সিনে রিভিউ: আমিষ

Published by: shono_admin |    Posted: October 13, 2020 5:10 pm|    Updated: November 19, 2020 10:32 am

Published by: shono_admin Posted: October 13, 2020 5:10 pm Updated: November 19, 2020 10:32 am

Great Film Podcasts for Movie Fans

আমিষ আসামেরই ছবি। তাই হয়তো ভাগ্যের পরিহাসে কলকাতায় সেদিন তার দশা হয়েছিল উদ্বাস্তু ভবঘুরের মত। চেয়েচিন্তে ঠাঁই হয়েছিল একটি মাত্র হলে, বারবেলার একটি মাত্র শো। এ’ শহরের মানুষ যখন আসামের উদ্বাস্তুদের মধ্যে সিঁদূরে মেঘ দেখছে, তখন একচিলতে পুবালি বাতাসের মত শহরে এল আমিষ, আবার ফিরেও গেল। গুটিকতক বাঙালি দর্শকের বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল বড়পর্দায় আমিষ দেখার।

আসামের শহরতলিতে নির্মলি আর সুমনের প্রেমের গল্প। নির্মলি পেশায় ডাক্তার, পেডিয়াট্রিশিয়ান। সে বিবাহিত, তার একটি ছেলে আছে। ঘটনাচক্রে তার আলাপ হয় সুমনের সাথে। সুমন পিএইচডি করছে নর্থইস্টের মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে। সে নিজেও রান্নায় পারদর্শী, নির্মলিকে নিজের হাতে রান্না করা খাবার এনে খাওয়ায়। বিভিন্ন বিচিত্র খাদ্যাভ্যাস সম্বন্ধে তার গভীর আগ্রহ নির্মলিকে আকর্ষণ করে।

তারা ফোনে সর্বক্ষণ টেক্সট করে যায় পরস্পরকে। আপাতদৃষ্টিতে দুজনের সম্পর্ক নেহাত বন্ধুত্বের হলেও তাদের চাহনি, হাসি, অভিমান এসবের মধ্যে চেপে রাখা, অস্বীকার করতে চাওয়া সত্যটা উঁকি দিয়ে যায় বারবার। তবু নির্মলি সেই সত্যকে স্বীকার করতে পারে না। সমাজ-নির্দিষ্ট বৈধ অবৈধের জ্ঞান তার মজ্জায় এমনভাবে ঢুকে গেছে যে তাদের থেকে আলাদা করে, নিজের ইচ্ছেগুলোকে স্বীকৃতি জানাবার সৎসাহস তার নেই।

এই দমিয়ে দেওয়া ইচ্ছেগুলোই একদিন তার বিপদ ডেকে আনে। সুমন ভারি বাহাদুরি করে তাকে নিজের শরীর থেকে মাংস কেটে খাইয়েছিল, ভেবেছিল নির্মলিকে খুশি করে তার মনে স্থায়ী জায়গা করে নেবে…কিন্তু অচিরেই দেখা গেল যে তার রাঁধা মাংস খেয়ে নির্মলির পাগল পাগল অবস্থা, সে আরো খেতে চায়, মানুষের মাংস ছাড়া তার আর চলে না; মাঝে মধ্যে সুমনের শরীর থেকে কেটে নেওয়া টুকরো টুকরো মাংস খেয়েও তার আশ মিটছে না।

ভাস্কর হাজারিকা একজায়গায় ‘আমিষ’ সম্বন্ধে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন যে এটি একটি ‘অবসার্ভেশানাল ছবি’। তিনি রেস্তরাঁতে বসে আশেপাশের কাস্টমারদের ওপর চোখ বোলাচ্ছিলেন, এরকম সময়েই ছবির আইডিয়াটা তাঁর মাথায় আসে।

একটা গল্পের কাঠামোকে জড়িয়ে যেভাবে চিত্রনাট্যকার তাঁর স্বচক্ষে দেখা সময়ের টানাপোড়েনকে তুলে ধরছেন, তাকে বুঝতে গেলেও খুঁটিয়ে দেখা অর্থাৎ পর্যবেক্ষণের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

লেখা: অভিষেক রায় বর্মন
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল