বাগদেবী সরস্বতীই জাপানে পূজিত বেনজাইতেন সামা নামে

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 15, 2021 8:19 pm|    Updated: February 15, 2021 8:19 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 15, 2021 8:19 pm Updated: February 15, 2021 8:19 pm

জাপানি সংস্কৃতিতে তাঁর শুভাগমন ছয় থেকে আট শতকের মধ্যবর্তী সময় নাগাদ। মূলত বৌদ্ধিক সূত্রগুলির চিনা অনুবাদের মাধ্যমেই। মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের ‘লোটাস সূত্র’ থেকে। আর স্পষ্ট করে বলতে গেলে লোটাস সূত্রের ‘সূত্র অফ গোল্ডেন লাইট’ থেকে। জাপানে ভীষণভাবেই উপাসনা হয় বেনজাইতেনের। জ্ঞান যেমন অবিরাম ধারায় পৃথিবীর বুকে বয়ে চলেছে, তেমনই বিরামহীনভাবে দেশকে রক্ষা করবেন এক দেবী, এমনই প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছিল ‘সূত্র অফ লাইট’—এ। তাই সূর্যোদয়ের দেশে বেনজাইতেন শুধু জ্ঞান, শিক্ষা ও প্রজ্ঞারই নন;  যুদ্ধ, অর্থ এবং সুরক্ষারও দেবী। দেশ ও দেশের মানুষকে অবিরাম রক্ষা করে চলেছেন তিনি। বা বলা যায়, যা কিছু প্রবহমান: শিক্ষা, সংস্কৃতি, শাস্ত্র, সংগীত, কথা, শব্দ, সময়, জল, সবকিছুরই রক্ষাকত্রী তিনি। সবকিছুর দাত্রী। কিন্তু জাপানে বেনজাইতেন উপাসনার সূচনা যেহেতু চিনের হাত ধরে, তাই জাপানিরা জানেনও না তাঁরা যে—জ্ঞানের দেবীর উপাসনা করেন, তিনি আদতে সনাতন হিন্দু সংস্কৃতি বিধৌত। বৌদ্ধ ও শিন্টো সংস্কৃতিতে সমানভাবে আরাধ্যা বেনজাইতেন। অনেক সময় তিনি আবার ‘বেনতেন’ নামেও পরিচিতা।

‘লোটাস সূত্র’। চিনা ভাষায় যেটি ‘মিয়াওফা লিয়ানহুয়া জিং’ নামে পরিচিত। জাপানিতে ‘মায়হো রেংগে কিয়ো’। আর সংস্কৃতে ‘সধ্বর্ম পুণ্ডরীক সূত্র’।  এই  সূত্রে বেনজাইতেন বর্ণিত ‘বিওয়া’ নামের  এক জাপানি বাদ্য হাতে। সরস্বতীর হাতে যেমন বীণা থাকে, বেনজাইতেনের হাতে ঠিক একই রকম উপস্থিতি বিওয়া—র।  লোটাস সূত্রে বেনজাইতেনের দু’টি হাত। তার এক’টিতে বীণা। জাপানি উপাস্য এই দেবীর কিন্তু আরেকটি রূপ রয়েছে। সেখানে তাঁর আটটি হাত। অষ্টহাতের এই দেবীমূর্তিও পূজিত হন জাপান জুড়ে।

তবে শুধু জাপান নয়, উত্তর—পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলিতেও তাঁর উপাসনা হয়। চিনে তিনি পরিচিত ‘বিয়ানাই তিয়ান’ নামে। কোরিয়ায় ‘বেয়োনজায়ে তেয়োন’। তিব্বতে ‘ইয়াংচেনমা’। ভিয়েতনামে ‘বিয়েন তাই থিয়েন’। আর ভারতের নিকটতম দেশ মায়ানমারে? সেখানে বেনজাইতেন বা সরস্বতীকে ডাকা হয় ‘থুরাথাদি’ নামে।

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: কোরক সামন্ত ও শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল