ভোঁসলে ছবিটি আমাদের নজর কেড়ে নেয় অনেকগুলো কারণে, যেখানে নিছক ভাষা বা ভূগোলের গণ্ডী ছাড়িয়ে সহজেই তার ক্ষেত্রটি হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক।

আমাদের প্রধান দুটি প্রসঙ্গ’র একটি নিঃসন্দেহেই এই ভয়ংকর প্রাদেশিকতাবাদ– যা বর্তমানের ভারতের অন্যতম বড় একটি সমস্যা। এমনিতেই জাতীয়তাবাদের বাড়াবাড়ি আমরা রোজই দেখতে পাই – ভারত থেকে বহিরাগত, নির্দিষ্ট একটি ধর্মের এককালীন উদ্বাস্তু মানুষদের তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে আইন তৈরীর প্রচেষ্টা, এসব বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতের রাজনীতিতে জলভাত। শুধুমাত্র রাষ্ট্রের তৈরী আইন নয় – জনসংখ্যার, সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশও বোধহয় বিশ্বাস করেন, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের অস্তিত্বের কারণেই ভারতের নানান বড়বড় সমস্যার উৎপত্তি – তাই দেশে থেকে বেগড়বাই করতে থাকা কিছু লোককে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিলেই বোধহয় সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু এ আলোচনায় আমরা মন দিতে চাইছি এই জাতীয়তাবাদের অপেক্ষাকৃত ছোট একটি সংস্করণে, – প্রাদেশিকতাবাদ এবং তা থেকে উদ্ভূত জিঙ্গোইজম।

ভোঁসলে ছবিতে বিলাশ চরিত্রটি যেমন চিৎকার করে প্রায়ই জানিয়ে দেয়, মহারাষ্ট্র শুধুমাত্র মারাঠিদের জন্য – তাই এখানে অন্য রাজ্য থেকে আসা মানুষ থাকতে পারবে না। আর যদি বা মারাঠিরা দয়া করে অন্যদের থাকতেও দেয়, তবে তার স্থান হবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো – সর্বক্ষণ লাথি-ঝাঁটা খেয়ে, অন্যের চাকরবৃত্তি করে তাদের থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের আর পাঁচটা অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে অন্যদের থেকে – বিলাশ যেমন স্থানীয় লাইব্রেরিতে হিন্দি ভাষার কাগজ আনা বন্ধ করে দেয়, সেখানে শুধু মারাঠি ভাষার কাগজই থাকবে, যাতে অন্য কেউ তা পড়তে না পারে। যারা বেগড়বাই করবে, তাদের জন্য লাথি ঘুষি মারপিট তো আছেই, ছবিতে যেমন দেখি আমরা – ধর্ষণ করতেও সে পিছপা হয়না।

শুনুন…

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শুভাশিস চক্রবর্তী

পোল