ব্রেস্ট ট্যাক্সের ঘৃণ্য প্রথার প্রতিবাদে নিজের স্তন কেটে বিদ্রোহ করেছিলেন এই নারী

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 8, 2021 7:26 pm|    Updated: March 13, 2021 4:03 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 8, 2021 7:26 pm Updated: March 13, 2021 4:03 pm

নাম তাঁর নাঙ্গেলি, থাকতেন চেরথালা গ্রামে। ছিলেন এজহাভা সম্প্রদায়ের মানুষ। স্বামী চিরুকান্দানের সঙ্গে বেশ সুখেই ঘরকন্না করছিলেন। স্বামী চাষাবাদের কাজ করতেন, নাঙ্গেলি ঘর সামলাতেন।

একদিন নদী থেকে জল আনার সময়ে গ্রামের মোড়ল পথ আটকে দাঁড়ায় নাঙ্গেলি এবং তাঁর সখীর। নাঙ্গেলি সঙ্গে থাকা কাপড়ের টুকরো দিয়ে নিজের বুক দু’টি ঢেকে নিয়েছিলেন। বুকের কাপড় খুলে তাঁকে যথাবিহিত সম্মান দেখানোর ফরমান দেওয়া হয়। নাঙ্গেলি তাতে নারাজ। লোকটির কামলোলুপ দৃষ্টি তাঁর চোখ এড়ায়নি। সে বুকের কাপড় কিছুতেই খুলবে না। লোকটি খুব করে তাকে শাসাল। নিচুজাত হয়ে বুক ঢাকার সাহস তার কী করে হয়– সে দেখে নেবে।

দিন কয়েক পর, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সে একেবারে তার বড়কর্তা সমেত হাজির হল নাঙ্গেলির সুখি গৃহকোণের ছোট্ট উঠোনে। নাঙ্গেলি সেই বড়কর্তার সামনেও এলেন বুক ঢেকে। বড়কত্তা বললেন, “নিচু জাত হয়ে বুক ঢেকেছ যে বড়! সেদিন রাস্তায় তোমার গ্রামের প্রভাথিয়ারকে বুক খুলে সালামও জানাওনি শুনেছি। এখন কাপড়খান খোলো, তোমার স্তনের আকার-ওজন দেখে বুঝে ‘মুলাকরম’ ঠিক করি, তারপর দেমাক দেখিয়ে ঘুরো।”

এইসব নিরীক্ষার সময়ে তাঁদের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও মহিলা পরিদর্শক থাকতেন না। ঘৃণ্য কাজটি করতেন একদল পুরুষ। অনেক সময়েই পরিদর্শনের আছিলায় বুকে হাত দিয়ে ওজন-আকার বোঝার ভান করে যৌনহেনস্থাও করা চলত বলাই বাহুল্য। কিন্তু উচ্চবর্ণের মানুষের ওপর কথা চলে না। যুগ যুগ ধরে সবাই যা মেনে নিয়েছে, তা মেনে নেওয়াই ছিল ভবিতব্য।

মোড়ল এবং বড়কত্তা ভেবেছিলেন, নিচুজাতের এই ‘মাগি’কে বেশ কড়কে দেওয়া গেল। এর সংসারের যা অবস্থা, বেশ বোঝাই যাচ্ছে কতটা মুলাকরম দিতে পারবে! বেশ ভালরকম একটা দাম হাঁকলেই দেমাক পাখি হয়ে উড়ে যাবে। তারপর বুক খুলে ঘুরবে আর আমরা চোখ দিয়ে চাখব।

নাঙ্গেলি বললেন, ‘দাঁড়ান, আমি ঘরে গিয়ে বুকের কাপড়টা রেখে আসছি। মুলাকরম-এর দক্ষিণাও আসছি।’ ঘরে ঢুকে কুলুঙ্গি থেকে বের করলেন, চকচকে শান দেওয়া হাঁসুয়া। তারপর বুক দু’টি নিপুণ হাতে কেটে, একটা কলাপাতায় মুড়ে, ভেতর থেকে ডাকলেন প্রভাথিয়ারকে। ততক্ষণে ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। প্রভাথিয়ার ঘরে ঢুকতে গিয়ে এই বীভৎস দৃশ্য দেখে আর্ত চিৎকার করে উঠলেন। পড়িমড়ি করে সেখান থেকে পালালেন কোনওমতে। অবস্থা বেগতিক দেখে বড়কত্তাও সেখানে রইলেন না। প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে ছুটে এলেন। তাঁদের সাধ্যমতো যথাসাধ্য শুশ্রূষার চেষ্টা করলেন বটে, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাঙ্গেলির সেখানেই মৃত্যু হল।

শুনুন পুরো কাহিনি…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল