ওল্ড মঙ্কের সঙ্গে গুমনামী বাবার যোগসূত্র আজও অবাক করে

Published by: Sankha Biswas |    Posted: November 28, 2020 6:40 pm|    Updated: November 28, 2020 7:16 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: November 28, 2020 6:40 pm Updated: November 28, 2020 7:16 pm

সুরাপ্রেমীরা বলেনব্র্যান্ড নামী–দামি অনেক আছেকিন্তু ‘ওল্ড মঙ্ক’ বা ‘বুড়ো-সাধু’ একটা ইমোশনএক নাছোড়বান্দা আবেগ।

কিন্তু এই রামের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে যদি জুড়ে যায় গুমনামি বাবার নাম? সে বিষয়ে আসুন একটু গপ্পো করা যাক

১৮২০। তখন ভারতে ইংরেজদের রমরমা। স্কটিশ ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড ডায়ার ভারতে আসেন নিজের ব্যবসাভাগ্য পরখ করতে। একেই এখানে গরম আবহাওয়াতার ওপর বিদেশ থেকে সোডা এবং হুইস্কি আনিয়ে তবেই পান করা যায়। সে তুলনায় বরফের তোয়ালে জড়িয়েঅথবা ছায়াওয়ালা কুয়োর জলে চুবিয়ে রেখে বিয়ার উপভোগ করা যায় বেশ। তাই বিদেশিদের মধ্যেবিশেষত ব্রিটিশদের মধ্যে পানীয় হিসেবে বিয়ারের চাহিদা বাড়ছিল। জন ল্যাংএর বই ‘দ্য হিমালয়ান ক্লাব’ থেকে জানা যায়, তখনকার সময়ে ব্রিটিশদের অবসরকালীন আবাস ছিল সিমলামানালিধরমশালার মতো জায়গাগুলো। গ্রীষ্মকাল এলেই তল্পিতল্পা বেঁধে তাঁরা পাহাড়ে ওপরকার জনপদগুলোতে উঠে যান। শীত পড়লেই ফের উপত্যকায় নেমে আসেন। এডওয়ার্ড ডায়ার ব্যবসার এই সুবর্ণসুযোগ হাতছাড়া করলেন না। ১৮৫৫–এ তিনি কসৌলিতে বানিয়ে ফেললেন ভারতের প্রথম ‘ব্রিউয়ারি। নাম রাখলে, ‘কসৌলি ডিস্টিলারি কোম্পানি। সেখানেই তৈরি হলভারত তথা এশিয়ার প্রথম বিয়ার— লায়ন।

এরপর আর এক বিদেশি সাহেব এইচজি. ম্যাকিনভারতে আসেন ১৮৮৭ সালে। তিনি ডায়ার-এর কাছ থেকে সোলান এবং পুরনো সিমলার ব্রিউয়ারি কেনেন। সেই সময়েই এই দুই সংস্থা মিলে তৈরি হয় ‘ডায়ার এন্ড ম্যাকিন কোং লিমিটেড

১৯৪৯ সালে নরেন্দ্রনাথ মোহন ডায়ার এন্ড ম্যাকিন কোং লিমিটেড’–এর মালিক হন। তাঁর পর ব্যবসার হাল ধরেন ছেলে কর্নেল বেদ রতন মোহন। কোম্পানির নাম বদলে হয় ‘মোহন ম্যাকেন প্রাইভেট লিমিটেড’।

১৯৫৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর মোহন ম্যাকেন প্রাইভেট লিমিটেড-এর সুরা ‘ওল্ড মঙ্ক’ বাজারে আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় বাজার কাঁপাচ্ছিল হারকিউলিস রাম। বুড়ো সাধু এসে এক পাঞ্চেই হারকিউলিসকে নক আউট করে

এই কালো স্বাদু জাদু পানীয়ের রেসিপির মধ্যেই আছে এক নিজস্বতা। আখের রসএবং আখের গুড় সঙ্গে ঝরনার জল মিশিয়েসাধারণ ভাবে বেশ কিছুদিন রেখে দেওয়া হয়। তারপর এর সাথে ইস্ট মিশিয়ে আরও খানিক গেঁজিয়ে। ভ্যানিলার স্বাদ আর গন্ধ মিশিয়ে পেট মোটা ওক গাছের পিপেতে বন্দি করে রাখা হয় পাক্কা সাত বছর। তারপর পিপে থেকে আর এক প্রস্থ শোধন করে বোতলে পোরা হয়। 

ওল্ড মঙ্কের এই জনপ্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছেনআরও এক সেনাকর্তাবেদ রতনের ভাই ব্রিগেডিয়ার কপিল মোহন। দাদার মৃত্যুর পর১৯৭০ নাগাদতিনি কোম্পানির হাল ধরেনসেই থেকে ওল্ড মঙ্ক অন্য উচ্চতায় পৌঁছয়। গোলগাল, পেট মোটাআটপৌরে বোতলকোনও শৌখিনতার বাড়তি বালাই নেইকিন্তু ঈষৎ কালো পানীয়ের মায়াজাদুতে আছন্ন গোটা দুনিয়া। আশ্চর্যের কথা আরও আছেকপিল নিজেকোনদিনও এক পাত্তরও গলাধঃকরণ করেননিকখনও ধূমপান অবধি করতেন না। অথচ তিনি ভারতের তথা পৃথিবীর অন্যতম ‘লিকার ব্যারন’ ছিলেন। আর সেই সাতের দশক থেকে দু হাজার দশ অবধিওল্ড মঙ্ক ছিল এক নম্বর রামভারতে নয়বিশ্বজুড়েবিক্রি এবং জনপ্রিয়তার নিরিখে। আর এই এতগুলো দশকেএবং আমৃত্যু তিনি একটা পয়সাও বিজ্ঞাপনে খরচ করেননি। বিজ্ঞাপন দেওয়াকে তিনি ‘বিলাসিতা’ বা অর্থের অপচয় ভাবতেন।

 

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল