নিজের হাতে রাঁধা ধানি লঙ্কার ঝোল খাইয়ে গুরুভাইয়দের গলা-খুসখুস সারাতেন, রসনারসিক স্বামীজির কাহিনি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 23, 2021 10:07 pm|    Updated: March 23, 2021 10:13 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 23, 2021 10:07 pm Updated: March 23, 2021 10:13 pm

জাতপাত নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দর যেমন কোনও কুসংস্কার ছিল না তেমনই খাওয়াদাওয়া নিয়েও বাছবিচার ছিল না কোনও। গুরুভাইদের সংস্কারমুক্ত করতে একদিন সদলবলে হাজির হলেন মিনার্ভা থিয়েটারের কাছে পিরুর হোটেলে আর অর্ডার দিলেন ফাউল কারির। কুসংস্কার ভাঙার ব্রতে গুরুভাইয়েরা একটুআধটু মুখে ছুঁইয়ে সবিস্ময়ে নরেন্দ্রনাথের খাওয়া দেখলেন। দেখলেন, কীভাবে নরেন পুরো খাওয়াটাই উদরস্ত করে ফেলেছেন। নরেনের হোটেলে খাওয়া নিয়ে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, ‘নরেন খেতে পারে, ওর ভিতর আগুন জ্বলছে, কাঁচা কলাগাছ দিলেও পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’

সন্ন্যাসী হয়েও আজীবন মাংসাহারের পক্ষে লড়াই করে গিয়েছেন। মাংসাহার সম্বন্ধে ভারতীয়দের সংস্কার বহুবার তাঁর বিদ্রুপ ও কৌতুকের লক্ষ্য হয়েছে। তাঁর মহাপ্রয়াণের পরে চরম প্রতি-বিদ্রূপ করেছিল একটি প্রথম শ্রেনির বাংলা পত্রিকা। ওই কাগজের শোকসংবাদের শিরোনাম ছিল– A Meat Eating Swami. শঙ্করীপ্রসাদ তাঁর গ্রন্থে এই প্রসঙ্গে লিখলেন, ‘আমাদের মনে হয়, স্বামীজি স্বর্গ থেকে (যদি স্বর্গ থাকে) প্রচুর হেসে ছিলেন, সৎসঙ্গে অর্থাৎ বুদ্ধদেবের কাছে বসে- কারণ শ্রীবুদ্ধের দেহান্ত হয় শূকর মাংস থেকে।’

চিংড়িমাছ দিয়ে পুঁইশাক নরেন্দ্রনাথের বড় পছন্দের ছিল। গোলাপ-মা বাগবাজারে ‘মায়ের বাড়ি’তে একদিন পরিবেশন করতে করতে হেসে কুটোপাটি। বলছেন এই বিশেষ পদটি রাঁধলে নরেনের কথা ওঁর মনে পড়ে যায়। “পাতে দিলে একগাল হেসে সে বলত, ‘গোলাপ-মা-জুতো জুতো। এর তুলনা নেই’।” শঙ্করীপ্রসাদ তাঁর গ্রন্থে এই সব তথ্যের উল্লেখ করেছেন।

শোনা যায় স্বামীজির দুপুরের মেনুতে পছন্দ ছিল– ভাতের সঙ্গে মাছের শুক্তুনি, মাছের ঝোল, মাছের টক, আর শেষ পাতে দই, মিষ্টি। তবে স্বাস্থ্যে কারণে মিষ্টি বারণ হয়ে যায়। বিশেষ পছন্দের মাছ ছিল কই, ইলিশ আর চিংড়ি। কত যে গল্প লিখেছেন কথাকারেরা তাঁর এই সব মাছ খাওয়া নিয়ে!

একবার স্বামীজির বাঙাল শিষ্য শরৎচ্চন্দ্রক্কে তিনি নির্দেশ দিলেন, ‘তোদের দেশের মতন করে রান্না করতে  হবে।’ শিষ্য মন দিয়ে রান্না করছেন আর স্বামীজি মাঝে মাঝে এসে দেখে যাচ্ছেন কী প্রক্রিয়ায় রান্না হচ্ছে। তামাশা করে বলছেন, “দেখিস মাছের ‘জুল’টা যেন ঠিক বাংলাদিশি ধরনের হয়।”

কেমন ছিল তাঁর ‘ফুড হ্যাবিট’?
শুনে নিন…

লেখা: আলপনা ঘোষ
পাঠ: সঞ্জিতা মুখোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল