বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা বাহিনী

Published by: Sankha Biswas |    Posted: December 16, 2020 6:30 pm|    Updated: December 16, 2020 6:30 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: December 16, 2020 6:30 pm Updated: December 16, 2020 6:30 pm

“… আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু— আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।

মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ্‌। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর এই সংগ্রামী আহ্বানের পর সপ্তাহ দুয়েক কেটেছে

১০ এপ্রিল ১৯৭১, মুজিবনগরের স্বাধীন সরকার গঠনের দিনই প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের বেতার কণ্ঠে ভেসে এল মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের আটজন কমান্ডারের নাম। এবারের সংগ্রামকে মুক্তির সংগ্রামে রূপান্তরিত করার লক্ষে দেশব্যাপী সামরিক সংগঠনের বিন্যাস ইতিমধ্যে সেরে ফেলা হয়েছে গোপনে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যের আশ্বাসও মিলেছে। এখন দরকার সৈনিক, যোদ্ধা। মুক্তির সংগ্রামে দরকার মুক্তিযোদ্ধা।

তখন একাত্তরের এপ্রিল মাস। হিসেব বলছে, লক্ষাধিক প্রশিক্ষিত পেশাদার পাক-সৈন্যের বিপরীতে স্বাধীন বাংলার পক্ষে লড়াই করার জন্য যোদ্ধার সংখ্যা তখন নগণ্য। ৩ হাজার বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১২ হাজার ইপিআর এবং কয়েক হাজার পুলিশ ও আনসার। চাই আরও সৈন্য, আরও আরও সৈন্য, মুক্তিকামী যোদ্ধা। এই লক্ষেই দেশের তরুণ যুবসমাজ, কৃষক-শ্রমিক সকলকে সংগঠিত করে গড়ে তোলা হয় মুক্তিবাহিনী। যার একটা বিরাট অংশই ছিল সাধারণ মানুষ, যে কৃষক হাতে ধরত কাস্তে, যে তরুণ কিংবা তরুণী সদ্য কলেজে ঢুকেছে, দেশের মুক্তির জন্য তখন তাঁদের হাতেই গ্রেনেড, কাঁধে বন্দুক, আর চোখে স্বপ্ন— স্বাধীন মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।

ঠিক হয় কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিফৌজের বিন্যাস ও ট্রেনিং হবে। মে ও জুন মাসেই গঠিত হয় তিনটি ব্রিগেড। কিন্তু শক্তিশালী আধুনিক রণকৌশলে প্রশিক্ষিত সংগঠিত পাকসেনার তুলনায় মুক্তিফৌজ ছিল নিতান্তই পিছিয়ে। তাহলে উপায়? কীভাবে হবে মুক্তির লড়াই? শুনুন…

 

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল