ওয়েব সিরিজ রিভিউ: ফেলুদা ফেরত

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 1, 2021 8:27 pm|    Updated: January 25, 2021 2:59 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: January 1, 2021 8:27 pm Updated: January 25, 2021 2:59 pm

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে এবার ওয়েব সিরিজে ফেলুদা। নাম: ‘ফেলুদা ফেরত‘। নামচরিত্রে টোটা রায়চৌধুরী
স্মার্ট, ঝকঝকে এই ফেলুদাকে দেখা যাচ্ছে  আড্ডাটাইমস-এ। এ একপ্রকার ফেলুদার প্রত্যাবর্তন যেন। ২০১৬-তে সন্দীপ রায়ের হাত ধরে শেষবার বড়পর্দায় ফেলুদাকে দেখেছিলাম আমরা। বছর তিনেক আগে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, এই আড্ডাটাইমসয়েই, বাংলাদেশের প্রযোজনা সংস্থার তরফে বেশ কিছু ফেলুদার গল্প নিয়ে ছবি করেছেন। ধারাবাহিকভাবে। তারপর ২০২০-র শেষ আবার নতুন মোড়কে ফেরত আসা ফেলু মিত্তিরের।
 সৃজিত মুখোপাধ্যায় তাঁর ফেলুদাকে নির্মাণ করেছেন আদ্যন্ত লেখকের কল্পনার প্রতিফলনেই। এতটাই, যে সাহস করে বলা যায়, সত্যজিৎ রায় স্বয়ং যে-ফেলুদাকে নির্বাচন করেছিলেন, সেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চেয়েও টোটা রায়চৌধুরী যেন ‘অ্যাপ্ট’। মিলে যান হুবহু বইয়ের পাতার ইলাসট্রেশনের সঙ্গে। সিরিজটির ফার্স্ট লুক প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা লক্ষ করেছিলাম সত্যজিতের ইলাসট্রেশনের সাথে এই আশ্চর্য সাদৃশ্যের বিষয়টি। টোটার হাতের ভঙ্গি, তাকানো, শারীরিক বিভঙ্গ – আশ্চর্যরকমভাবেই যেন মানিকবাবুর আঁকার জীবন্ত অবয়ব।
তবে এখানে কতগুলো কথা বলে রাখা দরকার। বইয়ের পাতা থেকে যখন অন্য একটি মাধ্যমে কোনও গল্প রূপান্তরিত হয়, তখন সেই মাধ্যমের দাবি অনুযায়ী বেশ কিছু জরুরি বদল করতে হয়- না হলে জিনিসটা প্রায় কেজো অনুবাদের মতো থেকে যায়। এ বিষয়ে হয়তো সৃজিত এবং বাকিদের খানিক যত্নবান হওয়ার দরকার ছিল। কারণ ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’ হুবহু দেখতেই কী ২০২০’র বাঙালি দর্শক ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখছেন?
সাতের দশকের পিরিয়ড পিস নির্মাণে এ সিরিজের মুনশিয়ানা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। যত্ন নিয়ে, ডিটেলিংয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় মহেশ চৌধুরীর বাড়ি এবং সেই সংক্রান্ত আভিজাত্যের খুঁটিনাটি। আবহসংগীত কোথাও বাড়াবাড়ি হলেও, মোটের উপর মন্দ নয়; বিশেষ করে ফেলুদার থিম মিউজিক ভেঙে নতুন ভাবে সাজানোর প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট প্রশংশনীয়।
অনির্বাণ চক্রবর্তী অত্যন্ত সুদক্ষ অভিনেতা হলেও তাঁর অভিনয়ের যে-বিষয়টি মেনে নিতে সবচেয়ে অসুবিধে হয় তা হল: কমেডি এবং ভাঁড়ামোর মধ্যে পার্থক্য না করতে পারা। মনে রাখা দরকার, সত্যজিতের কাছে জটায়ু চরিত্রটির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি ছিল; সন্তোষ দত্তর মৃত্যুর পর যে কারণে আর ফেলুদাকে পর্দায় ফিরিয়ে আনেননি তিনি। সত্যজিৎ জটায়ুকে নিয়ে ঠাট্টা করেন, কিন্তু সে ঠাট্টার ঢং কখনওই স্নেহমিশ্রিত সম্মানের পরিধির বাইরে যায় না।  সৌমিত্র অভিনীত ফেলুদা যখন সন্তোষ দত্ত অভিনীত লালমোহনবাবুকে নিয়ে ঠাট্টা করে, তখনকার জন্যও এ কথা সত্যি। ‘ফেলুদা ফেরত’-এ প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর অত্যন্ত স্মার্ট ফেলুদা অত্যন্ত ক্যাবলা একজন জটায়ুকে ঠাট্টা করে চলেছেন। ঠাট্টার এই জায়গাগুলো রীতিমতো অসম্মানজনক লাগতে শুরু করে একটা সময়ের পর। স্নেহমিশ্রিত সম্মানের পরিসরটি যেন অতিক্রম করে যায়। জটায়ু নিজেও অত্যন্ত সুদক্ষ একটি কমিক চরিত্রের বদলে নিজেকে যেন ভাঁড় বানিয়ে ফেলেন। এ বিষয়টি অনির্বাণ-সৃজিতকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতেই হবে।

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক

পোল