‘হাম্পি দে না’ যদি মিসোজিনিস্ট হয়, তাহলে পৃথিবীর সমস্ত প্রেমের গানই ভালগার, বললেন ‘টুম্পা সোনা’–র গায়ক আরব

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 2, 2021 7:42 pm|    Updated: January 2, 2021 10:34 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: January 2, 2021 7:42 pm Updated: January 2, 2021 10:34 pm

২০২০–র শো–স্টপার কে? এ প্রশ্নের গড়পড়তা উত্তর যদি ‘করোনা’ হয়, বাঙালি কিন্তু সেখানেও খানিক অন্য সুরে কথা বলবে। কারণ, বাঙালি জানে, আর কারও না হলেও, তার অন্তত বছরটা শেষ হয়েছে টুম্পার সঙ্গে। তার সান্নিধ্যে। তার নীল মোহময়ী চোখের ভ্যাকসিনহীন গণসংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে। পুজো, ভাসান, জন্মদিন, বিয়েবাড়ি, উৎসবে–ব্যসনে গত তিন মাস ধরে একনাগাড়ে ফার্স্ট ফেভারিট হয়ে থাকা ‘টুম্পা সোনা’–র গায়ক আরব দে-র সঙ্গে কথা বলল টিম ‘শোনো’, শুনলেন সুশোভন প্রামাণিক।

ইউটিউবে ইতিমধ্যেই ৫৮ মিলিয়ন ভিউ। গোদা বাংলায় ৫.৮ কোটি। কলকাতা থেকে দুবরাজপুর, সারিঙ্গা থেকে আলিপুরদুয়ার, পিন্দার থেকে ইংলিশবাজার, ঘাটাল থেকে রাজারহাট––– থার্টি ফাস্ট ও ফার্স্টজুড়ে গোটা বাংলা স্মরণ করেছে টুম্পাকে। অরিজিৎ সরকারের ওয়েব সিরিজ ‘রেস্ট ইন প্রেম’–এ আরবের গাওয়া ‘টুম্পা সোনা’ শীতল বৎসরান্তে বাংলার ফেস্টিভ ফিল–কে দিয়েছে উষ্ণতার তাজা হাওয়া। একইসঙ্গে বেজেছে ‘রেস্ট ইন পিস’–এর নতুনতম সংযোজন ‘পুটকি ভাই’ও। যদিও এখনও টুম্পা–র মতো সুপার–ডুপার হিট হয়ে উঠতে পারেনি তা। তাও বাঙালি–ক্রাউড মন্ত্রোচ্চারণের মতো জপে চলেছে ‘পেটের ভিতর খিদে আছে, চোখে আছে লাল/ মাথার ভিতর ডিস্কো নাচে জটা মহাকাল’।

বিগত ১০/২০ বছর ধরে বাঙালির উৎসব–ভাসান–নাচানাচি জুড়ে কেবল আর কেবল হিন্দি গান। তার উল্লাট নাচের প্লে–লিস্টিতে রাজ করে হিন্দি–ভোজপুরি। অর্থাৎ, বাঙালিকে বাংলা গানে নাচানো কঠিন। এই ট্রেন্ডটাকে চ্যালেঞ্জ জানানোই ছিল প্রাথমিক লক্ষ্য, জানালেন আরব। তাই ভোজপুরি গানের আদলের শরণাপন্ন হন তাঁরা। ওই আদলটায় জুড়ে দেন দুষ্টু–মিষ্টি প্রেমের লিরিক, অবশ্যই বাংলায়। পুরো চেষ্টা ছিল লিরিক্সকে ভালগারিটি থেকে শতহস্ত দূরে রাখা। প্রশংসা যেমন কুড়িয়েছেন অঢেল, তেমনই গানটাকে ভালগারও মনে হয়েছে অনেকের। অনেকে আবার ‘মিসোজিনিস্ট’ দাগিয়ে ধারালো আক্রমণ শানিয়েছেন। তবে আরবের পরিষ্কার বক্তব্য, “‘হাম্পি দে না’ যদি মিসোজিনিস্ট ধরে নেওয়া হয়, তাহলে পৃথিবীর সমস্ত প্রেমের গানই ভালগার।” পোচ–মামলেট–বাদাম খাওয়া, গ্যাঁদা ফুলে খাট সাজানো, দিঘা যাওয়া––– মধ্যবিত্ত গন্ধমাখা সেন্টিমেন্ট বাঙালিকে নতুন ফিরিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল টিম ‘টুম্পা…’র। সিসিডি–বারিস্তায় যাওয়া এলিট শহুরে বাংলার বাইরেও যে একটা বাংলা আছে, ছোট ছোট চাওয়া–পাওয়া দিয়ে তৈরি যার কান্না–হাসির ফ্রেম, সেই বাংলা আর তার মধ্যবিত্ত যাপনকেই ধরা হয়েছে গানে। তাই নিজের সঙ্গে রিলেট করতে পেরেছে রাজ্যের একটা বিরাট অংশ।

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল