ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘সাহেবান বাগিচা’র উপরেই গড়ে উঠেছে আজকের দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণীর মন্দির

Published by: Sankha Biswas |    Posted: June 2, 2021 3:22 pm|    Updated: June 2, 2021 3:22 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: June 2, 2021 3:22 pm Updated: June 2, 2021 3:22 pm

আজকের দক্ষিণেশ্বর মন্দির-এর যে বিরাট উদ্যান, তখন তার নাম ছিল ‘সাহেবান বাগিচা’। মালিক ছিলেন জন হেস্টি। এখানে তাঁর একটি চটকল তৈরির ইচ্ছে ছিল, কিন্তু আকস্মিক মৃত্যু সেই ইচ্ছেপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আসলে বিধাতার ইচ্ছে ছিল অন্য কিছু। এই পুণ্যভূমি থেকেই তো শুরু হবে এক নতুন যুগের ইতিহাস।
 
১৮৪৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ‘বিল অফ সেল’-এর মাধ্যমে এই বিশাল জমি কিনে নেন রানি রাসমণি। রানির দলিল থেকে জানা যায়– মোট সাড়ে ৫৪ বিঘে জমি তিনি কিনেছিলেন ৪২ হাজার ৫০০ টাকায়, কুঠিবাড়ি-সমেত। জমিটি যেদিন কেনা হয়, সেই দিনকার দিনই অবশ্য রেজিস্ট্রি হয়নি। কারণ তখন রেজিস্ট্রেশন আইন চালুই হয়নি। পরে, ১৮৬১ সালের ২৭ আগস্ট অলিপুরের রেজিস্ট্রি অফিসে এই বিরাট জমির রেজিস্ট্রি করা হয়। রানিমার কেনার সময় জমির পূর্বদিকে ছিল কাশীনাথ চৌধুরীর জমি, পশ্চিমদিকে পুণ্যতোয়া গঙ্গা, উত্তরে সরকারি বারুদখানা এবং দক্ষিণ দিকে জেমস হেস্টির একটি কারখানা। পরে এই কারখানার জমিতে যদুলাল মল্লিকের বাগানবাড়ি নির্মিত হয়। উত্তরদিকের সেই বারুদখানার সঙ্গে পরবর্তীকালে রানি রাসমণি এস্টেটের একটি মামলা হয়– যে মামলায় রানির এস্টেটের পক্ষে উকিল হিসেবে লড়েছিলেন স্বয়ং মাইকেল মধুসূদন দত্ত! এই মামলার সুবাদেই তিনি দক্ষিণেশ্বরে আসেন এবং তাঁর সাক্ষাৎ হয় পরমপুরুষ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেব-এর সঙ্গে।

জমিটি কেনার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় যাবতীয় নির্মাণকার্য। এই কাজে প্রথমদিকে রানিকে সহায়তা করতেন তাঁর বড়জামাই রামচন্দ্র দাস। পরে রানির তৃতীয় জামাই মথুরমোহন বিশ্বাসের উপর সমস্ত দায়িত্ব ন্যস্ত হয়। নির্মাণের শুরু শুরুর দিকেই গঙ্গার ধারে নবনির্মিত রাস্তাঘাট, উদ্যান প্রবল বানে ভেঙে যায়। রানি রাসমণি তখন ‘ম্যাকিনটস অ্যান্ড বার্ন কোম্পানি’কে, ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে নতুন করে নির্মাণকার্যের ভার দেন। এই কোম্পানিই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মূল নকশা প্রস্তুত করে তা নির্মাণ করে। এই বিখ্যাত সংস্থার নিজস্ব রেকর্ড বুকে লেখা আছে, ‘The company has the unique distinction of constructing the Dakhineswar temple along with protection works against erosion.’ জানা যায়, সেই সময়তেই মন্দির নির্মাণের খরচ ছুঁয়েছিল ন’লক্ষের কাছাকাছি!
 
শুনে নিন…

লেখা: অনুরাগ মিত্র
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল