স্বামীজি মনে করতেন, অভুক্ত মানুষকে খাওয়ানোই ধর্ম

Published by: Sankha Biswas |    Posted: December 8, 2020 8:20 pm|    Updated: December 8, 2020 8:20 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: December 8, 2020 8:20 pm Updated: December 8, 2020 8:20 pm

পাঞ্জাব ও হরিয়ানার আন্দোলনরত কৃষকরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, দরকারে অভুক্ত থাকবেন, তবু সরকারের দেওয়া খাদ্য গ্রহণ করবেন না। অন্তত ছ’মাসের রেশন সঙ্গে এনেছেন বলে তাঁদের দাবি। এই প্রসঙ্গে আমরা ফিরে দেখতে পারি স্বামী বিবেকানন্দর জীবনচরিত। অনাহার, অর্ধাহারের ঘটনা তাঁর জীবনেও বারবার ঘটেছে। মঠ ও মিশনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তপোক্ত করে তুলতে যে পরিশ্রম তাঁকে করতে হয়েছিল, তাও অভাবনীয়। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। বরং অনাহার ও অর্ধাহারের দিনগুলি তাঁকে আরও বেশি করে এই দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে একাত্ম করে তুলেছিল।

স্বামীজি উপলব্ধি করেছিলেন, ধর্ম মানে শুধু মহৎ চিন্তার মন্থন নয়। ক্ষুধার্তের ক্ষুধার নিরসন করাও ধর্মচিন্তার অংশ। কেননা খালি পেটে ধর্মবোধের জাগরণ ঘটানো যায় না। সামাজিক বঞ্চনার অবসান ঘটানো যেমন তাঁর কাছে প্রাধান্য পেয়েছিল, তেমনই তিনি জোর দিয়েছিলেন সবল, আত্মশক্তিতে ভরপুর জাতি গঠন করে তুলতে। নিরন্ন ভারতবাসীকে ‘আপন’ করে নেওয়ার ব্রত, তাঁর সেই ধর্মভাবনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে।

স্বামীজির বাবার অকালমৃত্যু হয়েছে। তখন পারিবারিক অভাব চরমে। সেই সময় কেমন ছিল তাঁর দিনযাপন! স্বামীজির কথায়: “প্রাতঃকালে উঠিয়া গোপনে অনুসন্ধান করিয়া যেদিন বুঝিতাম, গৃহে সকলের পর্যাপ্ত আহার নাই, সেদিন মাতাকে ‘আমার নিমন্ত্রণ আছে’ বলিয়া বাহির হইতাম এবং কোনোদিন সামান্য কিছু খাইয়া, কোনোদিন অনশনে কাটাইয়া দিতাম। অভিমানে ঘরে-বাহিরে কাহারাও নিকট ওইকথা প্রকাশ করিতেও পারিতাম না।”

একবার বৃন্দাবন থেকে গিরিগোবর্ধন পরিক্রমা-কালে স্বামীজি সংকল্প করলেন, না চেয়ে ভিক্ষা মিললে তবেই তিনি সেই ভিক্ষান্ন দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করবেন। কারও কাছে কিছুই চাইবেন না। প্রথম দিন দ্বিপ্রহরে ক্ষুধার তাড়না অসহ্য হয়ে উঠল, সঙ্গে আবার বৃষ্টি দোসর। পথশ্রমে দুর্বল সন্ন্যাসী শুনলেন, কে যেন পিছন থেকে তাঁকে ডাকছেন। ক্ষুধার্ত বিবেকানন্দ প্রথমে ছুটতে লাগলেন, পিছনের লোকটিও ছোটা শুরু করেছেন, এবং সন্ন্যাসীকে ধরে ফেলেছেন, তারপর? শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল