লেখক এবং পরিচালক, দুই স্রষ্টাই কাজে হাত দিয়েছিলেন তুমুল অনিচ্ছাসত্ত্বে, সুবর্ণ জয়ন্তীতে ফিরে দেখা তিন অস্কারজয়ী ‘দ্য গডফাদার’কে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 16, 2021 1:00 pm|    Updated: March 16, 2021 1:00 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 16, 2021 1:00 pm Updated: March 16, 2021 1:00 pm

বিখ্যাত সংলাপ, “I’m gonna make him an offer he can’t refuse!” একাধিকবার ‘দ্য গডফাদার’ ছবিতে ফিরে আসে, প্রথমে ভিটো, তারপর তাঁর ছোট ছেলে মাইকেলের জবানিতে। নির্দিষ্ট এই ফিল্মটির বাইরেও এই সংলাপের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে উঠেছিল যে আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউট একে ‘১০০ বছরের সর্বকালের সেরা সংলাপ’ তালিকায় দু’নম্বরে রাখে।

অথচ মজার ব্যাপার, কালজয়ী উপন্যাস ও ছবি– লেখক এবং পরিচালক, দুই স্রষ্টাই তাঁদের কাজে হাত দিয়েছিলেন নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বে, টাকার জন্য। এ উপন্যাস লেখার আগে মারিও পুজোর আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। বন্ধুবান্ধবদের থেকে ধারদেনা করে কোনওমতে দিন চলছিল। দুটো উপন্যাস তিনি লিখেছিলেন, ভাল রিভিউ পেলেও তা খুব একটা টাকাপয়সা করতে পারেনি। স্থানীয় কিছু ম্যাগাজিনে মাসে তিনটে করে গল্প লিখে, আরও টুকটাক লেখার কাজ করে তিনি কোনওমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। আর ঠিক এই সময়েই এক প্রকাশক ওঁকে টাকা ইনকাম করার জন্য মাফিয়াদের নিয়ে লেখার পরামর্শ দেন। দশ পাতার এক পাণ্ডুলিপি বানিয়ে তিনি বেশ কিছু প্রকাশকের দোরে দোরে ঘোরেন। শেষে পাঁচ হাজার ডলার অ্যাডভান্স নিয়ে নাকেমুখে গুঁজে লিখতে শুরু করেন কোনওমতে। বছর তিনেক পর সে উপন্যাস শেষ হলে যে প্রায় চার মিলিয়ন ডলারে পেপারব্যাক সংস্করণের কনট্র্যাক্ট আসবে, তিনি তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি!

অন্যদিকে প্রায় একই দশা ছিল কপোলারও। বন্ধু জর্জ লুকাসের সঙ্গে তিনি তখন আমেরিকান ‘জুওট্রোপ’ নামের ইনডিপেনড্যান্ট কোম্পানি খুলে লো বাজেটের ছবি বানানোর চেষ্টা করছেন। দু’জনেরই ধারদেনায় ল্যাজেগোবরে হওয়ার দশা। এমন সময় কাগজে মারিও পুজোর ‘ গডফাদার’ উপন্যাসের বিজ্ঞাপন দেখে কপোলা ভেবেছিলেন, এ বোধহয় ম্যাকিয়াভেলির মতো ক্ষমতা নিয়ে সন্দর্ভ টাইপ বিশাল কোনও আভা-গার্দ উপন্যাস হবে, যেরকম উনি নিজে পছন্দ করতেন। কিন্তু ‘প্যারামাউন্ট’ ছবি করার অফার করতে প্রথম গল্পটা পড়ার পরেই তাঁর প্রথমবারের প্রতিক্রিয়া খুবই হতাশাজনক হয়। নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি ছবি বানানোর অফার রিফিউজ করতে চেয়েছিলাম। গল্পটা এতটাই সস্তা লেগেছিল যে আমার রুচিসম্মত বলে মনে হয়নি।’ কিন্তু ওই যে, স্টুডিওর এমন অফার যে রিফিউজ করতে পারবেন না! কপোলা পরে বলেছিলেন, ‘ভিখারিদের আবার চয়েস থাকে নাকি!’ কপোলা ছবি করতে রাজি হচ্ছেন না শুনে বন্ধু জর্জ লুকাচ এসে ওঁদের কোম্পানির দেনার কথা বলেন, বলেন এবারে টাকা ফেরত না দিলে পুলিশ এসে গলায় দড়ি দিয়ে নিয়ে যাবে! উপায়ন্তর না দেখে কাজ শুরু করা এই দুই স্রষ্টাই অবশ্য জানতেন না, ইতিহাস তাঁদের নাম মাথায় তুলে রাখবে। বস্তুত অনেকেই মনে করেন, গ্যাংস্টার ছবির দুটো ভিন্ন যুগ– এক ‘গডফাদার’-এর আগে, আরেকটা পরে।

বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল