নগ্ন বর্ণবৈষম্য-আস্ফালনের সামাজিক চিত্র, তামিল ছবি ‘আসুরান’ নিয়ে কিছু কথা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 26, 2021 9:38 pm|    Updated: March 26, 2021 9:40 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 26, 2021 9:38 pm Updated: March 26, 2021 9:40 pm

আসুরান’ ছবিটি শেষমেশ নিয়মমাফিক শোষিতের জয় বা শোষণ ছেড়ে মুক্তির বার্তা দিলেও অস্বস্তিকর বাস্তবকে অস্বীকার করে উঠতে পারে না কিছুতেই! যেমন, ছবির অন্যতম প্রধান একটা গল্প তৈরি বাস্তবের একটি গণহত্যাকে ঘিরে– ‘কিলভেনমানি ম্যাসাকার’ নামে ঘটনাটি ইতিহাসে পরিচিত।

১৯৬৮-তে দেশের নানা প্রান্তে যখন অতিবাম আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে, তখনই তামিলনাড়ুর এক গ্রামে এই নারকীয় হত্যালীলা চলে। গ্রামের বেশ কিছু দলিত কৃষক-শ্রমজীবী মানুষ বামপন্থী রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হন। সংগঠিত হয়ে জমিদারের বিরূদ্ধে আন্দোলন করতে থাকেন। তাঁদের দাবি ছিল অতি সামান্য– দৈনিক মজুরির বৃদ্ধি। তাঁদের মিটিং-মিছিলে লালপতাকা উড়তে দেখে জমিদারেরা প্রথমে ভ্রু কুঁচকালেও পরে নিজেরা এক সংগঠন তৈরি করে পুলিশ প্রশাসনকে হাত করার চেষ্টা করেন। তারপর শুরু হয় আন্দোলন বন্ধ করার পরিকল্পনা। ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৮-র রাতে একটা গোটা পাড়া, যেখানে সেই দলিত কৃষকেরা থাকতেন, তা ঘিরে ফেলে গুলি চালাতে শুরু করে জমিদারের পোষা প্রায় ২০০ ভাড়াটে গুন্ডা। পরিকল্পনামাফিক বন্ধ করে দেওয়া হয় পালানোর সমস্ত রাস্তা। নিরুপায় হয়ে আট ফুট বাই নয় ফুটের এক কুঁড়েঘরে আশ্রয় নেন বেঁচে থাকা গ্রামবাসীরা, যা ঘেরাও করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শুধু এই করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; শুকনো কাঠ, খড় দিয়ে রীতিমতো আগুন উসকে দেয়। দীর্ঘক্ষণ সেই কুঁড়েঘর যাতে জ্বলতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হয়। নিজেদের মৃত্যু নিশ্চিত বুঝে মায়েরা তাঁদের সন্তানদের ছুড়ে দিতে চান বাইরে। সেই বাচ্চাদের আবার আগুনের দিকে ঠেলে দেয় আক্রমণকারীরা। ছ’জন পুরুষ কোনওমতে আগুন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের বর্শায় গেঁথে হত্যা করে আবার আগুনে ঠেলে দেওয়া হয়।

শুনতে সিনেমার মতো লাগলেও ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামের বাস্তব আসলে যে কোনও নিষ্ঠুর ছবির থেকেও কয়েকশো গুণ ভয়ংকর। আম্বেদকর বলতেন, ‘অস্পৃশ্যদের কাছে হিন্দুধর্ম বাস্তবিক অর্থেই আতঙ্কের একটি ঘর’, যেখানে চারটি বর্ণে ভাগ করে নিম্নবর্ণের মানুষদের প্রতি প্রতিদিন, প্রতি মূহুর্তে নারকীয় অত্যাচার চলে। আর সব খবর ‘মার্কেটেবল’ না-হওয়ায় অধিকাংশই থেকে যায় আমাদের জানাশোনার পরিধির অগোচরে। অরুন্ধতী যেমন তাঁর ভূমিকায় শোনান সুরেখা ভুটমাঙ্গের এহেন আরেক ম্যাসাকারের কাহিনি। বেশিদিন না, এই ২০০৬-এর ঘটনা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘটে চলে, চলছে এই অত্যাচার। ১৯৬৮  আর ২০০৬-এর গণহত্যার পৈশাচিক ভয়াবহতার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য কিন্তু নেই।

‘আসুরান’-এও এই প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে তির্যকভাবে।

বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস, সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল