সত্যজিৎ রায়, শোলে ও জটায়ু

Published by: shono_admin |    Posted: October 13, 2020 5:20 pm|    Updated: November 19, 2020 10:30 am

Published by: shono_admin Posted: October 13, 2020 5:20 pm Updated: November 19, 2020 10:30 am

Audio Podcast in Bengali

হিন্দি কমার্শিয়াল সিনেমা সম্পর্কে সত্যজিতের চিরকালই একরকমের অনীহা ছিল। বিশেষ করে হিন্দি ফিল্মের ছক-বাঁধা কাঠামো সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করতে তিনি কখনোই কসুর করতেন না। তা সে সরাসরি নিজের মুখে হোক্ বা তাঁর তৈরি চরিত্রদের জবানিতেই।

১৮.০৪.১৯৮৭-তে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সত্যজিৎ রায় বলেন –“নাচ গান, চড়া সুরের নাটক বা… মারামারিও বলতে পারেন, বোম্বাই বললে মারামারি তো আসবেই,… তবে বোম্বাইয়ের ফর্মুলা, একটা পরিষ্কার ফর্মুলা তৈরি হয়ে গেছে। সেটা আমরা সহজেই চিনতে পারি।” ‘অতীতের বাংলা ছবি’ নামের আরেকটি লেখায়ও সত্যজিৎ এই –“হিন্দি ছবির নাচ-গান-অ্যাকশন-মেলোড্রামার ফরমুলা”-র কথা বলেন। পূজাবার্ষিকী একটি সিনে পত্রিকা’য় ১৩৮৯-এ প্রকাশিত হয়, সত্যজিতের ‘ছবির জন্য গল্প’ প্রবন্ধটি। তাতে সত্যজিৎ লেখেন –“বোম্বাইয়ের বাজারি ছবিতে এক ধরনের গতির একটা স্পষ্ট চেহারা পাওয়া যায় তার অ্যাকশনের দৃশ্যে… দর্শকের মধ্যে স্নায়বিক উত্তেজনা সঞ্চার করতে এই ধরনের অ্যাকশন দৃশ্যের একটা বড় ভূমিকা আছে”।

হিন্দি ফিল্মের জগত সম্পর্কে সত্যজিতের বিরক্তিই বেরিয়ে পড়ে প্রদোষ মিত্রের মুখ দিয়ে। ‘কৈলাসে কেলেঙ্কারি ‘-তে কৈলাস মন্দিরে হিন্দি ছবি ‘ক্রোড়পতি’র ক্লাইম্যাক্সের শুটিং হতে দেখে ফেলুদার সখেদ মন্তব্য –“সেরেছে — এরা আর জায়গা পেল না ? শেষটায় কৈলাসের শ্রাদ্ধ করতে এসেছে ?” আর ‘গোরস্থানে সাবধান !’-এ লালমোহনবাবুর সদ্য-কেনা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির হর্ন শোনার পর ফেলুদার মন্তব্য — ” আপনার উপর হিন্দি ফিল্মের প্রভাব এতটা ঝটিতি পড়বে সেটা ভাবতে পারিনি। আর রংটাও ইকুয়্যালি পীড়াদায়ক। মাদ্রাজি ফিল্ম-মার্কা।”

‘রঙীন ছবি’ নামের এক প্রবন্ধে সত্যজিৎ লেখেন– “অবিশ্যি এই রঙেরই অমিত প্রয়োগে যে কী বিভীষিকার সৃষ্টি করতে পারে আজকের যে কোনো হিন্দি ছবিতেই তার প্রমাণ মিলবে। হিন্দি ছবিতে রঙের ব্যবহার গ্ল্যামারের উদ্দেশ্যে। বিষয়বস্তুর দৈন্য গোপন করার জন্যই এই বহুবর্ণ মোড়কের প্রয়োজন।”

শুধু গাড়িতে নয়, হিন্দি ফিল্মের প্রভাব জটায়ুর লেখাতেও পড়েছে। আর তার জন্য দায়ী স্বয়ং সত্যজিৎ!

এহেন সত্যজিৎকেই কিন্তু আবার ‘শোলে’ নিয়ে দরাজ প্রশংসা করতে শোনা যায়। বলেন, ‘অনেকদিন বাদে একটা অন্যরকম কমার্শিয়াল হিন্দি ছবি দেখলাম। টেকনিক্যাল ব্যাপারে হলিউডের কথা মনে করিয়ে দেয়!’

লেখা: নির্মাল্য কুমার ঘোষ
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল