ঠাকুরঘরে ছবি ছুঁইয়ে স্ত্রী অন্নপূর্ণাকে বাজনা ছাড়তে বাধ্য করেন রবিশঙ্কর

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 5, 2021 8:51 pm|    Updated: February 5, 2021 8:53 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 5, 2021 8:51 pm Updated: February 5, 2021 8:53 pm

১৯৫৫। দিল্লির ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব’–এর সংগীত সম্মেলনের শেষ দিনের অনুষ্ঠান। একই মঞ্চে রবিশঙ্কর ও স্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। তখনও তিনি যদিও ‘পণ্ডিত’ রবিশঙ্কর হয়ে ওঠেননি। দু’জনের যুগলবন্দিতে শ্রোতারা শুনলেন রাগ শ্রী। বাড়ি ফিরে খাওয়ার টেবিলে ঘনিয়ে উঠল অন্য মেঘ। “দু’জনে বাজাতে গেলে কিছু সমস্যা হচ্ছে অন্নপূর্ণা।” সেই শুরু সমস্যার। সময় ও যুগের পরিবর্তনে শাস্ত্রীয় সংগীত ঘরানায় বদল আনার পক্ষপাতী ছিলেন রবিশঙ্কর। শাস্ত্রীয় সংগীত কি চিরকাল রাজদরবারের রুচি অনুযায়ীই পেশ হবে? সাধারণ মানুষের মধ্যে শাস্ত্রীয় সংগীতকে জনপ্রিয় করতে হলে তার মধ্যে বদল আনার কথা ভেবেছিলেন রবিশঙ্কর। আর এখানেই শুরু মতবিরোধ। অন্নপূর্ণা দেবী স্পষ্ট জানান, বাদ্যে পরিবর্তন তিনি আনতে পারবেন না। বাবা উস্তাদ আলাউদ্দিন খানের কাছে নেওয়া তালিমকে বিন্দুমাত্রও বদল করতে রাজি হলেন না তিনি। আজীবন সুরসাধনা করবেন। যশ বা খ্যাতির প্রত্যাশা তিনি করেন না। এখান থেকেই দাম্পত্যে মতবিরোধ ও ফাটলের শুরু।

উস্তাদ আলাউদ্দিনের দুই সুযোগ্য শিষ্য রবিশঙ্কর ও অন্নপূর্ণা। স্বয়ং আলাউদ্দিনের কনিষ্ঠ কন্যা অন্নপূর্ণা! বাবার কাছে ঠিক যেমনটি শিখেছিলেন, তেমনটিই আজীবন পালন করার ব্রতে নিজেকে নিয়োজিত করলেন সেইদিন থেকেই। নাম-যশ-খ্যাতি নয়, সুরের সাধনাই হবে তাঁর চলার পথের পাথেয়। শোনা যায়, রবিশঙ্কর-অন্নপূর্ণার দ্বৈত সুরবাহারে নাকি অধিক প্রশংসা পেতেন অন্নপূর্ণা! সেটা নাকি রবিশঙ্কর ভাল চোখে দেখতেন না। সেই নিয়ে বারবার অশান্তি। পেশাদারি মঞ্চ থেকে নিজেকে বরাবরের জন্য সরিয়ে নেন অন্নপূর্ণা দেবী। নীরবে সরে আসার পিছনে কি কাজ করেনি আত্মত্যাগের এক যন্ত্রণা? বাবার শেখানো সংগীতকে তিনি ছড়িয়ে দেবেন শিষ্যদের মধ্যে, এমনটাই ভেবেছিলেন। আত্মজীবনীতে লিখছেন রবিশঙ্কর, ‘অন্নপূর্ণা অন্যকে শেখানোটাই বড় মনে করেন।’

জনসাধারণের করতালিতে পরিপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহের অনেক বাইরে ছিল অন্নপূর্ণা দেবীর অবস্থান। নীরব-শান্ত-নিভৃত সুরমূর্ছনায় এক বলিষ্ঠতার রেশ ফুটিয়ে তুলত তাঁর বাজনা। স্বয়ং আলাউদ্দিনের সৃষ্টির অন্তঃস্থল পর্যন্ত যাতায়াত করত অন্নপূর্ণা দেবীর রাগ! বাড়িয়ে বলা নয়, ভাই আলি আকবর নিজে স্বীকার করেছিলেন যে, ‘ও যে ঢঙে বাজায়, সেটাই বাবার আসল ঢং। পাবলিকের জন্য অনেক সময় আমাদের বাজনার ঢং পালটাতে হয়, তবে তাতে রাগ-রাগিণী বদলায় না, কিন্তু অলংকারগুলি পালটে যায়।’ তারপর শুনুন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা, সুশোভন প্রামাণিক ও শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল