মীরকাশিম চেয়েছিলেন সিরাজউদ্দৌলাকে আজীবন বন্দি রাখতে, তার কিশোর পুত্র মীরণ তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 19, 2021 10:51 pm|    Updated: May 19, 2021 11:51 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 19, 2021 10:51 pm Updated: May 19, 2021 11:51 pm

২৬শে জুন মীরজাফর ক্লাইভকে লেখা চিরকুট পাঠালেন ‘নবাব পালিয়েছেন। তিনি এখন ভাগ্যহত। তাকে ধাওয়া করে বন্দি করার জন্য সৈন্য পাঠিয়েছি। খোদাতাল্লার আশীর্বাদে তিনি শীঘ্রই ধরা পড়বেন আপনি নিশ্চিন্ত হতে পারেন। ক্লাইভ নিশ্চিন্ত হলেন না।’

তিনি তাঁর বিশ্বস্ত অনুচর ওয়াটস এবং ওয়ালসকে পাঠালেন। নিজেও হাজির হলেন ২৯শে জুন।

জগৎ শেঠ ক্লাইভকে জানান নবাবকে ধরা শক্ত। পাটনায় রয়েছেন তাঁর বিশ্বস্ত নায়েব রাম নারায়ণ। তার কাছে আছে অন্তত পনেরো হাজার অশ্বারোহী। একবার নবাব সেখানে পৌঁছতে পারলেই ফরাসি আর রামনারায়ণ দুইয়ের সাহায্যে হয়ে উঠবেন অপ্রতিরোধ্য। সমস্ত রাজ্যের রাজাদের চিঠি পাঠানো হল। যথেষ্ট সম্ভব সৈন্য তো বটেই। ক্লাইভের মস্তিষ্কপ্রসূত চিরুনি তল্লাশিতে প্রথম ধরা পড়ল পঞ্চাশটি ধনরত্ন বোঝাই হাতি। সিরাজের যাত্রাপথ ছিল ভগবানগোলা হয়ে রাজমহল।

মহানন্দা এবং কালিন্দীর ওপর দিয়ে তীর বেগে ছুটে চলেছে সিরাজের নৌকা। নজিরপুরের মোহনার আগে বড়াল নামের একটি গ্রামের কাছে স্তব্ধ হল নৌকার গতি। মোহনা পেরলেই রাজমহল বেশী দূর নয়। চোখে দেখা যায়। কিন্তু মাঝিরা জানাল, সামনে চড়া, এখনও যথেষ্ট বর্ষা হয়নি তাই অন্য পথের সন্ধান করতে হবে। সেখান দিয়ে পৌঁছনো যাবে বড় গঙ্গায়। রাজধানী থেকে এতদূরে পৌঁছেছেন রাস্তায় কোথাও থামেননি। সকলেই পরিশ্রান্ত এবং ক্ষুধার্ত সামান্য একটু অন্ন জলের অন্বেষণে নামলেন ডাঙায়। পৌঁছলেন পাশের একটি জনবসতিতে। সেখানে খিচুড়ি রান্না হল, ক্ষুণ্ণিবৃত্তি নিবারণের জন্য। কাছেই ছিল এক মুসলমান সাধুর আশ্রম, নাম তাঁর দানশাহ্‌। তিনি ছিলেন মুর্শিদবাদের নবাব বংশের গুরু।

দানশাহ্‌ নিয়ে ইতিহাসে নানা কিংবদন্তি আছে। কারোওর মতে সিরাজের সমসাময়িক তিনি ছিলেন না। অনেক ইতিহাসবিদের মত, তিনিই নাকি সিরাজকে তুলে দিয়েছিলেন মীরকাশিম এবং মীর দাউদের সৈন্যদের হাতে। কিন্তু সিরাজ ছিলেন প্রায় ফকিরের ছদ্মবেশে, দানশাহ্‌ তাঁকে চিনলেন কী করে? অনেকেই জানান, সিরাজের পাদুকা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়, পরে তিনি নদীর চড়ায় গিয়ে নৌকার মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর পালানোর ইতিবৃত্ত বিষয়ে অবগত হন। কিন্তু তাঁর মতো সাধুর মনে এমন প্রতিহিংসাপরায়ণতা দেখা দিল কেন?

কারোওর মতে সিরাজ নাকি তাঁকে অপমান করেছিলেন। কারোওর মতে এই ধরিয়ে দেওয়ার উপহার স্বরূপ তিনি মীরজাফরের থেকে জায়গীর উপহার পেয়েছিলেন। যদিও ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’র লেখক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং ‘দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার ইন ইন্ডিয়া এন্ড দ্য ইস্ট’-এর লেখক ই.এইচ.নোলান-এর মতে দানশাহ্‌ সেইসময় মোটেই জীবিত ছিলেন না, অন্য কেউ তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল