মানকচু দিয়ে বানানো জিলিপি! স্ত্রীয়ের কাছে এমনই উদ্ভট পদ খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 10, 2021 11:30 pm|    Updated: May 10, 2021 11:30 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 10, 2021 11:30 pm Updated: May 10, 2021 11:30 pm

ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথ ভোজনরসিক ছিলেন। মাছ নিয়ে আসক্তির কথা বারবার প্রকাশ পেয়েছে তাঁর নানাবিধ লেখায়। মনে পড়বে, ছেলেবেলার একটি প্রিয় খাবারের প্রসঙ্গে কবি লিখেছিলেন, ‘আমসত্ব দুধে ফেলি, তাহাতে কদলী দলি,/ সন্দেশ মাখিয়া দিয়া তাতে/ হাপুস হুপুস শব্দ চারিদিক নিস্তব্ধ,/ পিপড়া কাঁদিয়া যায় পাতে।’ কিন্তু এ তো বড়বেলার লেখা. ছোটবেলাতেও তাঁর লেখালিখির তৃপ্ত আয়াসে ছুকে গিয়েছিল খাবারদাবারের অনুষঙ্গ। গৃহশিক্ষক সাতকড়ি দত্ত মহাশয় তাঁকে উৎসাহ দিতে মাঝে মাঝে নিজে দু’-এক পদ কবিতা লিখে তার পাদপূরণ করাতেন কিশোর রবিকে দিয়ে। যেমন সাতকড়িবাবু লিখলেন: ‘রবি করে জ্বালাতন আছিল সবাই।/বরষা ভরসা দিল আর ভয় নাই।’ কিশোর কবি পাদপূরণ করলেন: ‘মীনগণ হীন হয়ে ছিল সরোবরে,/ এখন তাহারা সুখে জলক্রীড়া করে।’ যে-মাছের স্বাদে তিনি আজীবন বিভোর ছিলেন, তাঁর কবিতা লেখার সূচনা হল সেই মাছ দিয়েই।
রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন ধরনের লেখাতে বারবার উঠে এসেছে খাদ্য প্রসঙ্গ, সে তাঁর নিকট কোন আত্মীয়ার বিবাহ উপলক্ষে লেখা কিছুতেই হোক হোক বা তাঁর উপন্যাস, গল্প বা কবিতাতেই হোক না কেন। ভ্রাতুষ্পুত্র সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা জয়তীর বিয়ে কুলদাপ্রসাদ সেনের সঙ্গে। এই উপলক্ষে কবি লিখে ফেললেন, ‘যদি কোন শুভদিনে ভর্তা না ভর্ৎসে/ বেশী ব্যয় হয়ে পড়ে পাকা রুই মৎসে।/ কালিয়ার সৌরভে প্রাণ যবে উতলায়/ ভোজনে দুজনে শুধু বসিবেকি দুতলায়।/ লোভী এ কবির নাম মনে রেখো বৎসে।’ ‘বীথিকা’র ‘নিমন্ত্রণ’ নামক কবিতাটি নাকি লেখা হয়েছিল কোন এক অনামা মিতার উদ্দেশে। সেই কবিতাতেও আধুনিকদের নিয়ে একটু বিদ্রুপ থাকলেও তারই মধ্যে কবি এনেছেন ভোজ্য প্রসঙ্গ, ‘একালে চলে না, সোনার প্রদীপ আনা/ সোনার বীণাও নহে আয়ত্বগত।/ বেতের ডালায় রেশমি রুমাল টানা/ অরুণবরণ আম এনো গোটাকতক।’ কবি আরও লিখলেন, ‘শোভন হাতের সন্দেশ পানতোয়া/ মাছ মাংসের পোলাও ইত্যাদিও/ যবে দেখা দেয় সেবামাধুর্যে ছোঁয়া/ তখন সে হয় কী অনিবর্চনীয়।’  ‘শ্যামলী’ কাব্যগ্রন্থে গদ্যছন্দে লেখা ‘অমৃত’ কবিতায় রবি ঠাকুর বাঙালির সাবেক জলখাবারের এক সরস বর্ণনা দিয়েছেন। ‘এমন সময় অমিয়া নিয়ে এল/ থালায় করিয়া জলখাবার-/ চিঁড়ে, কলা, নাড়কেল নাড়ু,/ কালো পাথর-বাটিতে দুধ,/ এক-গেলাস ডাবের জল।/ মেঝের উপর থালা রেখে / পশমে-বোনা একটা আসন দিল পেতে।’ ‘নৌকাডুবি’ উপন্যাসে খেতে বসে পাতে রুইমাছের মুড়ো দেখে রমেশ বলে ওঠে, ‘এ তো স্বপ্ন নয়, মতিভ্রম নয়- এযে সত্যই মুড়ো- যাকে বলে রোহিত মৎস্য তাহারই উত্তমাঙ্গ।’ বহু বিজ্ঞজনের ধারণা– রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং রমেশের জবানিতে মুড়ো নিয়ে তাঁর নিজের উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন।
শুনুন…

লেখা: আলপনা ঘোষ
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল