রোজ দুপুরে খেতে বসে মৃত স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেন প্যারীচাঁদ মিত্র

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 23, 2021 2:22 pm|    Updated: May 23, 2021 3:37 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 23, 2021 2:22 pm Updated: May 23, 2021 3:37 pm

গৃহকর্তা স্নান আহ্নিক সেরে রোজ দুপুরে যখন খেতে বসেন, পেল্লাই কাঠের দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। তাঁর খাওয়ার সময় কেউ ঘরে ঢুকুক এটা তিনি চান না। চান না, যে ঘরে তিনি খান তার আশেপাশেও কেউ ঘোরাফেরা করুক। তাঁর ছেলেরাও এ বিষয়ে তাঁদের স্ত্রীদের খোলসা কোরে কিছু বলেনা । শুধু বলে, ‘দেখো, বাবার আদেশ যেন অমান্য না হয়’। বাড়ির বউয়েরা তাই শ্বশুরমশাইয়ের আদেশ অমান্য করেন না।

ঘরের মধ্যিখানে  কাঠের বেদীর ওপর এক্টা মার্বেল পাথরের টপ। তার ওপর রুপোর থালা, কাঁসার গ্লাস আর রূপোর বাটিতে পঞ্চব্যাঞ্জন সাজিয়ে দিয়ে তাঁরা চলে আসেন। কিন্তু বাঁধ মানেনা, গৃহকর্তার এগারো বছর বয়সী কিশোরী ভাইঝির। হাজার বারণ সত্বেও, সে প্রায়ই ওই খাওয়ার ঘরের দাওয়ায় ঘোরাফেরা করে। গৃহকর্তা ধমক দেন, কিন্তু সেও নাছোড়।

এমনই একদিন দুপুরের গৃহকর্তার মধ্যাহ্ন ভোজন চলছে। ঘরের মধ্যে থেকে  মৃদু গল্পের আওয়াজ ভেসে আসছে। এরকম ফিসফিসয়ে গল্পের আওয়াজ আগেও কয়েকদিন শুনেছে কিশোরী ভাইঝি। কিন্তু কার সঙ্গে গল্প করেন জ্যাঠামশাই! ঘরের সব জানলাগুলো পম আঁটা থাকে। একটা জানলায় সে পিঁপড়ের গর্ত পেয়েছে, সেখান দিয়ে যা হোক করে এক চোখে দেখা যায়। চুপিচুপি, পা টিপে টিপে এসে, জানলায় চোখ রাখল, মেয়েটি। সব দরজা জানলা বন্ধ থাকায় ঘরে আবছা অন্ধকার। তার মধ্যেই দেখল, লাল পেড়ে গরদের শাড়ি, হাতে শাঁখা পলা সোনার বালা, কপালে সিঁদুর। ঠিক যেমনটি তিনি থাকতেন, তেমন করেই তার জ্যাঠামশায়ের পাশে বসে আছেন তার জেঠিমা। কিন্তু এও কী সম্ভব! জেঠিমা গত হয়েছেন দু বছর আগে। আতঙ্কে ভয়ে উৎকণ্ঠায় কিশোরী কন্যাটি, ‘জ্যাঠামশাই আপনি কী করছেন!’ বলে চিৎকার করে মূর্ছা গেল। গৃহকর্তা তড়িঘড়ি খাওয়া ফেলে ছুটে এলেন। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে পুত্রবধূদের বললেন, ‘তোমাদের কতদিন বলেছি, খাওয়ার সময়, এই ঘরের আশেপাশে যেন কেউ না আসে!’

তারপর শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল