‘মোদের কোনো দ্যাশ নাই’—বাধ্য হয়ে ছেড়ে আসার কথকতা, সুবর্ণরেখা থেকে নোমাডল্যান্ড; ঘরহীন মানুষের ইতিবৃত্ত

Published by: Sankha Biswas |    Posted: April 16, 2021 11:14 pm|    Updated: April 18, 2021 12:20 am

Published by: Sankha Biswas Posted: April 16, 2021 11:14 pm Updated: April 18, 2021 12:20 am

সেই দেশের মাটির নাম কী হবে? ভবঘুরে মানুষের বাসস্থান যখন গোটা দেশটাই—তখন সে তো ‘নোমাডল্যান্ড’—সেই দেশ হয়ে যায় যাযাবরের দেশ! একটা গোটা দেশ এত এত এমন মানুষে ঘেরা যাঁদের বাধ্য হয়ে ছেড়ে চলে আসতে হয়—ছেড়ে চলে যেতে হয় নিজেদের স্থায়ী বাসস্থান, একটুকরো উঠোন, একচিলতে বাগান। ছেড়ে চলে যেতে হয় ঘরের নিরাপত্তা, স্থায়ী আশ্রয়ের বোধ, নিজের সত্ত্বার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত সেই জনপদ—কখনও আত্মীয় পরিজনও। ঘর হারিয়ে মানুষ হয়ে পড়েন উদ্বাস্তু।

ছবিটা দেখতে দেখতে আমাদের মনে হয়—একটা নির্দিষ্ট দেশের কিছু সংখ্যক মানুষের কথা বলছে বটে এই ছবি—কিন্তু বৃহত্তর অর্থে কী এiই গল্প এক বিশ্বজোড়া ঘরহীনতা, আশ্রয়হীনতার কথাই বলে না? উপমহাদেশের, তৃতীয় বিশ্বের মানুষ আমরা, চুয়াত্তর বছর আগে আমাদের নিজেদের দেশই স্বাধীনতার নামে দু-টুকরো হয়ে গেছে—কলমের এক খোঁচায় লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়ে পড়েছেন উদ্বাস্তু। লক্ষ লক্ষ মানুষ সীমান্ত পারাপার করেছেন—এক জাতির, এক ভাষার, এক বর্ণের মানুষের মধ্যে উঠে গেছে কাঁটাতারের বেড়া। ঋত্বিক ঘটক সুবর্ণরেখা  ছবির এক সংলাপে বলেছিলেন, ‘উদ্বাস্তু? কে নয় উদ্বাস্তু!’ ঋত্বিকের কাছে মূর্ত অর্থে ঘরহীনতার ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছিল ইতিহাসকে দেখার এক বৃহত্তর দ্যোতক হিসেবে—তিনি মানুষের আবহমান কালের অস্তিত্বে বড় বড় ফাটল আর চ্যুতি দেখতে পেয়েছিলেন। ১৯৬২ সালের সেই ছবির প্রায় পঞ্চাশ বছর পর সম্পূর্ণ অন্য গোত্রের এক ছবি নিয়ে ভাবতে গেলে মনে হয়, মানুষের এ উদ্বাস্তু দশা তো ঘোচেনি একটুও! শত শত মানুষ এখনও খুঁজে বেড়াচ্ছেন একটুকরো আশ্রয়ের জায়গা।

ঠিক এই কথাই একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ—’সকলেই একটা আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরছে।’ আমাদের মনে পড়তে পারে কয়েক বছর আগে বিশ্ব কাঁপিয়ে দেওয়া সেই ছবি—লাল জামা আর নীল প্যান্ট পরা ছোট্ট আয়লান কুর্দি—সমুদ্র সৈকতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে তার নিথর দেহ। পশ্চিম এশিয়ার দেশ ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি দিয়েছিল সে, সপরিবারে, একটুকরো আশ্রয়ের খোঁজে, তার সেই খোঁজা পথেই পরিসমাপ্তি হয়ে গেছিল, চিরদিনের মতো। আয়লানের সেই ছবি মূহুর্তে ইউরোপ-আমেরিকা-বাংলাদেশ-ভারত একাকার করে দেয়—আমাদের মনে পড়ে, একাত্তর সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আর যশোর রোডে লক্ষ লক্ষ গৃহহীন মানুষের ছবি, আমেরিকান কবি অ্যালেন গিন্‌সবার্গ-এর সেই বিখ্যাত কবিতা—‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’;

Millions of fathers in rain
Millions of mothers in pain
Millions of brothers in woe
Millions of sisters nowhere to go

 

ব্যবহৃত গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ মৌসুমী ভৌমিক-এর।

শুনুন…

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল