যৌনতা ও অশ্লীলতা: শিল্পীর ভাবনা ও আম-আদমির বিশ্বাসের ফারাক

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 3, 2021 4:38 pm|    Updated: May 3, 2021 4:38 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 3, 2021 4:38 pm Updated: May 3, 2021 4:38 pm

১৯৭৫-এ মুক্তি পায় উত্তমকুমার অভিনীত ‘অগ্নীশ্বর’। ছবিতে দেখা যায়– হঠাৎ একদিন একটি যৌন এবং পর্নোগ্রাফির মিশ্র উত্তরাধিকারবাহী পত্রিকা অগ্নীশ্বর ওরফে নায়ক উত্তমকুমারের বিছানায় হাজির হয়েছে। ক্ষুব্ধ অগ্নীশ্বর তার সদ্যবিবাহিত পুত্রকে ডেকে বলেন, এসব পত্রিকা আমার ঘরে কেন? খানিক বিব্রত হয়েই পুত্র বলে, কাগজওয়ালা ভুল করে দিয়ে গিয়েছে। পুত্রের এভাবে বিব্রত হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু যা লক্ষ্যণীয় তা হল– রোজ খবরের কাগজ দেওয়া হকার এমন একটি পত্রিকা বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে। পত্রিকার মধ্যে যে নিষিদ্ধতার আবহ রয়েছে তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই নিষিদ্ধতার বাইরে সামাজিক মান্যতার একটি রূপও রয়েছে। নিষিদ্ধতার প্রশ্নটা এখানে ‘কে পড়বে?’ ‘পাঠক কে?’ ‘তার বয়স কত?’ ‘তার লিঙ্গ পরিচয় কী?’– এমন কিছু প্রশ্নের মধ্যে লুকিয়ে। অগ্নীশ্বর কিন্তু কখনই তার সদ্য বিবাহিত পুত্রকে এমন পত্রিকা পড়তে নিষেধ করেননি, বরং আমাদের দেশে বিবাহের পরবর্তীকালে এই ধরণের পত্রিকা বা বই দম্পতিদের গোপন জীবনের সঙ্গী হয়ে ওঠে।

কিন্তু যৌনতা যে সবক্ষেত্রেই আনন্দ বা মুক্তির কথা বলে তাও ভুল। লিঙ্গের একটি ইতিহাস যেমন আত্মসুখের কথা বলে, তেমনই এর আর একটি স্বর আধিপত্যের কথা বলে, সন্ত্রাসের কথা বলে, ভীতি প্রদর্শনের কথা বলে। আর ঔপনিবেশিক কালপর্বে এই লিঙ্গ যখন ক্ষমতাধারী ইংরেজ শাসকের অঙ্গ হয়ে ওঠে, তখন তার প্রতাপ প্রকাশ পায় সাধারণ প্রজার ওপর। ১৮৫৯ সালের ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকাতে এমনই একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। স্থান: বাংলার কোনও একটি গ্রাম, নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়নি। এক নীলকর সাহেবের কুঠির সামনে দিয়ে রোজ একটি কায়স্থের ভাইয়ের বউ ও মেয়ে নিকটবর্তী নদী থেকে জল আনতে যেত। মেয়েটি দেখতে ভারি সুন্দর। নীলকর সাহেব সুযোগ খুঁজতে থাকেন কীভাবে তাকে নিজের কাছে আনা যায়। একদিন সেই সুযোগও এলো। মেয়ের বাবা কিছু কাজের জন্য অন্য গ্রামে গিয়েছেন। সাহেব সেদিন রাতেই ১০-১২ জন লাঠিয়াল পাঠিয়ে মেয়েটিকে এবং তার কাকিমাকে তুলে আনালেন। ঘটনাটি বরং একটু সোমপ্রকাশ থেকেই উদ্ধৃত করা যাক।

‘কন্যাটির খুড়িকে আনাইবার কারণ শুনিলে আমাদিগের পাঠকগণ কুঠিয়াল সাহেবকে সহস্র সাধুবাদ দিবেন সন্দেহ নাই। পাঠকগন এরূপ মনে করিবেন না যে সাহেব উভয় স্ত্রীকেই স্বয়ং রাখিবার মানস করিয়া তাহাদিগকে আনাইয়াছিলেন। একদা দুই স্ত্রী রাখিতে নাই, শাস্ত্রে নিষেধ আছে। সাহেব তাহা জানেন। তিনি জ্ঞানবান হইয়া তেমন অবৈধ কর্ম করিবেন কেন? যে সকল লোক…কন্যাটিকে আনিয়া দিয়া তাঁহার মহোপকার করিয়াছিল, তিনি যদি তাহাদিগকে শ্রমানুরূপ পুরস্কার না দেন, তাহা হইলে অকৃতজ্ঞ হইতে হয়। তিনি কেবল সেই অকৃতজ্ঞতা দোষের পরিহার করিবার নিমিত্ত সেই কন্যাটির খুড়িকে আনান এবং পুরস্কার স্বরূপ কর্ম্মকর্তাদিগের হস্তে তাহাকে সমর্পণ করেন। সাহেবের এই উদার ব্যবহার বৃত্তান্ত শ্রবণ করিয়া কে না প্রশংসা করিবেন।’
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: বিজলীরাজ পাত্র
পাঠ: মোনালিসা রায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল