সমাধি ফলকে খোদাই করা ‘এপিটাফ’, কেন লেখা হত এই কবিতাগুলি?

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 26, 2021 10:37 pm|    Updated: May 27, 2021 1:01 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 26, 2021 10:37 pm Updated: May 27, 2021 1:01 pm

নোবেল বিজয়ী কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস মারা গেছিলেন, ১৯৩৯ সালে ফ্রান্সের মেনটনে। মৃত্যুর পর এক নিজস্ব গোপনীয় শোকসভার মাধ্যমে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল, আল্পসের কাছে  নীল সমুদ্রের ধারে ছোট্ট জনপদ, রুকিব্রুইন কেপ মার্টিনে। পরিচয় জানতে পেরেই তাঁর দেহাবশেষকে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তাঁর পরিবারের সেই সময়ে সম্মতি ছিল না। ইয়েটস এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জর্জির প্রায়ই মৃত্যু নিয়ে কথোপকথন হত। তাঁকে দ্রুত যেন ফ্রান্সের এই জনপদে সমাধিস্থ করা হয় এই ছিল তাঁর ইচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি মারা যাই এই রুকিব্রুইনে’ই আমাকে সমাধিস্থ কোরো, তারপর বছর খানেক কাটলে যখন খবরের কাগজেরা আমার অস্তিত্ব বিষয়ে ভুলে যাবে, আমাকে তুলে নিয়ে সিলগোতে রেখে আসবে’।

১৯৪৮-এ মৃত্যুর এগারো বছর পর ইয়েটস-এর দেহাবশেষ কবর থেকে খুঁড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আয়ারল্যান্ডের সিলগোর ড্রামক্লিফের সেন্ট কলম্বাস চার্চের প্রাঙ্গণে। তাঁর শেষ লেখা কবিতা ‘আন্ডার বেন বুলবেন’ শেষ কয়েকটি লাইন;

‘জীবন এবং মৃত্যুর উপর

নিরাসক্ত দৃষ্টিপাত করে

নিঃশব্দে চলে যেয়ো, ঘোড়সওয়ার!’

এই ছিল তাঁর এপিটাফ। তাঁর শেষ ইচ্ছের মতোই খ্যাতি থেকে দূরত্বে থাকা নির্মোহ নিরাসক্তির কোলাজ।

প্রখ্যাত ইংরেজ নারীবাদী লেখিকা ভার্জিনিয়া উল্ফ-এর মৃত্যুকাহিনি বলে এই কিস্যার শেষ করি। ভার্জিনিয়া তাঁর তেরো বছর বয়স থেকে আজীবন লড়েছিলেন তীব্র বিষাদ এবং মুড সুইং-এর সঙ্গে। ছোটবেলায় মায়ের মৃত্যুর পর থেকে শুরুয়াৎ। ন বছর বাদে বাবার মৃত্যু তাঁকে একেবারে তছনছ করে। একদিন বাড়ির জানলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর আত্মীয়রা একে পাগলামি বলতেন। অতঃপর ভাইয়ের মৃত্যু তাঁর কিশোরী মনকে ধ্বংসাবশেষে পর্যবসিত করে। মানসিক হাসপাতালে অনেকদিন কাটে।

বিশ্বযুদ্ধের সময় বিষাদের তীব্র ছুরি আবার তাঁকে ফালাফালা করতে থাকে। যুদ্ধের ভয়, অজস্র মানুষের মৃত্যু দর্শন, জার্মান বোমার আক্রমণে লন্ডনে তাঁর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এইসব একেবারে ভেঙেচুরে দিচ্ছিল তাঁকে। ১৯৪১-এ তাঁর শেষ উপন্যাস ‘বিটুইন দ্য অ্যাক্টস্’-এর পর কুলপ্লাবি বিষাদে ডুবে যান তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে তিনি তাঁর ডায়েরিতে লেখেন, মৃত্যু নিয়ে ক্রমশ আছন্ন হয়ে উঠছেন। তাঁদের বাড়ির কাছে বয়ে চলা অউস নদীর কাছে গিয়ে ওভার কোটের পকেটে ভরলেন অজস্র নুড়ি পাথর, তারপর ঝাঁপ দিলেন নদীতে। সেদিন ছিল আঠাশে মার্চ। প্রায় একুশদিন পর, আঠারোই এপ্রিল তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। সাসেক্সের রডমেলের বাড়িতে এল্ম গাছের তলায় তাঁর স্বামী, তাঁকে সমাধিস্থ করেন। মৃত্যুর আগে তাঁর স্বামীকে তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখেছিলেন। সেখানেই বলা ছিল, তাঁর এপিটাফটি।

আরও শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল