প্রাচীন চিনের যৌনাচার ও ‘কাম-শিল্প’ বিষয়ে এক বাঙালি বুদ্ধিজীবীর অনুসন্ধান

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 23, 2021 4:19 pm|    Updated: April 24, 2021 12:25 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 23, 2021 4:19 pm Updated: April 24, 2021 12:25 am

ভারত এবং চিনের সংঘর্ষকালীন সেই দিনে, চিনের সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে যৌনতার ইতিহাস লিখনে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন চিন্ত্যক আশিস বসু। ১৯৬৭ নাগাদ তিনি ‘প্রাচীন চিনের যৌনচিন্তা’ নামের একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। ১৩৬৮ থেকে ১৬৪৪ সাল পর্যন্ত প্রসারিত চিনের মিং বংশের রাজত্বকালীন যৌনতার ইতিহাস লিখতে চেয়েছিলেন অধ্যাপক বসু। আশিসবাবুর মতে, এই সময় যৌনতার নানান ধরণ-ধারণ খুঁজতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছিলেন চৈনিক নাগরিকেরা। বিশেষ করে পীড়নের মাধ্যমে রতিতৃপ্তি অর্থাৎ ‘স্যাডিজম’ (Sadism)-এর নানা খবরা-খবর পাওয়া যাচ্ছিল চিন দেশীয় নর-নারীদের থেকে। অধ্যাপক বসু অবশ্য ‘স্যাডিজম’-কে অবশ্যই ‘যৌন বিকৃতি’ বলেই মনে করতেন। কিন্তু তাঁর এই ভাবনার মধ্যে আলাদা করে চিনের সংস্কৃতি’কে ছোট করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। বরং সেদিনের সামাজিক জীবন তথা যৌনতা সংক্রান্ত চর্চার জগতে ‘স্যাডিজম’ একটি অপরাধ বিশেষ বলেই অনেক ক্ষেত্রেই গণ্য হত। যৌনতার ইতিহাসে যা সর্বাপেক্ষা জরুরী, সেটি হল যৌনতার প্রকাশ। আর সেই প্রকাশে সাহিত্য বড় ভূমিকা গ্রহণ করে।

আমাদের যৌনতা সংক্রান্ত কল্পনা বা চাহিদা যা বাস্তব জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তির নৈতিক এবং সামাজিক নানান অনুশাসনের কারণে পূরণ করা সম্ভব হয়না, সেই অপূর্ণতা, সাহিত্যের অনুশীলনের মাধ্যমে তীক্ষ্ণ বেগে বেরিয়ে আসতে পারে। যৌন আনন্দের এই প্রকাশকে একমাত্রিক ভাবে শুধুমাত্র অবদমন থেকে মুক্তি ভাবলে আমরা মস্ত বড় ভুল করব। বরং যৌনতার মধ্যে যুগপৎ যে আনন্দ এবং ভীতির পরিসর থাকে তাকে সমবেত ভাবে গ্রহণের মাধ্যমেই যৌনতার আসল রহস্য লুকিয়ে আছে। রক্ত মাংসের নারী পুরুষ যৌনসুখের মুহুর্তে যেমন তীব্র আনন্দের মধ্যে বিরাজ করে, তেমনই তার মনের মধ্যে যুগপৎ ভীতি ও জিজ্ঞাসা কাজ করে, সে তার পছন্দের পুরুষ বা নারীটিকে সম্পূর্ণ সুখ দিতে পারল কী! আসলে বাস্তব জীবনে ‘সম্পূর্ণ-সুখ’ নামক একটি অলীক ধারণার প্রতি আমরা অনবরত ছুটে চলি। যৌনতার মধ্যে যে অপূর্ণতার রহস্য থাকে তাই আসলে সাহিত্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা যৌন আনন্দের প্রতি অনবরত তাড়া করে বেড়ায় আমাদের।

অধ্যাপক বসু লিখেছেন, চিনের মিং বংশের রাজত্বকালেই রচিত ‘চিং পিং মেই’ অর্থাৎ ‘সোনার পদ্ম’ গ্রন্থটি যৌন উত্তেজক রচনা হিসেবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। চিনের নর-নারীদের যৌন চাহিদা বিষয়ক তথ্যের খনি ছিল এই গ্রন্থটি। এই রচনায় একজন ধনী ওষুধ বিক্রেতা ও তাঁর ছয় স্ত্রী’র কথা বলা ছিল। গ্রন্থের প্রস্তাবনা অংশেই রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, পাঠক যেন এই গ্রন্থ পাঠ করে যৌন বিষয়ে অতি বেশি নিবিষ্ট না হয়ে পড়েন। গ্রন্থ আরও চেতবানী দেওয়া হয়েছে যে—এই পুস্তক আপনাদের সামনে যে আনন্দের পথ খুলে দিচ্ছে, ঐ পথই আসলে আপনাকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যেতে পারে।

তারপর? শুনুন…

লেখা: বিজলীরাজ পাত্র
পাঠ: অনুরণ সেনগুপ্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল