নিজের লেখার ভালত্ব প্রমাণে তর্ক না-করে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকো; যোগ্য হলে মহাকাল পুরস্কার দেবেন– বিশ্বাস ছিল বিভূতিভূষণের

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 21, 2021 2:28 pm|    Updated: May 21, 2021 2:28 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 21, 2021 2:28 pm Updated: May 21, 2021 2:28 pm

সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত আড়ম্বরহীন সাদাসিধে জীবনযাপন ছিল তাঁর, সাহিত্যিকদের বিভিন্ন জমায়েতে খুব বেশি কথা বলতেন না তিনি, যেতেনও কম। ১৯৪৩-’৪৪ সাল নাগাদ বিহারের কোনও একটি শহরে ‘নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অন্যান্য সাহিত্যিকদের সঙ্গে বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও আমন্ত্রিত ছিলেন। কিন্তু যখন তাঁর ভাষণের সময় উপস্থিত হল, তখন আর তাঁর আর দেখা নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে রেললাইনের ধারে তাঁকে পাওয়া গেল। এক নির্জন স্থানে পাথরের ওপর বসেছিলেন। জিজ্ঞেস করায় বললেন: ওখানে বড় বদ্ধ আবহাওয়া, তাই এখানে এসে ভগবানের কথা ভাবছিলাম। আসলে এইসব বৈষয়িক হিসেবনিকেশ  আর পরনিন্দা-পরচর্চা আমার ভাল লাগছিল না।

চারের দশকের মাঝামাঝি সময় সাহিত্যিকদের একটি খুব নামকরা আড্ডা বসত যা ‘মিত্র ও ঘোষ’-এর আড্ডা নামে খ্যাত ছিল। তৎকালীন নামকরা সাহিত্যিকরা সকলেই আসতেন মুড়ি-শিঙাড়া-তেলেভাজা সহযোগে জমিয়ে আড্ডা দিতে। একদিন বিকেলে এলেন ‘গল্প ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্যোপাধ্যায়। এসে বিভূতিবাবুকে দেখেই স্বভাবসিদ্ধ কুশলজ্ঞাপন সেরে জানালেন– অনেকদিন ধরেই একটা কথা বলবেন বলে ভাবছিলেন। সেবার পুজোয় ‘গল্প ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিভূতিভূষণের লেখাটা যে তাঁর মোটেই ভাল লাগেনি তা কায়মনোবাক্যে স্বীকার করলেন। তাঁর নাকি সেটাকে বাঁ-হাতে লেখা গল্প মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, বিভূতিবাবু একটুও মনোযোগ দেননি লেখাটায়। প্লটহীন রদ্দি গল্প নয়, আরও ভাল কিছু প্রত্যাশা করেন পরের বছর। অন্তত এমনটাই জানালেন চিলচিৎকার করে।

বিভূতিভূষণ সমস্তই হাসিমুখে শুনলেন। তারপর বিনম্রভাবে হেসে জানালেন, গল্পটা নিয়ে বিশেষ সুবিধে করতে পারেননি। ফসকে গিয়েছে। পরের বার ভাল গল্প দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রাখলেন।

খানিক বাদে নৃপেন্দ্রাকৃষ্ণবাবু কী একটা কাজে বেরিয়ে গেলেন।

আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক গজেন্দ্রকুমার মিত্রও। নৃপেন্দ্রকৃষ্ণবাবু বেরিয়ে যেতেই তিনি বিভূতুভূষণকে আচ্ছা করে ধমক দিলেন। প্রিয় ‘বড়দা’কে গজেন্দ্রকুমার জানালেন, গল্পটা তিনি পড়েছেন মন দিয়ে। সেটা নাকি একটা অনবদ্য ছোটগল্প হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর প্রথম শ্রেণির দশটি ছোটগল্পেও আরামসে স্থান পেতে পারে। অথচ তা নিয়েই কিনা নৃপেনবাবুর অমন কথা! যার উত্তরে আবার বিনম্রতা দেখালেন বিভূতিভূষণ।  ব্যাপারটা ভালভাবে নেননি গজেন্দ্রকুমার। প্রতিবাদ না-করায় ‘বড়াদা’র ওপর বেজায় চটে গেলেন তিনি।
 
এরপর কী বললেন বিভূতিভূষণ?
 
শুনে নিন…

লেখা: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল