চাকচিক্যহীন এই পকেট-ফ্রেন্ডলি ‘বন্ধু’র প্রতি একপেশে ছিলেন সত্যজিৎ রায়

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 12, 2021 8:39 pm|    Updated: March 12, 2021 8:39 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 12, 2021 8:39 pm Updated: March 12, 2021 8:39 pm

কলকাতার একটি অ‌্যাম্বাসাডরকে বিশেষ শ্রদ্ধায়-ভালবাসায় দেখি।

তাঁর গাড়ি তো!

দু’-একবার দেখেছিও তাঁকে, সাঁই করে চলে যেতে।

কখনও বসেন না পিছনের সিটে। সব সময়েই সামনে। ড্রাইভারের পাশে। পিছনের তিনি তাঁর ছ’ফুট দুই বা তিনকে ভাঁজ করে কুলিয়ে নিতে পারেন না। তাই সামনের সিটটিকে যথাসম্ভব পিছনে ঠেলে সম্পূর্ণ সরণি-নির্লিপ্ত তিনি সামনের আসনে। পা মেলে বসতে পারেন শুধু অ‌্যাম্বাসাডরের সামনেই।

এই গাড়ি থেকে একদিন সত‌্যজিৎ রায়কে নামতে দেখলেন কমলকুমার মজুমদার। বললেন, আপনাদের ওই লম্বা মানুষটিকে আজ তাঁর গাড়ি থেকে নামতে দেখলাম।

নামছেন তো নামছেন তো নামছেন তিনি!

মজুমদার-মহাশয়ের বর্ণনায় রায়মহাশয় যেন এক অন্তহীন সরীসৃপ! অত বড় একটি মানুষের আর কোথায় জায়গা হতে পারে অ‌্যাম্বাসাড় ছাড়া?

সত‌্যি, অন‌্য কোনও গাড়ি চড়তে দেখিনি সত‌্যজিৎ রায়কে। একবার শুটিংয়ে ঘটল এক আশ্চর্য ঘচনা। সত‌্যি মনে রাখার মতো দৃশ‌্য।

খুলে ফেলা হয়েছে অ‌্যাম্বাসাডরের ‘ডিকি’ বা টায়ার বা মাল বা লাগেজ রাখার জায়গা। একমাত্র ভারতেই গাড়ির পিছনের ওই জায়গাটাকে কেন জানি না ‘ডিকি ’বলা হয়। ব্রিটেনে ‘dicky’ হল ড্রাইভারের সিট কিংবা গাড়ির পিছনে ফোল্ডিং বা পাট করা আসন। গাড়িতে লাগেজ রাখার জায়গাটিকে সর্বত্র বলা হয়, ‘ট্রাঙ্ক’।

অ‌্যাম্বাসাডরের ওই পিছনের ঢাকনাটি যে কত বড় একটি গহ্বরকে ঢেকে রাখে, সেদিন বুঝেছিলাম।

সত‌্যজিৎ রায় তাঁর ছ’ফুট প্লাসের সবটুকু পরিপাটি করে পাট করে আধশোয়া হয়ে সেঁধিয়ে গেলেন ওই গহ্বরে।

তারপর উঠল তাঁর বিপুল অ‌্যারিফ্লেক্স ক‌্যামেরা। তিনি সেটিকে কোলের কাছে দিব‌্য শিশুর মতো আঁকড়ে নিলেন। দেখলাম, তখনও জায়গা আছে। সত‌্যি গেরস্তপোষ গাড়ি হয়েও অ‌্যাম্বাসাডর যে ছিল আয়তনে ও বহন ক্ষমতায় আদর্শ ‘ফ‌্যামিলি কার’ তাতে সন্দেহ নেই।

এহেন গাড়িকেই বাংলা সাহিত‌্যে অমর করে রেখে গেলেন সত‌্যজিৎ। তাঁর প্রিয় গাড়ি অ‌্যাম্বাসাডরকে এইভাবেই জানালেন কুর্ণিশ…

কীভাবে? শুনুন পুরো গল্পটি…

লেখা: রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: শুভ্র দত্ত
আবহ: শুভাশিস চক্রবর্তী

পোল