বিপ্লবীদের কাছে টিফিন বক্সে চিঠি পাচার করতেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 4, 2021 5:58 pm|    Updated: March 7, 2021 12:42 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 4, 2021 5:58 pm Updated: March 7, 2021 12:42 am

ব্রিটিশ-বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ায় পুলিশের তাড়া খেয়ে ঢাকা থেকে চলে এসেছিলেন কলকাতায়। কলকাতায় এসেও স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তাঁর নাম। প্রখ্যাত বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তর গোপন চিঠি লুকিয়ে গুপ্ত-আস্তানায় পৌঁছে দিয়েছেন। এক অন্য ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়-কে মনে করালেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা চরিত্রের ইতিহাসে এক বিরল অভিনেতা: সে-কথা সকলেই মানেন। কিন্তু তাঁর আপাতরসিক ও বাঙ্ময় অভিনয়-ব্যক্তিত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সুঠাম জীবনদর্শনের কথা আজকাল প্রায় চর্চিত হয় না। ঢাকা রেডিওয় কবিতা আবৃত্তি করার মধ্যে দিয়ে ভানুবাবু শুরু করেছিলেন তাঁর দীর্ঘ পথচলা। ‘স্ট্যান্ড আপ কমেডি’ বলতে আমরা যা বুঝি, তিনের দশকের শেষার্ধ থেকে তাই-ই ভানুবাবুকে ‘লাইমলাইট’-এ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাঁর ছেলেবেলা থেকে বেড়ে ওঠার পরিবেশ এই উজ্জ্বল মননের গঠনে যে-ভূমিকা পালন করেছিল, সেটা সত্যিই ব্যতিক্রমী এবং আজ তা আমাদের ‘উপজীব্য বিষয়’ হতে পারে।

ভানুবাবুর বাবা জীতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০০ সালের শুরুতেই ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্রর ‘প্রাইভেট টিউটর’ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে যখন নবাবপ্রদত্ত চাকরি নিয়ে জীতেন্দ্রনাথ ঢাকায় ফিরেছিলেন, সেখানে তৎকালীন বিদ্বজ্জন সমাজে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষাক্ষেত্রে উচ্চারিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। অন্যদিকে, মা সুনীতি বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সম্পর্কে সরোজিনী নাইডু-র বোন। তদানীন্তন সময়ে কলকাতায় ‘ব্রাহ্ম গার্লস’ স্কুল থেকে যে-ক’জন মহিলা গ্র্যাজুয়েশন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন পুরোভাগে। তাই পরবর্তী সময়ে ‘ঢাকা উইমেন্স এডুকেশন বোর্ড’-এর সদস্য রূপেও তিনি প্রতিষ্ঠালাভ করেন। স্বাভাবিক কারণে ভানুবাবুর ছোটবেলায় পড়াশোনার পরিবেশটা ছিল অনুকূল ও প্রগতিশীল। ঢাকায় ‘পোগোস’ এবং ‘সেন্ট গ্রেগরিস স্কুল’-এ পড়াশোনা সেরে তিনি ‘জগন্নাথ কলেজ’ থেকে আই.এ পাশ করেন এবং ‘ঢাকা উনিভার্সিটি’-তে পড়তে শুরু করেন।

উচ্চ শিক্ষার এই সুযোগ স্বাভাবিক কারণেই ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাধীন রাষ্ট্রে ‘নতজানু নাগরিকত্ব’-র গ্লানি অনুভব করতে শিখিয়েছিল। তাই তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে জড়িয়ে পড়েছিলন সক্রিয় রাজনীতিতে। চারের দশকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ-পুলিশের তাড়া খেয়ে তাঁকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল কলকাতায়, তাঁর বোনের বাড়িতে। কলকাতায় এসে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষান্ত দেননি। বিনয়-বাদল-দীনেশের রাইটার্স অভিযানে জড়িয়ে ছিল তাঁর নাম।
১৯২৮-এ সুভাষচন্দ্র বসু কর্তৃক তৈরি ‘বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স’-এ (ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে)অমর শহিদ দীনেশ গুপ্ত যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে কংগ্রেসের ‘অহিংস’ নীতি থেকে দূরে সরে গিয়ে সশস্ত্র অভ্যুত্থানে আত্মদান করেছিলেন দীনেশ। ভানুর বয়স তখন আটের কাছাকাছি। সেই সময়েই তিনি স্কুল ব্যাগ বা টিফিন বক্সে দীনেশ গুপ্তর গোপন ‘বিপ্লবী চিঠি’ বা ‘চিরকুট’ সরবরাহ করতেন।
তারপর? শুনুন…

লেখা: কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
পাঠ: সঞ্জিতা মুখোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল