‘মা যখন-যা চেয়েছেন দিয়েছি, শুধু ওটাই দিলাম না; কেন কে জানে!’

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 9, 2021 9:35 pm|    Updated: June 15, 2021 1:33 am

Published by: Sankha Biswas Posted: May 9, 2021 9:35 pm Updated: June 15, 2021 1:33 am

‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থের ‘দুঃখবিহারী’ কবিতার শিশুটি দেশান্তরে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে মাকে বলে যাচ্ছে ভাল করে মনে করতে তার কিছু লাগবে কি না। জাহাজ বেয়ে সাগর-পারে গিয়ে সে সোনা-মুক্তো-সহ একগাদা উপঢৌকন আনতে তৎপর। আসলে মাকে কিছু দেওয়ার সুপ্ত বাসনার মধ্যেই বিছানো থাকে সন্তানের আনন্দের আংরাখা। সেই দেওয়ায় অদ্ভুত একটা প্রাপ্তি, একটা পূর্ণতার বোধ আসে। আসলে, জাগতিক কিছু তো নয়, তার বকলমে প্রিয়তম মানুষটাকে দেওয়া হচ্ছে তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস। মায়ামাখা চোখ। আর উজ্জ্বল হাসি। মায়ের চাহিদাকে আশ্বস্ত করার পথ চাওয়াতেই যেন সন্তানের আনন্দ। এরই বিপ্রতীপে, অর্থাৎ মাকে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি না-দিতে পারার মধ্যে আবার লুকিয়ে থাকে চোরাগোপ্তা আক্ষেপ। সেই আক্ষেপ কখন যেন নিজের অজান্তেই সঙ্গী হয়ে যায় আগামী সারাটা জীবনের। জুড়ে যায় প্রতি পলের দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে। আজ মায়েদের দিন। আজকের দিনে টিম ‘শোনো’-র কাছে মাকে নিয়ে এরকমই এক মনখারাপ-স্মৃতির কেতাব খুলে বসলেন নাট্যব্যক্তিত্ব-অভিনেতা-লেখক মনোজ মিত্র যা তিনি আগে কখনও কাউকে বলেননি। কারও সঙ্গে ভাগ করেননি। তাঁর কথা শুনলেন সোহিনী সেন।

আজ থেকে বিশ-একুশ বছর আগের কথা। ২০০০ নাগাদ। কর্মসূত্রে পরপর তিনবার কানাডা যেতে হয়েছিল মনোজবাবুকে। তিনি, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং বিভাস চক্রবর্তী। নাটক পূর্ববর্তী রিহার্সালের জন্য একাধিকবার রবীন্দ্র সদন ছুটতে হত সেসময়। যে সময়কার কথা, তখন মনোজবাবুর সঙ্গেই থাকতেন তাঁর মা-বাবা। এরকমই একদিন মা তাঁকে অনুরোধ করেন বাড়ি থেকে না বেরতে– ‘আজকে যাস না। আজ তুই কোথাও যেতে পারবি না।’ ‘সে কী! আমি তো ওঁদের বলে এসেছি যাব। যাব না কেন?’ এই ছিল হতচকিত মনোজবাবুর উত্তর। মা-ও নাছোড়বান্দা। তিনি হাত ধরে টানতে লাগলেন। বারবার কিছু টাকা দিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেন। সেই টাকা উনি একজনকে দেবেন। যাঁকে দেওয়ার জন্য এই কাতর অনুনয়, তাঁকে মনোজবাবুরা ‘মামা’ বলে ডাকতেন। উনি আসতেন মাঝেমাঝে। লেখালিখি-থিয়েটার-সিনেমা ভালবাসতেন। থিয়েটার হলে কার্ড-টার্ড নিয়ে যেতেন। বা এন্ট্রি পাস-টাস নিয়ে যেতেন। তো মা ওঁর জন্য টাকা চাইতেই মনোজবাবুর সিধে প্রশ্ন করে উঠলেন, ‘কেন? ওঁকে হঠাৎ দেবে কেন?’

বাকিটুকু শুনে নিন…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: সোহিনী সেন
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল