ভালবাসা-যৌনতা-কাম-বিরহের কোরাসে আজও ‘আইকনিক’ উর্বশী-পুরুরবা’র কাহিনি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 29, 2021 3:16 pm|    Updated: April 29, 2021 3:30 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 29, 2021 3:16 pm Updated: April 29, 2021 3:30 pm

বনভূমির মাঝে বিরাট সরোবর। স্বচ্ছ জলে স্নানরত কয়েকজন দেবকন্যা। সকলেই নগ্নিকা। নির্জন সেই বনে তাঁদের আবরণ নিষ্প্রয়োজন, লজ্জার কোনও বিশেষ কারণ নেই। কিন্তু তাল ভঙ্গ হল হঠাৎ! শিকাররত মহারাজ পুরুরবা এক বন্য বরাহের সন্ধানে  উপস্থিত একদম সরোবরের পাশে! হঠাৎ পুরুষের আগমনে বিস্মিত দেবকন্যারা সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্হিত হলেন, রয়ে গেলেন কেবল একজন; উর্বশী। উর্বশী জল ছেড়ে উঠে এলেন পুরুরবার সামনে। নিরাবরণ দেহে সৌন্দর্যের ছটায় মুগ্ধ পুরূরবা প্রশ্ন করলেন, ‘কে তুমি এই নির্জন বনভূমিতে আমার হৃদয় হরণ করে নিতে এসেছ!’ জানতে পারলেন, তিনিই স্বর্গের অপ্সরা উর্বশী। সিক্ত দেহে কামাতুর উর্বশী জানান, তিনিও সমানভাবে পুরুরবার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। স্বর্গে ফিরে যাওয়ার অভিপ্রায় সেই মুহূর্তে আর নেই। তারপর নিভৃত-নিবিড় মিলনের পর একসময় উর্বশীকে প্রাসাদে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন মহারাজ। এদিকে, বহু মানুষের সান্নিধ্য উর্বশীর না-পসন্দ। রাজার প্রমোদ উদ্যানে অন্য কারও প্রবেশাধিকার নেই শুনে আশ্বস্ত উর্বশী রাজি হন পুরুরবার সঙ্গে যেতে।

তারপর কেটে যায় প্রায় চোদ্দো বছর! সন্তানসম্ভবা উর্বশীকে হঠাৎই একদিন খুঁজে পান না পুরুরবা। তীব্র আর্তিতে পাগলের মতো চিৎকার করতে থাকেন উর্বশীর নাম ধরে। বিরাট প্রাসাদে ধ্বনিত হয় সেই নাম, প্রতিধ্বনি মেলে না। দ্রুতগামী এক অশ্বে চেপে মহারাজ পৌঁছন সেই সরোবরের তিরে। অনুমান মিথ্যে হয় না। দেখতে পান বনভূমির স্নিগ্ধ-শান্ত পরিবেশে উচ্ছল স্নানরত উর্বশীকে! বিস্মিত পুরুরবা ফিরে আসার অনুরোধ করেন তাঁর স্ত্রীকে। উর্বশী রাজি হন বটে, কিন্তু বেঁধে দেন এক শর্ত। তিনি স্বর্গের অপ্সরা, নগ্ন থাকা তাঁদের রীতি। শর্তের কারণ হিসেবে উর্বশী জানান তিনি নগ্নিকা হলেও মহারাজ কখনও তাঁর সামনে নগ্ন দেহে আসতে পারবেন না! ছলনাময়ীর এই শর্ত অনায়াসে মেনে নেন পুরুরবা। তিনি স্থির করেন রাতের অন্ধকারেই তাঁরা মিলিত হবেন, তাঁর নগ্নদেহ প্রকাশ্যে আসবে না।

এভাবেই কেটে যায় আরও বেশ কিছুদিন। একরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় রাজার। মধ্যরাতে অস্বাভাবিক কিছু শব্দের আনাগোনা ঘরের ভিতর! ঘুমের রেশ তখনও গভীর, মিলনসুখে তৃপ্ত মুহূর্তগুলো এই আকস্মিক শব্দে এলোমেলো হয়ে যায়। কী হয়েছে বোঝার জন্য যেই শয্যা ত্যাগ করেছেন পুরুরবা, অমনি সারা ঘর উজ্জ্বল হয়ে উঠল তীব্র আলোয়! সামনে নগ্নিকা উর্বশী, তাঁর চোখ রহস্যে পরিপূর্ণ। মনে করিয়ে দিলেন রাজাকে তাঁর শর্তের কথা। বিশ্বাস করতে পারলেন না পুরুরবা, উর্বশীর গর্ভে যে তাঁদের সন্তান! হাসিতে ফেটে পড়লেন অপ্সরা, বললেন, “নারীর সঙ্গে পুরুষের কোনও স্থায়ী বন্ধুত্ব হয় না। আমরা স্বর্গবাসিনীরা দু’দিনের যাযাবর পাখি। সময় ফুরলেই আমরা উড়ে চলে যাই। দেহসুখ আমিও চাই; কিন্তু স্থায়ী বাঁধনে বাঁধা পড়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি যাই… আমি যাই… আমি যাই…’। ক্রমশ মিলিয়ে যেতে লাগলেন উর্বশী, ছায়া হতে হতে। দৃঢ় হতে লাগল পুরুরবার আর্তনাদ, ‘আমার দেহ, আমার মন, আমার চেতনা, আমার আত্মা। যেও না, তুমি যেও না…’ তারপর, মূর্ছিত হয়ে পড়লেন মহারাজ।

বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল