সন্ধের পর থেকে কারও প্রবেশ নিষেধ; আজও প্রতি রাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধিকাকে নিয়ে পা রাখেন এই গা-ছমছমে ‘বন’-এ

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 14, 2021 9:58 pm|    Updated: May 14, 2021 9:58 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 14, 2021 9:58 pm Updated: May 14, 2021 9:58 pm

পুরাণ অনুসারে বৃন্দাবন শ্রীকৃষ্ণর জন্মভূমি নয়, কর্মভূমি কিংবা শাসনক্ষেত্রও নয়, বৃন্দাবন তাঁর লীলাভূমি। জন্মের অব্যবহিত পরেই বর্ষণমুখর সেই রাতের অন্ধকারে পিতার সাহায্যে যমুনা পেরিয়ে তাঁর এই বৃন্দাবনে আসা নিতান্তই পূর্বনির্ধারিত লীলা। এখানেই বেড়ে উঠবেন তিনি, শৈশব আর কৈশোরের মধুর রসামৃত লীলার আবাদভূমি হয়ে এই বৃন্দাবনে চিরঅক্ষয় হয়ে থাকবে যমুনার পাড়, কদম গাছ আর তাঁর প্রিয় নিধিবন। সেই দ্বাপর যুগ থেকে আজও অবধি যা রয়ে গিয়েছে একইভাবে। চিরসবুজ গাছে-ঘেরা শান্ত স্নিগ্ধ এই অরণ্য বড়ই প্রিয় ছিল কৃষ্ণর, প্রিয় ছিল রাধারও। এখানেই প্রধান অষ্টসখী আর অন্যান্য গোপিনীদের নিয়ে মধুরমিলনের লীলায় মেতে উঠতেন কৃষ্ণ। ভক্তদের বিশ্বাস– আজও সেই লীলা অব্যাহত। আজও প্রতিরাতে এখানে নৈশাভিসার শেষে মিলিত হন রাধা-কৃষ্ণ যুগল। আর সেকারণেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় আরতির পরে-পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয় নিধিবনের দরজা।

কিন্তু কেমন এই নিধিবন? কেন একে ঘিরে এত অজস্র কিংবদন্তির ছড়াছড়ি? নিধিবনের রহস্য, তাকে ঘিরে ঐশ্বরিক প্রেমবিলাসের কাহিনি এইসব কিছুকে ছাপিয়েও নিধিবন বাহ্যতই রহস্যময়। এখানকার পরিবেশও অদ্ভুত। নিধিবনের সমস্ত চত্বরজুড়ে যে গাছপালা চোখে পড়ে, তেমনটা বৃন্দাবনের আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। কেবল ভিন্ন প্রজাতির গাছই নয়, এইসব গাছের বিস্তারও অদ্ভুত। সোজা নয়, গাছগুলোর কাণ্ড আর শাখা বেড়ে চলে পাশের দিকে, নিচের দিকে ঝুঁকে। কোমর অবধি সোজা হয়ে ওঠার পরই গাছগুলির ডালপালার এইরকম পাশের আর নিচে দিকে বাঁক নেওয়া– দেখে মনে হয় যেন মাথা নত করে কারও উদ্দেশে অভিবাদন জানাচ্ছে তারা। এমনিতে বৃন্দাবন শুকনো হাওয়া-মাটির দেশ, কিন্তু নিধিবনের অরণ্যসমাহার যেন এখানকার আবহাওয়া-জলবায়ুকেও অগ্রাহ্য করে রচনা করেছে রহস্যময় চিরসবুজ। থমকে গিয়েছে সময়।
প্রতি রাত্রেই নাকি স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, তাঁর হ্লাদিনীশক্তি স্বরূপা মহামায়া রাধিকাকে নিয়ে পা রাখেন এখানে। সমস্ত বন তখন ভরে ওঠে আশ্চর্য আলোয়। সারাদিন মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো অপরূপ নারীমূর্তি ধারণ করে। ভক্তদের বিশ্বাস, নিধিবনের প্রতিটা গাছই নাকি ছদ্মবেশী গোপিনী– যাঁরা শ্রীকৃষ্ণ-দর্শনের আশায় যুগ-যুগান্তর ধরে গাছের রূপ ধরে মাথা নত করে তপস্যামগ্ন।
অলৌকিকতার বুঝি এখানেও শেষ নয়!
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল