‘বাবা শিখিয়েছিলেন ধর্মের মুখোশ পরে না থেকে সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে’: মীর

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 7, 2021 6:04 pm|    Updated: May 10, 2021 2:11 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 7, 2021 6:04 pm Updated: May 10, 2021 2:11 pm

প্রথম সবকিছু-র হিসেব সবার না-ও থাকতে পারে। তবে অনেকেই কিন্তু ধূসর দিনলিপির পাতায় আর হলদেটে স্মৃতির খাতায় সেসব সযত্নে তুলে রাখেন। চিলেকোঠার ঘরে লুকিয়ে আনা আচারের মতো আস্তে আস্তে রোমন্থন করেন। শিল্পীর কাছে তাঁর পয়লা অনুপ্রেরণাটি বরাবরই উদ্‌যাপনযোগ্য– যাকে বলে ‘চেরিশেব্‌ল’। সেরকমই কিছু অনুপ্রেরণার কথা তুলে ধরলেন সংগীত ও সাহিত্যদুনিয়ার তারকারা। ‘প্রথম ভাললাগা’ বিভাগে সেসব মণিমুক্তো সংগ্রহ করে রাখল টিম ‘শোনো’।

রেডিও জকি ও সঞ্চালক মীর জানাচ্ছেন, ‘বিনাকা গীতমালা’ শুরু হলে আর কোনও কাজেই মন বসত না। বাড়ির সবাই জানতেন এই অনুষ্ঠানের সময় ছেলেকে পড়তে বসতে বলা যাবে না। শুধু পড়া কেন, ওই সময় কোনও কাজই করানো যাবে না। আমিন সায়ানীর কথা বলার ধরণ, তাঁর অনুষ্ঠানকে এক সুতোয় গেঁথে রাখা মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত তাঁকে। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু। কোন কথাকে কীভাবে বললে শুনতে ভাল লাগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চলত তার প্র‌্যাকটিস।
শনি-রবিবার ছিল সবথেকে মজার। ওইদিন সকাল থেকে রাত পর্ষন্ত মীরের রেডিও শোনার সঙ্গী থাকতেন বাবা-মা। কোনও টেনশন নেই। আজ তো আর বাবা ‘পড়তে বোস’ বলে বকাঝকা করবেন না। ওই দুটো দিন বিজ্ঞাপনদাতা দ্বারা আয়োজিত নানা অনুষ্ঠান থাকত। থাকত ধারাবাহিক নাটক, গল্প। একটা গল্প দশ মিনিট হওয়ার পর বাকি অংশটা ফের পরের সপ্তাহে। মাঝের দিনগুলি কাটত চরম উৎকণ্ঠায়, যতক্ষণ  না শেষ পর্ব হচ্ছে টানটান উত্তেজনা থাকত।

শ্রাবন্তী মজুমদারের উপস্থাপনায় ‘বোরেলীনের সংসার’, ওয়েসিসসের ‘মনের মত গান মনে রাখা কথা’ শুনতে শুনতে কেটে যেত অনেকটা সময়। সকালবেলা ‘বর্ণালী’ থেকে শুরু করে রাত ১১টা অবধি চলত রেডিও শোনা। মীর জানাচ্ছেন, তখন মনে মনে নিজের সঙ্গে কথা বলা বলপতেন তিনি: ‘আমি কি পারব শুধু কথা বলে এইভাবে মানুষের মন জয় করতে’? রেডিও জকি হওয়ার ধোঁয়া ধোঁয়া ইচ্ছেটা তখন ডানা মেলতে শুরু করেছে।

একদিন রিক্সায় বাড়ি ফিরছেন, হাতে ঠোঙা। অভ‌্যাসবশত চোখ বেলাতে শুরু করলেন। একটা জায়গায় হঠাৎ চোখ আটকে গেল। একটা বিজ্ঞাপন। রেডিও জকির। ভয়েস রেকর্ড করে পাঠাতে হবে, হাতে মাত্র একদিন সময়। কোনও টেপ রেকর্ডার ছিল না। অগত‌্যা বন্ধুর কাছ থেকে টেপ রেকর্ডার ধার করে ভয়েস রেকর্ড করে পৌঁছে গেলেন রেডিও স্টেশনে। একেবারে শেষ দিনে জমা দিচ্ছেন, মনে হয়েছিল এতদিনে সিলেকশন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওই রেকর্ডিংটাই ম‌্যাজিক করল। ফোন এল মীরের কাছে, এফএম-এর উপস্থাপক হিসাবে তাঁকে নির্বাচন করা হয়েছে। এবার ভাগ‌্যের দরজা খুলে গেল।

এরপর কীভাবে বদলে গেল মীরের জীবন, শুনে নিন…

লেখা: শ্যামশ্রী সাহা
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল