বাস কন্ডাক্টর থেকে বলিউড অভিনেতা: বদরুদ্দিন থেকে ‘জনি ওয়াকার’-এর জার্নি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 1, 2021 8:05 pm|    Updated: February 1, 2021 8:05 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 1, 2021 8:05 pm Updated: February 1, 2021 8:05 pm

‘মি. অ্যান্ড মিসেস ৫৫’-র ‘জানে কঁহা মেরা জিগর গ্যায়া জি’, ‘সিআইডি’ ফিল্মের ‘ইয়েহ হ্যায় মুম্বই মেরি জান’ অথবা ‘প্যায়সা’ সিনেমার ‘সর যো তেরা চকরায়ে’ তিনটে গানেরই কমন ফ্যাক্টর কী বলুন তো! ঠিক ধরেছেন, মহাম্মদ রফি আর অভিনেতা হিসাবে যিনি লিপ দিয়েছেন তিনি, বদরুদ্দিন জামালউদ্দিন কাজি। এই রে, ঠিক চিনতে পারলেন না তো! নিশ্চয়ই ভাবছেন, এই নামের আবার কোন অভিনেতা এসব কালজয়ী গানে ছিলেন! আদতে তো ছিলেন জনি ওয়াকার।তাঁর স্ক্রিন-নেম জনি হলেও, পিতৃদত্ত নাম ছিল বদরুদ্দিন।
স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতের ইন্দোর শহরে জন্ম। বাবা ছিলেন মিল মজুর। দশ ভাইবোনের মধ্যে বদরুদ্দিন ছিলেন তৃতীয়। কাজ খুঁজতে সপরিবার ইন্দোর থেকে বোম্বে চলে আসেন। সেই মুহূর্তে পরিবারের অন্ন সংস্থানের একমাত্র আশা ও উৎস ছিলেন তিনিই। অতএব নানা ধরনের পেশায় নিজেকে যুক্ত করেন। বরফওয়ালা, ফল-সবজি বিক্রেতা, মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যের ঠেলাওয়ালা, আরও কত কী। শেষমেশ বোম্বে ইলেকট্রিক সাপ্লাই অ্যান্ড কর্পোরেশন, সংক্ষেপে ‘বেস্ট’-এর একটি বাসে কন্ডাক্টরের কাজ পান বদরুদ্দিন। হাড়ভাঙা খাটনি আর অনিশ্চিত রোজগারই কালক্রমে  এনে দিল বাঁধা মাস মাইনে। বাসের টিকিট কাটার সময়, যাত্রাপথে অথবা ডিপোতে ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে নানা কথাবার্তায়, অঙ্গভঙ্গি এবং অভিনয়ে তিনি মানুষদের মনোরঞ্জন করতেন। অনেকেই তাঁর এই প্রতিভা দেখে ফিল্ম লাইনে চেষ্টা করার উপদেশ দেন। নিজের সুপ্ত বাসনা ছিল অভিনয়ের। কিন্তু পরিবারের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো তুলে দেওয়ার তাগিদে শখকে প্রশ্রয় দেননি কোনদিনও। গুরুজ্ঞান করতেন, সেই সময়ের বিখ্যাত কমিক অভিনেতা নূর মোহাম্মদ চার্লি-কে। তবে প্রথাগত অভিনয়শিক্ষা।
তাঁর নিজের কথায়, ‘সেই সময়ে অভিনেতা হতে গেলে ভালো দেখতে হওয়া ছিল আবশ্যক শর্ত। তার সঙ্গে  ফিল্ম লাইনে চেনাশোনা বাড়তি সুবিধে যোগাত। আমার দুইই ছিল না। বাড়ির আয়না আমাকে ব্যঙ্গ করত। যেসব দিনে ছুটি থাকত, অভিনয়ের তাগিদে নানা ফিল্ম স্টুডিয়োয় হন্যে হয়ে ঘুরতাম। কখনওসখনও ছোটখাটো ‘এক্সট্রা’ গোছের রোল পেতাম। কিন্তু যা পারিশ্রমিক পেতাম, তা কহতব্য নয়। এমনও অনেকবার হয়েছে, বাড়ি থেকে ফিল্ম স্টুডিয়োয় যাতায়াতের বাসের টিকিট কেনার টাকা আমার কাছে নেই। রাস্তায় অপেক্ষা করতাম যদি কোনও চেনা কন্ডাক্টর পড়ে যায় সেই আশায়। এইভাবে কত স্টুডিয়োয় গিয়েছি আর ফিরেছি। সেইসব মানুষদের নাম আমার মনে আছে। কাউকে ভুলিনি।’
তারপর? শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস ও সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল