যাঁরাই এখানে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বেঁচে ফেরেননি কেউই! ভানগড় দুর্গের রহস্য আজও অধরা

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 11, 2021 4:13 pm|    Updated: February 15, 2021 8:20 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 11, 2021 4:13 pm Updated: February 15, 2021 8:20 pm

আজগুবি গল্প মনে হতে পারে, মনে হতে পারে ভয় থেকে শোনা কানের ভুল; কিন্তু ‘আর্কিওজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র কর্তাব্যক্তিরা স্বয়ং নিশ্চয়ই আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে বসবেন না? আর তাছাড়া সাক্ষী তো আর কেবল স্থানীয় মানুষেরা নন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গবেষকরাও। দীর্ঘ ইতিহাস ও রহস্যের ঘেরাটোপে থাকা ভানগড় দুর্গকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। গবেষণার ফলাফল হিসেবে একদল পুরাতাত্ত্বিকের মত, পরিত্যক্ত ওই অঞ্চলে প্রচুর তেলাপোকা আর বাদুড়ের বাস। তাদের চলাফেরার কারণেই ওই ঘুঙুরের আওয়াজের উৎপত্তি। এটাই কি তবে যাবতীয় রহস্যের সমাধান? এত সহজে ভানগড় রহস্যের সমাধান হওয়ার নয়। সুপারন্যাচারাল, অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে যাঁরা চর্চা ও গবেষণা করেন, তাঁদের একটি তত্ত্বাবধায়ক টিম দীর্ঘদিন গবেষণা চালায় এই দুর্গ ও তার সন্নিহিত অঞ্চলে। তাঁদের রাডার ও গবেষণায় একপ্রকার নেগেটিভ এনার্জির উৎসের অস্তিত্ব তাঁরা স্বীকার করেছেন। এমনকী, ক্যামেরায় যে–সমস্ত ছবি পাওয়া গিয়েছে, তারও কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। নেগেটিভ এনার্জি কী? এমন কোনও এনার্জি যা দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে আবদ্ধ হয়ে আছে। ‘প্যারানরমাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া’র প্রধান গোবিন্দ কুমারের ধারণা, কোনও একটি অঞ্চল চল্লিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে বদ্ধ থাকলে, সেখানে নেগেটিভ এনার্জির অস্তিত্ব কায়েম হতে পারে। ভানগড়ের ইতিহাস তো আরও অনেক প্রাচীন।

অলৌকিক, অশরীরীর উপস্থিতি আছে কি না––– এই প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি এখনও, তবে বিশ্বের দশটি অতিপ্রাকৃত স্থানের একদম প্রথম সারিতে রয়েছে ভানগড় দুর্গ! অঞ্চলটির পঞ্চাশ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও অতিথিনিবাস নেই। স্থানীয় যাঁরা অসীম সাহসে ভানগড়ে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছলেন, কাকতালীয়ভাবে তাঁরাও কেউ আর জীবিত থাকেননি!

রহস্যের আড়ালে থাকা ভানগড় দুর্গের ঘটনাবলিকে বিজ্ঞান তার চিরাচরিত ব্যাখ্যায় ধরতে পারেনি আজও। দুঃখের বিষয়, ভারত সরকারও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দিয়েছে দুর্গের দরজা‌‌। সকাল হোক বা সন্ধে, ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র নির্দেশে ভানগড় দুর্গ আর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

তারপর?

শুনুন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল