মুক্তি না পাওয়ার গেরোয় তিন দশক আটকে ছিল গুলজারের লেখা এই গজল, অবশেষে ‘হিট’ হয় জগজিৎ-এর কণ্ঠে এবং সুরে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 10, 2021 1:33 pm|    Updated: March 11, 2021 12:14 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 10, 2021 1:33 pm Updated: March 11, 2021 12:14 am

সময়কাল, ১৯৬০। এই গানের প্রথম হকদার ছিলেন সলিল চৌধুরী। তাঁর ছোটভাই বাবু চৌধুরী একটি ফিল্ম পরিচালনা করছিলেন। সেই ছবির সুরারোপের ভার ছিল সলিল চৌধুরীর ওপর। ফিল্মের নাম ‘মিটটি কি দেবতা’। সলিল চৌধুরী গুলজারকে একটা গজল লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সলিলদা বলেছেন, বিমল রায়ের সহকারী হওয়ার সময় থেকে তাঁর সঙ্গে গুলজারের আলাপ। অতএব ফেরানোর কোনও প্রশ্ন বা দ্বিমত নেই। গুলজার লিখলেন, ‘শাম সে আঁখ মে কুছ নমি সি হ্যায়’। সলিল চৌধুরী গানের কথা পেয়ে সুর করতে বসে গুলজারকে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন হয় যদি কয়েকটা শব্দ ধুঁয়োর মতো ফিরে-ফিরে আসে। মানে ধরুন, ‘নমি নমি সি হ্যায়, কমি কমি সি হ্যায়’।

গুলজারও দিব্যি সেই প্রস্তাবে রাজি। ফিল্মের জন্য এই গান রেকর্ডও হয়েছিল। গেয়েছিলেন মুকেশ। বর্তমানের বহুশ্রুত গানটির সঙ্গে শুরুর এই গানের মুখড়া এক থাকলেও, অন্তরার অংশটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ফিল্মটি রিলিজ করেনি।

গুলজার সাহাবের সহকারী মিরাজের প্রথম ছবি ‘পলকো কি ছাঁও মে’-র পর তাঁর দ্বিতীয় ছবিও তিনি শুরু করেছিলেন। তিনিও গুলজার সাহাবের লেখা গানটি  পড়েছিলেন। এতদিনের সহকারী, তায় আবার গুরুর লেখা গান পসন্দ হয়েছে, তিনিই বা ছাড়বেন কেন! জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আপনার অনুমতি পেলে আমার আগামী ফিল্মে এই গানটা ব্যবহার করি? আগের ছবি তো রিলিজই হয়নি অতএব দোষের কিছু নেই।’ গুলজারও সানন্দে রাজি ।

এই ছবির সংগীত নির্দেশক ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত-প্যায়ারেলাল জুটি। সময়টা সাতের দশকের শেষের দিক হবে। সংগীত পরিচালক জুটি আবারও সেই আগের বায়না ধরলেন। তাঁরাও বললেন, ‘নমি’ আর ‘কমি’ এই শব্দ দু’টির পুনরাবৃত্তি হোক। হোক ‘নমি নমি-কমি কমি’। একেবারে অবিকল ঠিক আগেরবারের মতোই। গুলজার সাহাবের আগেরবারের ঘটনা দিব্যি মনে ছিল। তিনি লক্ষ্মীকান্তকে জিজ্ঞেস করে বসলেন, এরকম পুনরাবৃত্তির বিশেষ কোনও কারণ আছে কি না। কারণ আগেরবার সলিল চৌধুরীও একই জিনিস করেছিলেন। এই প্রশ্নের উত্তরে লক্ষ্মীকান্ত বললেন, “দু’বার করলে গুণতি আর তালে বেশ খানিক তফাত আসে, আর দু’বার শব্দ দুটো ফিরলে যে রিদম প্যাটার্ন তৈরি হয় তাতে বেশি ভাল শুনতে লাগবে।”

কিন্তু আবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কোনও অজ্ঞাত কারণে, এই গান সমেত মিরাজের ফিল্মটিও শেলফ্ বন্দি রয়ে গেলো। মুক্তি পেল না।

শুনুন পুরো গল্পটি…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শুভাশিস চক্রবর্তী

পোল