সত্যজিতের অরণ্যের দিনরাত্রি’র আশ্চর্য খেলা, মেমরি গেম; পঞ্চাশ বছর পর ফিরে দেখা

Published by: Sankha Biswas |    Posted: March 1, 2021 7:45 pm|    Updated: March 1, 2021 7:45 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: March 1, 2021 7:45 pm Updated: March 1, 2021 7:45 pm

এর নাম ওকে, ওর নাম তাকে—প্রথমটায় চার যুবকের নাম ডাকাডাকিতে গোলমালের একশেষ করেন মিসেস ত্রিপাঠী। অসীমকে সঞ্জয়, সঞ্জয়কে শেখর—সদ্য পরিচিত যুবকদের নামগুলো তখনও তাঁর ধাতস্থ হয়নি। মিসেস ত্রিপাঠীর স্মরণশক্তির দীনতায় কে যে কোনজন গুলোয় সব। যেন-বা সফলকাম, উচ্চাভিলাষী, ঈষৎ আত্মম্ভরী অসীম কিংবা বহুদিন-মৃত, অখ্যাত এক সাহিত্য-পত্রিকার একদা সম্পাদক, মৃদুভাষী সঞ্জয় কিংবা প্রেমে সদ্য চোট-খাওয়া ক্রিকেটার, বিষণ্ণ হরি কিংবা বন্ধুদের দাতব্যে নির্ভরশীল, চাকরি-শুন্য, কপর্দকহীন স্বভাব-কমেডিয়ান শেখর—চারজনেরই নাম পরিচিতি ক্ষণিকের জন্য উহ্য-স্থগিত হয়ে যায়। এরপর, মিসেস ত্রিপাঠীই প্রস্তাব করেন, রেস্ট-হাউসের নিরিবিলি বাগানে, গড়িয়ে-চলা আলতো দুপুরটা খেলা-খেলায় কাটিয়ে নেওয়া যাক। কিন্তু আবার সেই বিস্মরণ! মিসেস ত্রিপাঠী তাঁর পছন্দের খেলাখানির নাম কিছুতেই মনে আনতে পারেন না। সাহায্যের জন্যে ফেরেন সঙ্গিনী রিনির দিকে—কিন্তু তাঁর ননদিনী রিনি তখন আনমনা, চোখে কালো চশমা, তাকিয়ে সে অন্য পানে। অসীম অবশ্য আঁচ করতে পারে মিসেস ত্রিপাঠী কোন্ খেলার কথা বলছেন।

খেলার নাম: ‘মেমরি গেম’। নিয়ম তার: একজন কেউ প্রখ্যাত কোনো ব্যক্তির নাম দিয়ে মুখপাত করবে খেলার; পরের অংশীদার সে নামটি বলে আর এক মহাজনের নাম আওড়াবে; এইভাবে এগোবে খেলা।

পরিস্থিতি সত্যি চমকদার—শ্লেষের প্রচুর রসদ মজুত ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র স্মৃতি আমোদিত দুপুর দৃশ্যে। সাল ১৯৭০—সাতের দশক, মুক্তির দশকের সূচনাতেই এল তার অন্যতম সাংস্কৃতিক দলিল, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’। কলকাতার চার যুবক সাঁওতাল পরগণায়। নিজেদের থেকে নিজেদের মুক্তি দিতেই অসীম-শেখর-হরি-সঞ্জয়ের সাময়িক এ স্বেচ্ছা-বনবাস—সামাজিক পরিচ্ছদ, আঁটোসাঁটো নাম-শাসনের যত যা বেড়ি সমস্ত খুলে, দেদার উলঙ্গ, বন্য হওয়ার অভিলাষ তাদের।

এমনই কপাল লজ্জাভূষণবিরল, আদিম সরলা বালা নয়, বেমক্কা একদিন চার যুবক পড়ে গেল দুই অতি-সভ্য বাঙালিনির নয়নপথে। তবে, আচারে-ব্যাভারে প্রখর উন্নত হলেও, সে দু-নারীও–মিসেস ত্রিপাঠী ও রিনি—কম আকর্ষক নয়। অমোঘ তাদের আকর্ষণেই তো, বিস্মরণ-ব্যাকুল কলকাতার চার যুবক, (ইচ্ছের বিরুদ্ধেই) বাধ্য হয় স্মৃতি জাগানে খেলা ‘মেমরি গেম’-এ অংশ নিতে।

শুনুন তারপর…

লেখা: শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল