শ্যামাসংগীত গায়ক পান্নালাল ভট্টাচার্য আত্মহত্যা করলেন কেন? আজও রহস্য!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: November 21, 2020 11:13 am|    Updated: November 22, 2020 8:29 am

Published by: Sankha Biswas Posted: November 21, 2020 11:13 am Updated: November 22, 2020 8:29 am

শৈশবে পিতৃহারা পান্নালালের কাছে তাঁর বাবা-মা দুইই ছিলেন তাঁর মেজদা—সেকালের সংগীত জগতের প্রবাদ-পুরুষ ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য। পান্নালালের নিজের ইচ্ছে ছিল আধুনিক-গানের প্লেব্যাক শিল্পী হবেন। সেই বাসনা থেকে সরিয়ে মেজদাই তাঁকে দিয়েছিলেন শ্যামাসংগীতের দীক্ষা।

পান্নালাল ভট্টাচার্য-এর শ্যামাসংগীত গাওয়া শুরু ছোটবেলাতেই। পরে জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ এবং যামিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো মানুষের কাছে শিক্ষালাভের সুযোগ পেয়েও প্রথাগত সংগীত-সাধনার বাঁধনে তাঁকে কখনওই বাঁধা যায়নি।

উড়নচণ্ডী স্বভাবের পান্নালালের বিয়ে হয় ১৯৫৪-এর ১৪ মার্চ, মঞ্জুশ্রী দেবীর সঙ্গে। তাঁদের তিন সন্তান—কাজরী, কাকলি ও শর্বরী। এই মেয়েদের জন্য জামা কেনা, তাদের চুল বেঁধে দেওয়া, রান্নার জন্য কুটনো কেটে দেওয়া—নিপাট মধ্যবিত্ত সংসারীর মতো সবই করতেন পান্নালাল। কিন্তু এই সংসার সাধনার মাঝেই পান্নালাল শুনতে পেয়েছিলেন ‘ওপার-এর হাতছানির ডাক’। শুধু পেশার তাগিদে বা জনপ্রিয়তার জন্য নয়; পান্নালাল মায়ের নামগান করতেন সাধনার চিরপথের পথিক হিসেবেই।

জীবনের শেষ দিকে প্রায়ই শ্মশানে বসে থাকতেন। কখনও কেওড়াতলা, কখনও সিরিটি, কখনও বা বালির বারেন্দ্রপাড়া শ্মশানঘাটে। বসে থাকতেন আর কাঁদতেন। আপন মনে বিড়বিড় করে বলতেন, ‘আমি তো চিরকাল ঈশ্বরের গান গেয়ে বেড়ালাম। আমার ঈশ্বর দর্শন হবে না কেন? কেন আমায় দেখা দিবি না মাগো?’

এই অসীম বেদনা আর নিরন্তর আকুতির পরিণাম যে শেষপর্যন্ত পান্নালালকে নিয়ে যাবে আত্মহননের পরিণতিতে—তখনও তা অজানা। কিন্তু কিছু ইঙ্গিত যেন মা-ই দিয়েছিলেন শেষ দিকে গাওয়া গানগুলির কথায়!

১৯৬৬-তে শেষ রেকর্ড করা গান ‘ওপার আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে’। সুর আর কথায়, গানটিতে, অন্য কোনও জগতে পাড়ি দেওয়ার কী তীব্র বাসন! এই সময়েই রেকর্ডেড আরও দু’টি শ্যামাসংগীতেও রয়েছে একই রহস্যময় ইঙ্গিত। পান্নালালের কণ্ঠে এই গানগুলি যারা শুনেছেন তাঁরা বুঝবেন কী করুণ হাহাকার আর বেদনার আর্তি ছড়িয়ে রয়েছে তাতে।

তাঁর শেষদিনটি আজও রহস্যে ও বিস্ময়ে মোড়া।

৬৬-র সেই গান রেকর্ড-এর মাত্র কয়েকদিন পরের ঘটনা। ২৬শে মার্চ, ১৯৬৬। রবিবার। কাঁকুলিয়া রোডের বাড়িতে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয় পান্নালাল ভট্টাচার্যের দেহ।

মায়ের করুণা লাভের অসহনীয় আকুতির অন্তিম পরিণতি হিসেবেই কি এই আত্মহনন? নাকি ছিল অন্য কোনও রহস্য?

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: অনুরণ সেনগুপ্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল