পদ্মশ্রী না হয় পেলাম, তার চেয়েও জরুরি দু’বেলা দু’মুঠো খাবার-আর্তি কনক রাজুর

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 28, 2021 3:15 pm|    Updated: January 28, 2021 9:43 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: January 28, 2021 3:15 pm Updated: January 28, 2021 9:43 pm

মাথায় কিছু একটা; লাল মাফলার জাতীয়। ফেট্টির মতো করে বাঁধা। ভাঙা চোয়াল। মায়াভরা চোখ। সকরুণ চাহনি। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে, এক প্রচণ্ড ঝামরানো সমুদ্রের ক্লান্ত অন্ধকার বুঝি আছড়ে পড়েছে তাঁর গায়ে! আর নিরুপায় হয়ে তা আগলে রেখেছেন তিনি। মুখে কথা নেই। চোখে আর্তি।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এরকমই একটা ছবি ঘুরছে সদ্য পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী কনক রাজু। তেলেঙ্গানার এই আদিবাসী বৃদ্ধ প্রাচীন লুপ্তপ্রায় গুসাডি নাচকে সারা দেশের সামনে তুলে ধরেছেন। এবারের ১০২ জন পদ্মশ্রী–প্রাপকের মধ্যে রয়েছে তাঁর নাম। তেলেঙ্গানা থেকে স্রেফ কনকই পদ্মশ্রী পেয়েছেন। আপ্লুত গোটা রাজ্য। দেশও। নিজের গ্রাম তো বটেই, আশপাশের গ্রামেও মিষ্টি বিলিয়েছেন কনকের গ্রাম মারলাভাইয়ের বাসিন্দারা। কিন্তু নিজে যেন খুশি হয়েও খুশি নন কনক; ওরফে ‘গুসাডি রাজু’। গালে লেগে থাকা কান্নার শুকনো দাগের মতোই নির্বিকার মুখশ্রী। তাতে আনন্দের সংযত বহিঃপ্রকাশ। আদতে জানেনই না ‘পদ্মশ্রী’ কী; খায়, না মাথায় দেয়! স্তিমিত স্বরে জানাচ্ছেন কনক: পদ্মশ্রী নয়, বরং সরকার যদি তাঁকে দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়া–থাকার বন্দোবস্ত করে দিত, তাতেই অধিক খুশি হতেন। ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানপ্রাপ্ত মানুষটির এই ট্র‌্যাজিক আর্তি নাড়িয়ে দিয়েছে সারা দেশকে। শুনে নেব তাঁরই কাহিনি।

তেলেঙ্গানার কুমার ভীম আসিফাবাদ জেলার মারলাভাই গ্রাম। গ্রামের ছ’একর জমিটুকু সম্বল। জমিতে এক–দু’ছটাক ফসল ফলিয়ে চলে যায় কোনওমতে। তাও কি আর সারা বছর? নির্দিষ্ট কোনও জীবিকা নেই সে অর্থে। অতএব নেই গতে বাঁধা রোজগারও। তা সত্ত্বেও ১১ জনের পেট চালাতে হয়। নুন আনতে পান্তা ফুরোনো–র শীর্ণকায় সংসারে কনকই একমাত্র রোজগেরে।

তা কীভাবে চালান ষাটোর্ধ্ব মানুষটি?

স্থানীয় বাচ্চাকাচ্চাদের নাচ শিখিয়ে সামান্য কিছু আয় হয়। সাধ্যেসামর্থ্যে কুলোলে ‘মাস্টারজি’র হাতে দু’–এক টাকা তুলে দেয় তারা। বাকি সময় এক স্থানীয় ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার হস্টেলে দিনভিত্তিক রাঁধুনীর কাজ করেন কনক। এই অনিশ্চিত–যাপনের ক্যাকোফোনিই যেন বাজতে থাকে তাঁর স্বরে–সুরে। পদ্মশ্রী পাওয়ার পরও যে–স্বর নির্লিপ্ত। নির্লিপ্তির উচ্চগ্রাম থেকে বলেন কনক, ‘জানিই না এই পুরস্কার কী, কিন্তু রাজধানী দিল্লিতে অতজনের মধ্যে আমার নাম আসায় আমি খুশি। তবে কেন্দ্রীয় সরকার একটু থাকার জায়গা আর খাবারদাবারের বন্দোবস্ত করে দিলে এর চেয়ে অনেক বেশি খুশি হতাম।’ গন্ড আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি মানুষটির আরেকটু সংযোজন, ‘যদি এই পুরস্কার আমার জীবনে খুশি এনে দিতে পারে, আমি চিরটা কাল কৃতজ্ঞ থাকব।’ তারপর? শুনুন…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল