দক্ষিণবঙ্গের ফকিরদের এই প্রার্থনাসংগীতেই সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু পায় হিন্দু গেরস্থের গরু

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 11, 2021 3:10 pm|    Updated: March 11, 2021 3:10 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 11, 2021 3:10 pm Updated: March 11, 2021 3:10 pm

‘ইয়া বাবা মানিকপীর’ বলা লোকটি যে-গান গাইতেন, তার নাম ‘গইলে’ বা ‘গয়লে’ গান। গেরস্থবাড়িতে গোয়ালের গরুর মঙ্গল কামনায় ওই গান গাইতে আসতেন তিনি। আমাদের বাড়ির গোয়ালে গরু থাকতই– প্রথমে হালের জন্য এঁড়ে গরু, তাছাড়া দুধেল গাই আর তার বাছুরেরা।
মানিকপীর কি কোনও বিশেষ দেবতা? বা তাঁর গান গাইলে কি গেরস্থের গরুর কল্যাণ হবে? ঠিক জানতাম না তখন। খালি জানতাম, ‘বামনগাছি’ নামের জায়গায় এক পীর আছেন, কার্যত দেবতা হিসেবেই পূজিত হন যিনি। তাঁর নামে খাজামঠ পাওয়া যায় আর রাতে বাতের ব্যাথা চাগাড় দিলে ‘বাবা বামনগাছি’-র নামে মানত করে তেলসেঁক আর মালিশ করলে ব্যাথার উপশম হয়।

বাবার আবাল্য বন্ধু প্রশান্তকাকার বাড়ি যেতে পড়ে দেওয়ান হাট। সেখান থেকে বেশ ভেতরে গেলে জ্যৈষ্ঠ মাসে বরকন গাজির থান আছে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেকে ‘সহিস’ বানিয়ে ঘোড়ার পীঠে তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা প্রায় শূন্যে ভেসে থেকে চটাপট শব্দে দু হাতে দুটি ছড়ি দিয়ে ঘোড়ার দুদিকে এক বিশেষ ছন্দে মারতে থাকে। ছোট ছোট ঘোড়াগুলি মাঠের মধ্যের রাস্তা দিয়ে একেবারে তেজী বাজের মতো দৌড়য়। কিন্তু তখনও মানিকপীর-কে জানতাম না। অতো জানার তখন দরকারও ছিলো না। গানটা বেশ লাগতো, সেটা মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করতাম। বেশ গল্পের ছলে নানা ঘটনার সমাবেশ তাতে ঘটতো সেও বেশ বোঝা যেতো।

পীরের গান যিনি আমাদের বাড়িতে গাইতে আসতেন। গাওয়া শেষ হলে তাঁকে একটা বড় কাঁসার থালায় চাল, জমিতে চাষ হওয়া মুগের ডাল, দুটো আলু, পারলে গোটা দুয়েক টাকা একসঙ্গে ধরে তাঁর দিকে যেতাম। যা-ই দিতাম তিনি কিন্তু কখনওই তার ওজর জানাতেন না, খুশিমুখে সবটা নিয়েই কাঁধের ঝোলার মধ্যে হুড়হুড় করে ঢেলে দিতেন। অনেক সময় থালা হাতে ধরতেনই না, খালি ঝোলার মুখটা আলতো করে খুলে দিতেন, দিলেই আমরা তাতে ঢেলে দিতাম। তারপর মাথাটা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইতাম। উনি পেল্লাই সাইজের কালো চামরটা নিয়ে গায়ে-মাথায় ভাল করে বুলিয়ে দিতেন। বোলাতে বোলাতে ‘ইয়া বাবা মানিকপীর’-সহ আর যা যা বলতেন, তাতে বুঝতাম– নানা প্রতিকূলতাঅলা রাস্তাটি সুগম করে দেওয়ার প্রার্থনা জানাচ্ছেন পীরের কাছে।

আর কী করতেন সেই দীর্ঘদেহি?

শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শুভাশিস চক্রবর্তী

পোল