যৌনতা ‘ট্যাবু’ নয়, উদ্‌যাপনের বিষয়: অভিনব ঘোটুল সংস্কৃতি স্বতন্ত্র করে ছত্তিশগড়কে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 5, 2021 8:01 pm|    Updated: March 6, 2021 11:31 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 5, 2021 8:01 pm Updated: March 6, 2021 11:31 am

রাতে চেলিকরা গোল করে বনফায়ার-এ বসে। তামাকপান করে। তারপর একে একে সেখানে ঢুকতে শুরু করে মোতিয়ারিরা। তাদের নজর কাড়তে চেলিকরা স্থানীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে লোকগান শুরু করে। তবে শুধু এটাই নয়। চেলিকরা তাদের পছন্দ করা মোতিয়ারিকে ‘ইমপ্রেস’ করতে নিজের হাতে তৈরি কাঠের চিরুনি উপহার দেয়। এটিকে বলা হয় ‘কাকাই’। বিবিধ নকশার এই চিরুনিগুলো দীর্ঘ মাসের পর মাস রক্ত জল করে বানায় তারা। কিশোরীদের মাথায় যত বেশি সংখ্যক চিরুনি, ধরে নিতে হবে সামগ্রিকভাবে তারা তত বেশি কাঙ্ক্ষিত। এভাবে শুরু হয় মোচ্ছব। ঢোলের তালে তালে হওয়া ‘মান্ড্‌রি’ নাচ এবং ‘হালকি’ নাচে উত্তাল হয়ে ওঠে ঘোটুল চত্বর। হালকি খানিকটা নাগিন ডান্সের মতো। এভাবে যৌনতায় ভরপুর চাহনি, ছন্দ, সুর, তালে মেতে ওঠে কিশোর-কিশোরীরা। রাত যত ঘনায় তত বেশি করে যৌন আবেদনে মোহময়ী হয়ে এঠে ঘোটুল। তবে কোন চেলিক কোন মোতিয়ারির সঙ্গে সহবাসে লিপ্ত হবে– তা ঠিক করে দেন ঘোটুল প্রধানরা। পুরুষপ্রধানদের বলা হয় ‘সিরেদর’। মহিলাপ্রধানরা হলেন ‘বেলোসা’। একটা রাত সঙ্গমের পর অবশ্য কিশোর-কিশোরীরা নিজে নিজেই নিজের পার্টনার বেছে নেয়।

প্রতি দিন, এমনকী, প্রতি ঘণ্টায় যৌনসঙ্গী বদলানোর সম্পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে কিশোর-কিশোরীদের। তিনদিন কেউ একই যৌনসঙ্গীর সঙ্গে সহবাস করলে তা ভাল নজরে দেখা হয় না।  বিষয়টা তখন ব্যর্থতা হিসাবে গণ্য হয়। পুরো ঘোটুল সংস্কৃতির মুখ্য উদ্দেশ্য: তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যৌনতা বিষয়ে কোনও সংস্করা না-রাখা। তাদের সচেতন ও সামর্থ্য করে তোলা। করে তোলা স্বাধীন। কারণ, মুরিয়ারা চান না, একটি মানুষের প্রতি আসক্ত থেকে তার প্রতি অধিকারবোধ জন্মাক কারও। হিংসুটে, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠুক কেউ। ঘোটুল সংস্কৃতি দিনান্তে নিজেদেরকে, নিজের সমাজ ও তার মানুষজনকে ভালবাসতে শেখায়। যতদূর জানা যায়, ঘোটুলে যৌনতার এই খোলামেলা স্বাস্থ্যসম্মত পাঠের জন্য আজও মুরিয়া-গন্ডদের মধ্যে আজও ধর্ষণের ঘটনা বিরল।

আর?

শুনে নিন…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল