সিনে রিভিউ: ম্যাঙ্ক

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: December 10, 2020 5:58 pm|    Updated: December 10, 2020 6:04 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: December 10, 2020 5:58 pm Updated: December 10, 2020 6:04 pm

সিটিজেন কেন’! উইলিয়াম র‍্যান্ডলফ হার্স্ট! অরসন ওয়েলস! হারমান ম্যাকেনভিচ!

শুরুতেই এইরকম বেশ ‘ওল্ড ফ্যাশনড’ আমেরিকান নামের ধাক্কায় অনেকেই হয়তো চমকে যাচ্ছেন, কারণ এই নামগুলোর বেশীটাই সিনেফিল গোষ্ঠীর কিছু পাগলাটে সিনে-প্রেমিক ছাড়া আর হয়তো কেউ মনে রাখেননি। কারণ, খুবই স্বাভাবিক। আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে আমেরিকার সিনেমা-সাম্রাজ্য হলিউড দাপিয়ে বেড়াতেন এঁরা। কেউ ‘বিজনেস টাইকুন’! কেউ আবার তখনকার লব্জে ‘জিনিয়াস বয় ফ্রম নিউ ইয়র্ক’।

অরসন ওয়েলস, সম্ভবত এই নামটিই আশি বছর পরে, এখনের পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী পরিচিত।

মাত্র ২৪ বছর বয়সে, ১৯৪১ সালে, অরসন ওয়েলস সারা পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন একটি ছবি বানিয়ে। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম ছবি। সমালোচকদের পছন্দের তালিকায় বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম ছবি! ‘সিটিজেন কেন’। এই ছবি অস্কারে পেয়েছিল নয়টি মনোনয়ন, জিতে নিয়েছিল সেরা চিত্রনাট্যের অস্কার।

শুধু তৈরী ছবিটাই নয়, বরং সে ছবি বানানোর নানা খুঁটিনাটি, স্ক্রিপ্ট লেখার সময়, তৈরী হওয়ার পর থিয়েটারে রিলিজ করার সময়ের নানা ঘটনা – পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি!

ডেভিড ফিঞ্চারের পরিচালনায় ‘নেটফ্লিক্স’-এ সদ্য মুক্তিপ্রাপ্র ছবি ‘ম্যাঙ্ক’ – ‘সিটিজেন কেন’ সংক্রান্ত অনেক কিংবদন্তীর গল্প বলে। যার মূল চরিত্রে হারমান ম্যাকেনভিচ – ডাকনামে ‘ম্যাঙ্ক’ – সিটিজেন কেন ছবির চিত্রনাট্যকার।

কিন্তু এসবও যাঁদের পরিচিত নয়, যাঁরা সিনেমার ইতিহাস, তার কিংবদন্তি নিয়ে ততটাও উৎসাহিত নন, তাঁদের জন্য এই ছবিতে কী আছে! কিছু কী আছে?

কী যায় আসে বলুন তো, আজ থেকে আশি বছর আগের একটি চলচ্চিত্র-কে কেন্দ্র করে বানানো ডেভিড ফিঞ্চারের এই নতুন ফিল্ম নিয়ে?

আসলে সিনেমার ইতিহাসে নিজের কাহিনীর নির্যাসকে ডুবিয়ে রাখলেও ‘ম্যাঙ্ক’ আসলে এমন এক মানবিক সঙ্কটের কথা বলে, যা চিরকালীন এক সঙ্কট ও দ্বন্দ্ব। সে দ্বন্দ্ব যে কোনো মানুষের, যে কোনো সময়ের সঙ্কটের সমতুল্য! তাই আগে বলা একটিও নাম, একটিও ঘটনা, যদি নাও জেনে, যে কেউই এই ছবি উপভোগ করতে পারেন। যদি তাঁর জীবনে কখনও জীবিকা আর বিবেকের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। যদি কখনও কেউ টাকার জন্য ফরমায়েশি কাজ আর নিজের সৃষ্টি – এই দুইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের হদিশ না পান!

১৯৪১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সিটিজেন কেন’ সিনেমার ইতিহাসে তো বটেই, এমনকি আমেরিকার ইতিহাসেও বিখ্যাত নানা কারণে। আমাদের দেশে তখন বেশীরভাগ হলিউড ছবি সরাসরি থিয়েটারে রিলিজ হত – ‘সিটিজেন কেন’ ভারতে মুক্তি পেয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েই।

সত্যজিৎ রায় তখন শান্তিনিকেতনে কলাভবনের ছাত্র, নিজের স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন ওঁর আফশোসের কথা – কলকাতায় ‘সিটিজেন কেন’ মুক্তি পেয়ে দেখানো শেষও হয়ে যাচ্ছে, আর উনি শান্তিনিকেতনে বসে হাত পা কামড়াচ্ছেন, দেখতে আসতে পারছেন না!

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল