সুপ্রাচীন গ্রিস-রোম-মিশর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হয়ে আজকের বাঙালি হেঁশেল– পাঁচফোড়ন-মাহাত্ম্যের ইতিউতি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: June 1, 2021 9:37 pm|    Updated: June 1, 2021 9:37 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: June 1, 2021 9:37 pm Updated: June 1, 2021 9:37 pm

অনেকে বলেন ‘ফোড়ন’ শব্দটির আগমন ভোজপুরি বা মৈথিলী ভাষা থেকে। এদিকে, বঙ্গভূমে আবার শুধু রান্নাতেই নয়, ‘ফোড়ন’-এর ব্যবহার রয়েছে চলতি কথাবার্তায়ও। গরম তেলে ছাড়লে বীজগুলি লাফায় বলেই সম্ভবত তার এর থেকে বাংলায় প্রচলিত ‘ফোড়ন কাটা’ কথাটি এসেছে। পাঁচফোড়ন যেহেতু পাঁচটি মশলাজাতীয় উদ্ভিদের বীজ, তাই একে আলাদা করে মশলা বলা যাবে না। বাংলার রান্না ব্যবস্থায় মশলা সাধারণত বেটে কিংবা গুঁড়ো করে রান্নায় ব্যবহার করা হয়; কিন্তু ফোড়নের ব্যবহার রান্নার আগে হয়, পরে নয়। পাঁচফোড়ন বেটে বা গুঁড়ো করে রান্নায় ব্যবহার করা হয় না।
শুধুই কি বাংলা? বিশ্বের বিখ্যাত সুপ্রাচীন সভ্যতাগুলির খাঁজে খাঁজে লুকিয়ে আছে এই পাঁচফোড়নের একেকটির বিবিধ ব্যবহার। কীরকম?
১৯ বছর বয়সের শীর্ণ একটি দেহ, সময়কাল ১৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। দেহটি শায়িত শ্বেতশুভ্র সাদা চাদরে। মন্ত্রোচ্চারণ করছে কিছু পুরোহিত। বিশেষ জাদুমন্ত্রের পর সেই দেহটিকে সম্পূর্ণ আবৃত করা হল কাপড়ে, তৈরি হল মমি। তারপর প্রস্তুতি চলল সমাধিক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার। স্মৃতিসৌধে প্রবেশের আগে চলল আরও কিছু আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকলাপ। কফিনে চিরশায়িত হলেন অষ্টাদশ ফারাও তুতেনখামেন। শায়িত মৃতদেহের পাশে ছিল গম, ছোলা এবং মেথি। এই মেথি-মাহাত্ম্য আগেই জেনেছি আমরা। মৃতদেহ সুবাসিত করতে মমির পাশে মেথি রাখার চল ছিল মিশরে। ইতিহাস মেশানো গল্পের পথচলা এখানেই শেষ নয়। গ্রিসের মাঠে-ঘাটে একটা সময় নাকি ভর্তি থাকত মেথি গাছ! প্রাচীন গ্রিস ও রোমে জিরে ছিল অতি দুর্মূল্য বস্তু। রোমে জিরেকে নাকি লোভের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হত, আবার সেই জিরেই মধ্যযুগের ইউরোপে হয়ে ওঠে নিখাদ ভালবাসার প্রতীক! ধরুন, যুদ্ধ চলাকালীন সেনাবাহিনীতে ডাক পাওয়া কোনও তরুণ তার প্রিয়তমার কাছ থেকে বিদায় নেবে। প্রিয়তমা প্রেমিকের পকেটে রেখে দিত একটুকরো রুটি। সাধারণ রুটি নয়, জিরে দিয়ে বেক করা বিশেষ এক ধরনের রুটি। গ্রিক পুরাণের প্রমিথিউসকে আমাদের অনেকেরই মনে আছে। ককেশাস পর্বতের পাথরের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল এই টাইটানকে। গ্রিক দেবরাজ জিউসের আদেশে এমনতর শাস্তি। জিউস-প্রেরিত ঈগল কালের পর কাল ধরে জীবন্ত প্রমিথিউসের যকৃত একটু একটু করে খুবলে খেত । কী অপরাধ ছিল প্রমিথিউসের? মানুষের জন্য আগুন চুরি করে এনেছিলেন তিনি। কাহিনির এই পর্যন্ত অনেকেই জানেন হয়তো। ‌কিন্তু কীসে করে এনেছিলেন আগুন? কথিত, মৌরি গাছের ডাঁটায় করে প্রমিথিউস সেই আগুন এনেছিলেন। প্রাচীন গ্রিসে মৌরি ছিল অতি পবিত্র। সেখানকার প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রের বইয়ে নাকি নিদান আছে– মৌরি গাছ দেখেও যে সংগ্রহ করে না, সে শয়তান!
শুনে নিন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল