মায়ের সঙ্গে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্ত; জীবন শুরুর প্রথম ধাপ, ফিরে দেখা আরেকবার

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 9, 2021 11:23 pm|    Updated: June 15, 2021 1:33 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 9, 2021 11:23 pm Updated: June 15, 2021 1:33 am

কথা হচ্ছিল মমতাশঙ্কর-এর সঙ্গে। কথা শুরু হতেই, তিনি জানান ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তাঁর। বিষাদে গলা বুজে আসে। মাতৃদিবসের জন্য তাঁর বিশেষ কোনও দিন নেই। তাঁর কাছে প্রতিটা দিনই মাতৃদিবস। তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত মায়ের জন্য নিবেদিত, মাকে ঘিরে আবর্তিত তাঁর পৃথিবী। মাকে ছাড়া থাকতে হবে তিনি ভাবতেই পারেন না। প্রতিটা মুহূর্ত মাকে বড্ড মিস করেন। মার সঙ্গে রোজ কথা বলেন, সংগোপনে। এবছর মা পার্থিবভাবে তাঁর সঙ্গে নেই। তাই একরাশ শুন্যতা ঘিরে ধরে তাঁকে।

মায়ের শাসন ছিল খুব কড়া। তখন খুব রাগ হত, খুব দুঃখ হত। মনে হত অন্য বন্ধুদের কত স্বাধীনতা, আমার কেন নেই! কিন্তু আজ আমি মাকে ধন্যবাদ জানাই। আমার সমস্ত সফলতার পিছনে আসলে ছিল তাঁর শাসনের। মা আমার যে ভিত তৈরি করেছেন, আমার মনে যে মূল্যবোধ তৈরি করেছেন, তার জন্য আমি এতদূর আসতে পেরেছি। এখনও প্রতি মুহূর্তে মা আমাকে পথ দেখান আমাকে গাইড করেন। নাচ করছি পাশে দাঁড়িয়ে মা বলে দিচ্ছেন। রান্না করছি, পাশে দাঁড়িয়ে মা বলছেন, আর একটু নাড়তে হবে, এই মশলাটা কম দে ওই মশলাটা একটু বেশি দে। শাড়ি পরছি মা বলছেন, আঁচলটা আরেকটু বড় কর।সাজছি মা বলছেন, চুলটাকে এই জায়গাটায় একটু ফুলিয়ে দে, টিপটা আরেকটু বড় পর। মা সবসময় আমার কাছে আছেন।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানান, মা বললেই একটা শাশ্বত-চিরন্তনী অনুভব হয় তাঁর। যা চিরন্তন। মাতৃত্বের বন্ধন, অনন্য এক বন্ধন যার কোনও সীমা নেই। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে যৌথ পরিবারে। ঠাকুমা, কাকা-কাকিমা, পিসি জেঠু এঁদের মধ্যে বড় হয়েছেন। মাকে দেখেছেন যৌথ পরিবারে অসামান্য সুন্দর মানিয়ে নিয়ে চলতে। হয়তো কখনও দুষ্টুমি করেছেন, ঠাকুমা বা পিসির কাছে বকা খেয়েছেন, বা কোনও কারণে বাড়ির বড়রা তাঁকে শাসন করেছেন। মা কখনও প্রতিবাদ করেননি। সেই শৈশবেই পাঠ পেয়েছেন, মায়ের কাছ থেকেই, শিখেছেন, সবার সঙ্গে মিলেমিশে কীভাবে থাকতে হয়, কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়।সবাইকে নিজের করে নিতে ভালবাসতে শিখিয়েছিলেন মা।

তাঁর মা ছিলেন নীরব যোদ্ধা। সংসারের যে কোনও প্রয়োজনে মাই আগে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কাছে ‘মা’ শব্দটার সাথে সমার্থক, ‘ইটারনাল ট্রুথ’, ‘ইটারনাল লাভ’।

নিজে মা হওয়ার পর আরও বুঝতে পারেন, মায়ের দেওয়া শিক্ষা তাঁকে বড় হতে কীভাবে সাহায্য করেছে। তখন মার অনেক কথায় বিরক্ত হতেন। যেমন ওই বয়সে সবাই হয়, আর কী… ‘মনে হয় উফ মা কেন এক কথা বারবার বলেন’ আজ যখন সেই একই কথা নিজের সন্তানদের বলেন, মর্ম বুঝতে পারেন, আরও বেশী করে। নিজের সন্তানদের তিনি মূল্যবোধের শিক্ষা দেন। একে অপরের প্রতি ভালবাসা, অন্যের জন্য ভাবা, সম্পর্ক এগুলোর গুরুত্ব প্রয়োজন বোঝানোর চেষ্টা করেন। নিজের শিকড়কে চিনে সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা শেখান নিজে মা হয়ে।

শুনে নিন পুরোটা…

লেখা: শ্যামশ্রী সাহা
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল