রবি ঠাকুরের দুই দাদা ছিলেন পাগল, ঠাকুর বাড়িতে ছিল ‘আসল’-‘নকল’ পাগল চেনার কারবারও

Published by: Sankha Biswas |    Posted: March 3, 2021 2:45 pm|    Updated: March 3, 2021 2:45 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: March 3, 2021 2:45 pm Updated: March 3, 2021 2:45 pm

কুইন ভিক্টোরিয়া বলতেন ‘মাই প্রিন্স’। সেই থেকেই তিনি প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। ভিক্টোরিয়া ডাকতেন ‘প্রিন্স টারাগোনা’। ‘কুশারি’রা ‘ঠাকুর’ হলেন আর   জোড়াসাঁকোর পারে একে একে জন্ম নিলেন প্রিন্সের নাতিনাতনিরা— বাংলার সংস্কৃতির বিখ্যাত ঠাকুরেরা।

এক রবীন্দ্রনাথে জগত আলো হলেও ঠাকুরবাড়ির আঙিনায় ছিলো আরও অনেক অনেক প্রতিভার আলো। দেবেন্দ্রনাথের পনেরো জন সন্তানের প্রায় সকলেই ছিলেন প্রতিভাধর। তাঁদের প্রতিভার জ্যোতিপ্রভা এরকমই মেগা ট্যালেন্টের জোড়াসাঁকোয় প্রতিভার পাশাপাশিই ছিল ‘পাগল’দের আস্তানাও।

মনোবিজ্ঞান বলে অসংলগ্নতা আর অপ্রকৃতস্থতার মতোই, কোনও বিষয়েরও অতিরিক্ত পারদর্শিতাও একধরণের পাগলামো বৈকি। প্রতিভার সঙ্গে পাগলামোর সম্পর্কটা তাই একই সুতোর দুই প্রান্ত, কোন প্রান্তে বেশি টান পড়বে বলা যায় না! রাইট ব্রেইন বা ডান মস্তিষ্কের অতিরিক্ত সক্রিয়তাই জিনিয়াসের মাথার পিছনে আলো জ্বালানোর কাজ করে। আর এই সক্রিয়তাই একটা পর্যায়ের পর রূপ নেয় পাগলামোর। ঠাকুরবাড়ির তথাকথিত ‘পাগল’রাও তাই প্রকৃত অর্থে প্রতিভাধর।

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের পনেরো জন সন্তানের মধ্যে অন্তত দুজনের প্রতিভার আলো বিকশিত হয়েছিল অসংলগ্নতার অলক্ষ্যে—পাগলামোতে। এই দুজন হলেন বীরেন্দ্রনাথ এবং সোমেন্দ্রনাথ। প্রথমজন দেবেন্দ্রনাথের চতুর্থ পুত্র, রবীন্দ্রনাথের “ন’দাদা” আর দ্বিতীয়জন দেবেন্দ্রনাথের সপ্তম পুত্র রবীন্দ্রনাথের শুধু “দাদা”। প্রতিভা আর পাগলামোর টানাপড়েনে ঠাকুরবাড়ির এই দুই আশ্চর্য চরিত্রের গল্পই আজ আপনাদের শোনাব।

রবীন্দ্রনাথের ন’দাদা বীরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৪৫ সালে। সাহিত্য কিংবা সঙ্গীত থেকে দূরে মহর্ষির এই সন্তানটির প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল অঙ্কে। আর অঙ্কই ছিল বীরেন্দ্রনাথের পাগলামির ক্ষেত্র। তিনি ছিলেন বড়ই সুপুরুষ, সারাদিন মেতে থাকতেন অঙ্কের চর্চায়। প্রথম যৌবনে ভালোই ছিলেন, কিন্তু বিয়ের পর থেকেই দেখা দিল গোলমাল। স্ত্রী প্রফুল্লময়ী দেবী সামলাতে পারতেন না। বাধ্য হয়েই ঘরে বন্দী করে রাখা হত বীরেন্দ্রনাথকে। কিন্তু বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে তাঁর তীব্র চিৎকারে সারা বাড়ি সচকিত হয়ে উঠত। এমনও অবস্থা গেছে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছে। কারও কথাই মানতেন না। এই বীরেন্দ্রনাথেরই একমাত্র পুত্র ছিলেন বলেন্দ্রনাথ— রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র। বলেন্দ্রনাথেরই স্ত্রী সাহানা দেবী। অল্প বয়সে বিধবা হওয়া পুত্রবধূ সাহানা দেবীর একটি দায়িত্ব ছিল ‘পাগল’ শ্বশুরমশাইকে গান গেয়ে ভোলানো।

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল