সিনে রিভিউ: দ্য হোয়াইট টাইগার

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: January 27, 2021 9:16 pm|    Updated: January 28, 2021 9:46 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: January 27, 2021 9:16 pm Updated: January 28, 2021 9:46 pm

অরবিন্দ আদিগার উপন্যাস ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ থেকে ইরানীয়–মার্কিন চলচ্চিত্রকার রাহিন বাহরানি নির্মাণ করেছেন একই নামের চলচ্চিত্র। সামান্য কিছুদিন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পর এই মুহূর্তে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘নেটফ্লিক্স’–এ দেখা যাচ্ছে ছবিটি। ভারত এবং আমেরিকার কিছু প্রযোজনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই ছবি, যেগুলির মধ্যে প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার সংস্থা ‘পার্পল পেবল পিকচার্স’ও অন্যতম। তাই এই ছবিকে সরাসরি ভারতীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হলিউডের ছবির খাঁচায় ফেলে দেওয়া যায় না– শুধুমাত্র নির্মাতাদের দেশীয় বৈচিত্রের জন্যই নয়, বরং ছবিটিরই ট্রিটমেন্ট এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। এমনিতে ভারতের দারিদ্র নিয়ে ছবি হলেই সেখানে প্রচ্ছন্নভাবে ‘দেশদ্রোহিতা’র অভিযোগ ওঠে; ‘পথের পাঁচালী’ নিয়ে যে অভিযোগ করেছিলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী নার্গিস। ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’–এর বেলাতেও ‘পভার্টি পর্ন’, অর্থাৎ, বিদেশের দর্শকের কাছে ভারতের দারিদ্র‌্ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তো সাদায়–কালোয় সত্য–মিথ্যা হয় না। তবে এইটুকু বলাই যায়, এ জাতীয় ছবির ধারার অন্যতম প্রধাণ মুখ যে–‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’, তার নানাবিধ ক্লিশে থেকে এ ছবি অনেকখানিই মুক্ত। মূলত ছবির ন্যারেশনে সারাক্ষণ একটি ঠাট্টামিশ্রিত বিদ্রুপের সুর ধরে রাখার জন্য। এ ছবিতে তাই কেউ হিরো নয়, কেউ ভিলেন নয়, কেউ ঠিক নয়, কেউ ভুল নয়, কেউ ভাল নয়, কেউ খারাপ নয়। ‘There is nothing good or bad. Only thinking makes it so’; ‘হ্যামলেট’ নাটকের এই সংলাপটির মতো।

লক্ষণগড় নামে ভারতের হতদরিত্র একটি গ্রাম। আর সেই গ্রামের নীচুজাতের এক পরিবারের সন্ত্বান বলরাম হাওলাই। অতি কম বয়সেই পড়াশোনায় আশ্চর্য প্রতিভার জন্য স্কুল ইন্সপেক্টর বলরামকে বলেছিল: হোয়াইট টাইগার। সাদা বাঘ। যে–বাঘ এক প্রজন্মে মাত্র একটিই হয়। সাদা বাঘের তুল্য বলরামের জীবন যদিও শুরু হয় অত্যন্ত সাদামাটা ভাবে, কিন্তু অতি দ্রুত নিজের অবস্থা উন্নতির উপায় খুঁজে ফেলে সে। এই অংশে আগেরবারের অস্কারজয়ী ছবি ‘প্যারাসাইট’-এর কথা মনে পড়তে পারে দর্শকের, যেভাবে বলরাম খানিকটা আনাড়িভাবে, খানিকটা ঢপ দিয়ে তাদের গ্রামের জমিদারের ছোট ছেলে, অশোকের গাড়ির ড্রাইভারের কাজ হাতিয়ে নেয়। গল্পের এই অংশ থেকেই বোঝা যায়, বলরামের গল্প আর সর্বজনগ্রাহ্য নৈতিকতার মানদণ্ড দিয়ে বোঝা যাবে না, কারণ ঠিক–বেঠিকের হিসেব গুলিয়ে গিয়েছে অনেক আগেই।

অসহ্য দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে থাকা বলরামের কাছে এই চাকরি প্রায় স্বর্গসুখের সমান। যদিও আরেকজন ড্রাইভার তার পিছনে থাকে প্রায় সারাক্ষণই। অশোক আর তার স্ত্রী পিঙ্কিকে নিয়ে দিল্লি যাওয়ার সুযোগ আদায় করার জন্য বলরাম অন্য ড্রাইভারের লুকিয়ে রাখা ধর্মপরিচয় ফাঁস করে দেয়। সেই হিন্দু জমিদার পরিবারে মুসলমান চাকরের প্রবেশ নিষেধ আর সেই ড্রাইভার মুসলমান হয়েও ধর্ম লুকিয়ে কাজ করছিল পেটের টানে, পরিবার চালানোর জন্য।

শুনুন…

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল