নাক-কান মুলে তুলসীকে জহর বললেন, ‘তোর সঙ্গে কোনও দিন টক্কর দিতে যাব না!’

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 6, 2021 7:49 pm|    Updated: March 7, 2021 12:45 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 6, 2021 7:49 pm Updated: March 7, 2021 12:45 am

তুলসী চক্রবর্তীজহর গাঙ্গুলি তখন দু’জনেই ‘রঙমহল’ থিয়েটারে। ‘মানময়ী গার্লস স্কুল’ নাটকে অভিনয় হচ্ছে। জহর গাঙ্গুলি হচ্ছেন নাটকের নায়ক মানস মুখার্জি। নায়িকা নীহারিকা– শান্তি গুপ্তা। তুলসী চক্রবর্তী গ্রামের জমিদার দামোদর। নাটকে মানস ও নীহারিকাকে চাকরির খাতিরে স্বামী-স্ত্রী সেজে থাকতে হয়। এদিকে কথায়-কথায় তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি, তর্কবিতর্ক হয়। এরকম একটা দৃশ্যে, তুমুল কথা কাটাকাটি হচ্ছে, হঠাৎই জমিদারবাবুর প্রবেশ। এঁর সামনে সুখী দম্পতি হিসেবে নিজেদের দেখাতে হবে। তাই নাটকের ডায়লগ অনুযায়ী, নীহারিকা গদগদ ভঙ্গিতে স্বামী মানসকে জিগ্যেস করল, ‘হ্যাঁ গা, আজ বেগুন কত করে সের নিয়েছে গো?’ মূল নাটকে মানসের ডায়ালগ ছিল, ‘বেগুনের সের চার পয়সা।’ উত্তরে জমিদারের ডায়ালগ, ‘সে কী, বেগুনের দাম এক পয়সা সের, সেটা তোমার থেকে চার পয়সা নিয়েছে। আমারই বসানো বাজারে এত বড় জোচ্চুরি। চলো দেখি, সেই বেগুনওলার কাছে।’

কিন্তু জহর গাঙ্গুলি নাটকের বাইরে চলে গেলেন। তখন কলকাতায় বেগুনের দর চোদ্দো আনা, তাই নিয়ে কাগজে লেখালিখিও চলছিল। মানস ওরফে জহরবাবু বললেন, ‘বেগুনের সের চোদ্দো আনা।’ উদ্দেশ্য, জনতার হাততালি আর তুলসীবাবুকে প্যাঁচে ফেলা।

স্ক্রিপ্ট-বহির্ভূত ডায়ালগ শুনে, যে কোনও অভিনেতারই এক্ষেত্রে থতমত খেয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু তুলসীবাবু একটুও দমলেন না। তিনি পাল্টা জবাব দিলেন, ‘বেগুনের দাম চোদ্দো পয়সা, এত বড় জোচ্চুরি? চলো দেখি, সেই বেগুনওলার কাছে।’

তারপর জহরবাবুকে কোনও কথা বলার সুযোগ না-দিয়ে, হাত ধরে টানতে-টানতে স্টেজের বাইরে নিয়ে গেলেন। এই টেনে নিয়ে যাওয়াটা মূল নাটকে ছিলই না!

জহর গাঙ্গুলীর কথা অনুযায়ী, সেদিন তিনি তুলসী চক্রবর্তীর সামনে নাক-কান মলা খেয়ে বলেছিলেন, ‘আর কোনও দিন তোর সঙ্গে টক্কর দিতে যাব না।’

তুলসী চক্রবর্তী নিজের থেকে কথনও এক্সট্রা ডায়ালগ দিতেন না। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘নাটকের পার্টের খাতায় যা লেখা থাক, স্টেজে দাঁড়িয়ে সেগুলোই গড়গড় করে বলে যাই। প্রম্পটিংয়ের ধার ধরি না।  কেউ এক্সটেম্পোরে দিলে দিলে আত্নরক্ষার জন্য দু-একটা বাড়তি কথা বলি। নইলে নিজের ক্যারেক্টার নিয়ে ভাবনা-চিন্তার কথা আমার মাথায় আসে না। আর আসবেই বা কেন? আমি যে সব রোল পাই সেগুলোকে ক্যারেক্টার বললে তো ক্যারেক্টারের অপমান করা হয়।’
তারপর! শুনুন…

লেখা: বিকাশ মুখোপাধ্যায়
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক, সোহিনী সেন
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল