‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এর অ্যালিস বাস্তবেও ছিল লেখক লুইস ক্যারলের জীবনে, শোনা যায় সেই কিশোরী কন্যাকে তিনি বিয়ে করতেও চেয়েছিলেন

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 20, 2021 5:38 pm|    Updated: April 20, 2021 5:38 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 20, 2021 5:38 pm Updated: April 20, 2021 5:38 pm

ডজসন একটি স্নায়ুজনিত রোগে ভুগতেন। তার ফলস্বরূপ অদ্ভুত সব হ্যালুসিনেশন হতো। জিনিসের মাপ-জোখ সব যেত গুলিয়ে। ছোট জিনিসকে ইয়া বড় দেখতেন, বড় জিনিসকে এই ক্ষুদে। তাঁর বইয়ে যে সব উদ্ভট কাণ্ড কারখানা সেগুলোর মধ্যে এই রোগের প্রভাব কতটা সে নিয়ে পরে গবেষকরা অনেকে খুঁজে বা বুঝে নিতে চেয়েছেন। তাঁর জীবদ্দশায় এই রোগের আবিষ্কার অবধি হয়নি। ১৯৫৫ সালে ইংরেজ সাইকিয়াট্রিস্ট জন টড, এই রোগের আবিষ্কর্তা। তিনিই এর নাম দিয়েছিলেন ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড সিনড্রম’।

অ্যাকাদেমিক পরিসরে তিনি লিনিয়ার এবং ম্যাট্রিক্স অ্যালজেব্রা, ম্যাথামেটিক্যাল লজিক, রিক্রিয়েশনাল ম্যাথাম্যাটিক্স-এর ওপর স্বনামে অন্তত এক ডজন বই লিখছিলেন।

নিজে এত ভাল গণিতবিদ হয়েও জীবনের অংক বোধহয় খুব ভাল মেলাতে পারেননি ডজসন সাহেব।

তাঁর ছিল ছবি তোলার ঝোঁক। সেই ঝোঁক এসছিল তাঁর কাকার থেকে এবং পরে অক্সফোর্ডের বন্ধু রেজিনাল্ড সউদি’র থেকে। রজার টেলর এবং এডওয়ার্ড ওয়েক্লিং-এর নিবিড় গবেষণায় উঠে এসেছে তাঁর ছবির বিষয়বস্তু ছিল কিশোরী মেয়েরা। অনেকেই দাবী করেছেন কারওর অনিচ্ছায় তিনি কোনোদিনও কারোর ছবি তোলেননি। এইসব ছবির সিংহভাগ তোলা হতো তাঁদের বাবা মায়ের উপস্থিতিতে।

কিশোরী অ্যালিসের অজস্র ছবি তুলেছিলেন ডজসন। তাঁর তোলা তিন হাজার ছবির মধ্যে অন্তত এক হাজার পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে, বেপাত্তা। সেসব ছবির মধ্যে কিশোরীদের নগ্ন ছবি খুঁজে পাওয়া গেছিল অজস্র। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বিয়েত্রেচে হ্যাশ-এর অজস্র ‘নিউড’।

বিশ শতকের তাঁর জীবনীকাররা অনেকেই তাঁর যৌন-জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ আমৃত্যু তিনি ছিলেন অবিবাহিত।

অনেক গবেষক বলেছেন ডজসন-এর কিশোরী নগ্ন ছবি তোলাতে কোনও দোষ নেই। সেই সময়ের রীতি অনুযায়ী ‘ভিক্টোরিয়ান চাইল্ড কাট’ ছিল সংস্কৃতি-সম্পন্ন এবং খুবই জনপ্রিয়।

অনেকেরই ধারণা ডজসন এগারো বর্ষীয়া অ্যালিস’কে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। ১৮৬৩-র জুন নাগাদ আচমকা হেনরি লিডল-এর সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়। কেউ বলেন অ্যালিস নন বরং তাঁর মা মিসেস লিডল-এর প্রেমে পড়েছিলেন ডজসন, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছেদ।

তাঁর তেরোটি ডায়ারির অন্তত চারটি খুঁজে পাওয়া যায়না। আর কিছু ডায়ারির কিছু পাতা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এমন প্রমাণও মেলে। এই হারিয়ে যাওয়া ডায়ারি আর ছিঁড়ে ফেলা পাতা এই রহস্য আরও ঘনীভূত করে তোলে। মূলত যে ডায়ারির পাতাগুলো ছেঁড়া সেগুলোর সময়কাল ১৮৫৩-৬৩। যে সময় লিডল পরিবারের সঙ্গে ডজসন-এর আলাপ এবং ‘..অ্যালিস…’ বই বেরনোর ঠিক আগের বছর পর্যন্ত।

১৮৬৩-র সাতাশে জুনের ডায়ারির পাতা। গবেষকরা বলেন, ওইদিন এগারো বছরের অ্যালিস’-এর পরিবারের কাছে বিবাহ প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। আবার সেখানে এই কথারও উল্লেখ আছে ভদ্রসমাজে কানপাতা দায় হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে লিডল পরিবারের গভর্নেস-এর সম্পর্কের গপ্পো চারদিকে। তাঁর সঙ্গে নাকি ইনা অর্থাৎ অ্যালিসের বড়বোন লোরিনার সম্পর্ক নিয়েও চারদিকে বেশ কথাও রটছে।

এই লোরিনা আদতে কে? অ্যালিসের মায়ের নামও ছিল লোরিনা। ফলে ডায়েরির লোরিনা আসলে কোনজন! সেটা আঁচ করা গবেষকদের পক্ষে বেশ জটিল হয়েছে।

শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল