আভিজাত্য-বনেদিয়ানার শেষ কথা ছবি বিশ্বাস বা বসন্ত চৌধুরীরও ‘প্রভু’ ছিলেন ইনি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 6, 2021 7:36 pm|    Updated: May 7, 2021 6:16 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 6, 2021 7:36 pm Updated: May 7, 2021 6:16 pm

ছয়ের দশকের গোড়ার দিকের কথা। ঘটনাটা উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহরের। সে বছর সেখানে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। রাজ্যবাসীর মতে, সেরকম হাড় কাঁপানো ঠান্ডা নাকি গত ১০-১২ বছরে পড়েনি। সেই ঠান্ডায় আগ্রা শহরের এমপ্রেস হোটেলের একটি ঘরে রয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন বিখ্যাত সাংবাদিক রবি বসু, স্বনামধন্য ক্যামেরাম্যান অজয় মিত্র, শব্দগ্রাহক অতুল চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলা ছায়াছবির সেই বিখ্যাত কমেডিয়ান। এই চারজনের আগ্রা আসার কারণ হল শুটিং; অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ‘হারানো প্রেম’ ছবির শুটিং।

হোটেলের ঘরে জ্বলছে ফায়ার প্লেসের আগুন। কম্বল মুড়ি দিয়ে চলছে গল্প। সারাদিনের শুটিংশেষে এভাবেই সময় কাটছে। এরপর রাতের ডিনার। জমাটি ঠান্ডায় ঘুমও হচ্ছে দারুণ। সকালে উঠে আবার নতুন দিনের রোজনামচা। এভাবেই চলছে। কিন্তু ঘটনাটা ঘটছে প্রত্যেকদিন সকালেই। সকাল সাড়ে ছ’টায় ব্রেকফাস্টের ডাক পড়ে, রোজ। যে মুহূর্তে হোটেলের বেয়ারা এসে জানায় যে ব্রেকফাস্ট রেডি, তখনই ওই কমেডিয়ান অভিনেতা প্রায় দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। হয়তো তার আগে কোনও সিরিয়াস আলোচনা বা মজার গল্প চলছে, কিন্তু বেয়ারা এসে দাঁড়ানো মাত্রই কমেডিয়ানের দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা একদম নিয়মিত ব্যাপার। প্রথমে বিষয়টিতে কারও নজর পড়েনি। কিন্তু সেদিন যখন উনি বেয়ারাকে প্রায় ধাক্কা মেরে বেরিয়ে গেলেন, তখন সকলের চোখে লাগল। কিছুক্ষণ পর উনি ঘরে ফিরে আসতেই বাকিরা চেপে ধরলেন– ‘ব্যাপারটা কী মশাই? রোজ এরকম দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কেন?’ কিন্তু, ভদ্রলোক কিছুতেই ভাঙলেন না। ‘ও কিছু না’ বলে কাটিয়ে দিলেন। বাকি তিনজনের কাছে বিষয়টা খুবই সন্দেহজনক হয়ে ঠেকল। স্বাভাবিক। তাঁরা জিনিসটা একটু খতিয়ে দেখবেন বলে ঠিক করলেন।

পরেরদিন সকাল সাড়ে ছ’টা। যথারীতি বেয়ারা এসে খবর দিল ব্রেকফাস্ট রেডি। আর তখনই ঘটল রোজকার পুনরাবৃত্তি। কমেডিয়ান ভদ্রলোক ছিটকে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। আজ আর ছাড়াছাড়ি নেই। সঙ্গে সঙ্গে ওঁর পিছু ধাওয়া করলেন একজন। ঘর থেকে বেরিয়েই বারান্দা। বারান্দা থেকে হোটেলের উঠোন দেখা যায়। দেখা গেল উনি ওই উঠনের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কীসব বলছেন। একটু এগিয়ে শোনা গেল অস্ফুট স্বরে বলছেন– ‘১২, ১৩, ১৪, ১৫…’। ১৭ অবধি গুনেই হাসিমুখে পিছনে ঘরের দিকে পা বাড়ালেন।
তারপর? শুনে নিন…

লেখা: অনুরাগ মিত্র
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল