শ্যাম বেনেগলের একমাত্র জুড়িদার, বিজ্ঞাপনী ধুনের বেতাজ বাদশা বনরাজ ভাটিয়া চলে গেলেন নিঃশব্দেই

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 10, 2021 8:49 pm|    Updated: May 10, 2021 8:49 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 10, 2021 8:49 pm Updated: May 10, 2021 8:49 pm

সুদীর্ঘ চার দশক ধরে বলিউডে স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী স্থান ধরে রেখেছিলেন বনরাজ। বনরাজ ভাটিয়া। দেশের অন্যতম বিশিষ্ট ও প্রবীণ সুরকার। চার-চারটে দশক ধরে হাতেগোনা ২০-২৫টি সিনেমা ও শতাধিক জিঙ্গল-এ তিনি সুর দিলেও তাঁর প্রগাঢ় সাংগীতিক জ্ঞান, মেধাদীক্ষা, যন্ত্রের উপর অসামান্য দক্ষতা এবং নজরকাড়া মুনশিয়ানায় বলিউডে আলাদা মান ও সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিলেন বনরাজ। একসময় নির্দেশক শ্যাম বেনেগলের সার্থক এবং একমাত্র জুড়িদার ছিলেন বনরাজ। বেনেগলের ছবি মানেই সংগীতে তিনি। ‘অঙ্কুর’, ‘জুনুন’, ‘ভূমিকা’, ‘মাম্মো’, ‘মান্ডি’ অথবা ‘নিশান্ত’-এ তাঁর সুরসংযোজন অসাধারণ। ‘সুরজ কা সাতওয়া ঘোড়া’-র ‘ইয়ে শামে’ গানটি আজও অন্যতম  সেরা রোমান্টিক গান। এখানেই শেষ নয়। ক্লাসিক কমেডি ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ বা গুরুগম্ভীর ছবি ‘তমস’ কিংবা বাইজি সংস্কৃতির শেষ স্বাক্ষর ‘সর্দারি বেগম’– সবগুলোতেই তাঁর সংগীত অবিস্মরণীয়। ‘তমস’ তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কারের স্বীকৃতি। এরপর একে একে তার অসামান্য কীর্তির জন্য পেয়েছেন ‘বিএফজে’ পুরস্কার, ‘সংগীত নাটক অকাদেমী’ ও ‘পদ্মশ্রী’-র মতো অনন্য সম্মান।

১৯২৭-এর ৩১ মে মুম্বইতে জন্মানো বনরাজ ভাটিয়া চলতি মাসের ৭ তারিখ প্রয়াত হলেন। বয়স হয়েছিল ৯৩। গত বছর এক প্রতিবেদনে জানা যায়– অসহায়, একাকী, নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন লন্ডনের ‘রয়্যাল অ্যাকাডেমি অফ মিউজিক’-এর এই গোল্ড মেডেলিস্ট– বলিউডে পা রাখার বহু আগে ছয়ের দশকে যিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা পাঁচ বছর মিউজিক ডিপার্টমেন্টে অধ্যাপনা করেছেন। তারপর প্রতিদিন একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছিলেন বিস্মৃতির অতল অন্তরালে। ছিল হাঁটুর ব্যথা, দুরূহ হৃদরোগ, আংশিক স্মৃতিভ্রংশ, চলাফেরায় সমস্যা-সহ নানা শারীরিক জটিলতা। ক্রমে নিঃস্ব, কপর্দকহীনও হয়ে পড়েন বনরাজ। সম্প্রতি এক স্বাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ব্যাঙ্কের খাতায় একটাকাও জমা নেই তাঁর। বহুদিন হল ভাল করে খাবারও জোটে না। ঘরেতে হাত ধরাধরি করে চলে দারিদ্র, অভাব আর নিঃসঙ্গতা। খিদের জ্বালায় ঘরের জিনিসপত্র পর্যন্ত বেচে দিতে বাধ্য হন। নিজের বলতে শুধুই দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত পরিচারক। মুম্বইয়ের সেই একাকীত্ব-মাখা বাড়িতে শয্যাশায়ী মানুষটি স্বপ্ন বুনছিলেন তাঁর ‘অগ্নিবর্ষা’– বিশ্বের প্রথম ভারতীয়-সুরকার-নির্মিত অপেরা– মঞ্চস্থ হবে তাঁর জীবদ্দশাতেই।

বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল