নিউ ইয়র্কের নিলামে একশো তিন মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হল পিকাসোর অন্যতম প্রেমিকা মারি তেরেসা ওয়াল্টারের প্রতিকৃতি, কেমন ছিল তাঁদের সম্পর্ক!

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 16, 2021 11:11 pm|    Updated: May 16, 2021 11:22 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 16, 2021 11:11 pm Updated: May 16, 2021 11:22 pm

আমেরিকার ক্রিস্টিশ আর্ট ডিলার সংস্থার দফতর থেকে বিখ্যাত শিল্পী পাবলো পিকাসোর তেল রঙে আঁকা ছবি, যেটির স্প্যানিশ শিরোনামের ইংরেজি তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘Woman sitting near a window’, সেই ছবিটি মাত্র উনিশ মিনিটের নিলামে বিক্রি হয়ে গেল একশ তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৭৫৪ কোটির বেশি। টাকার অঙ্ক শুনে নিশ্চয় কানে ঝিলমিল লেগে গেছে!

কিন্তু অবিশ্বাস করতে চাইলেও উপায় নেই। এত বিপুল দামেই বিক্রি হয়েছে ছবিটি। উদ্যোক্তারা অবশ্যি এতটা আশাই করেননি। গত দু বছরে একশ মিলিয়ন ডলারের ধারে কাছে কোনও ছবির দাম পৌঁছয়নি। আট বছর আগে লন্ডনের একটি এগজিবিশন থেকে তাঁরাই এই ছবি কিনেছিলেন ৪৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাজারের যা অবস্থা তাতে উদ্যোক্তাদের আশা ছিল ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সর্বোচ্চ দাম হতে পারে। কিন্তু অকশনের লাইভ স্ট্রিমিং শুরু হতেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবিশ্বাস্য সব দামের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। শেষমেশ রফা হয় একশ মিলিয়ন পেরিয়ে।

পিকাসোর ছবি বিক্রির ক্ষেত্রে একটা একশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্লাব আছে বলা চলে। এই নিয়ে পিকাসোর পাঁচ নম্বর ছবি যা একশ মিলিয়নের বেশি দামে বিক্রি হল। এর আগে  ‘ন্যুড গ্রিন লিভস এন্ড বাস্ট’, ‘দ্য ড্রিম’ এরকম পাঁচটি ছবি নানা সময়ে এবং এখনও বিক্রি হল। প্রতিটিই একজন নারীকে কেন্দ্র করে আঁকা। তাঁর কথা বা তাঁর সঙ্গে পিকাসোর সম্পর্কের ইতিবৃত্ত না বললে ছবির ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকে।

এর আগে বিক্রি হওয়া পিকাসোর সবচেয়ে দামি ছবি, ‘ওমেন অন অ্যালগায়ের্স’ ২০১৫ সালে বিক্রি হয়েছিল, একশ ঊনআশি মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আশ্চর্যের কথা সেখানেও তাঁর মিউস বা মডেল ছিলেন, সেই নারীই। তাঁর প্রেমিকা, মারি তেরেসা ওয়াল্টার।

পিকাসোর সঙ্গে মারির দেখা হয়েছিল প্যারির একটি বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ‘গ্যালেরেইস ল্যাফ্যায়েতে’-র সামনে। তদ্দিনে পিকাসো প্রচুর কাঠ খড় পুড়িয়ে বিয়ে করেছেন, ওলগা কোখলোভা নামের এক ব্যালেরিনা শিল্পীকে। পিকাসো ছিলেন চূড়ান্ত যৌন-কাতর। তাঁদের মত ও জীবনযাপনের মানসিকতার তারতম্যের জন্য নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। নিজের হারিয়ে যাওয়া কেরিয়ার আর বদলে যাওয়া শরীর নিয়ে ওলগা হয়ে উঠছিলেন চূড়ান্ত বদমেজাজি-দুর্মুখ। পিকাসোর বয়স তখন সাতচল্লিশ, মারির বয়স তখন সতেরো।

প্যারির রাস্তায় তিনি মারির হাত ধরে সটান বলেন, ‘আমার নাম পিকাসো, তোমাকে দেখে আমার দারুণ লেগেছে, তুমি আমার মডেল হবে?’ পিকাসো শিল্পী হিসেবে বেশ নাম করলেও, মারি যে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছিলেন, তাঁর পক্ষে পিকাসো কে! জানা সম্ভব ছিল না। তাঁর মনে হয়েছিল একজন শিল্পী তাঁকে সুন্দর বলেছেন, সেই অনেক বড় প্রশংসা। পিকাসো তাঁকে নিয়ে যান, কাছের একটি বইয়ের দোকানে। সেখানে নিজের আঁকা বই দেখান মারিকে।

তারপর? শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল