মৃত্যুর সময় ব্যাঙ্কে ছিল শুধু পাঁচ টাকা! শুনুন আর. ডি.-র জীবনের ট্র্যাজিক কাহিনি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 4, 2021 10:12 pm|    Updated: January 5, 2021 3:42 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: January 4, 2021 10:12 pm Updated: January 5, 2021 3:42 pm

‘ইয়াদ আ রহি হ্যায়…’

১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া, ‘লাভ স্টোরি’ ফিল্মের, লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া এই গান শুনলেই স্মৃতিতে উঁকি দেন, রাহুল দেব বর্মন, যাঁকে আমরা পঞ্চম নামেই বেশি চিনি। কী বিশেষণে পঞ্চমকে ভূষিত করা যায়! শিশুর সারল্য, জাদুকরের মাধুকরী আর সংগীতের প্রতি তীব্র প্যাশন, একসঙ্গে সঠিক অনুপাতে মিশলেই আর. ডি.-র মতো ‘মিউজিক্যাল জিনিয়াস’ তৈরি হয়। তিনশোর বেশি ছবিতে সুর দিয়েছেন। অভিনয় করেছেন, গান গেয়েছেন। ভারতীয় সংগীত জগতে একের পর এক মাইলস্টোন তৈরি করা সত্ত্বেও একসময় তিনি হয়ে উঠেছিলেন, নিঃসঙ্গ, ব্রাত্য, কর্মহীন। এক ৪ জানুয়ারি ভোরবেলায়, পঞ্চম সুর আচমকা স্তব্ধ হয়েছিল। অবিশ্বাস্য হলেও, সত্যি মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাঙ্কের ভল্টে পাওয়া গিয়েছিল মাত্র পাঁচ টাকা আর কিছু বাতিল কাগজ। ‘শোলে’ থেকে ‘গোলমাল’, ‘ত্রয়ী’ থেকে ‘ইজাজত’ একের পর এক হিট সিনেমার, গোল্ডেন ডিস্ক পাওয়া সুরকারের মৃত্যুর সময় এমনতর পরিণতির নেপথ্য কাহিনি কি ?

১৯৬১ সাল, পঞ্চমের বাবা, শ্রদ্ধেয় সুরকার শচীন দেব বর্মনের হার্ট অ্যাটাক হয়। তিনি তখন গুরু দত্তের সঙ্গে, ‘বাহারে ফির ভি আয়েগি’ ছবির কাজ করছিলেন। শচীন কত্তা গুরুকে অনুরোধ করেন, তিনি অন্তত তাঁর সুস্থতা অবধি যেন একটু সময় দেন, অন্তত পাঁচটি সুর ইতিমধ্যেই কম্পোজ করা হয়ে গিয়েছে। গুরু জানান, তিনি আর অপেক্ষা করতে পারবেন না। প্রভূত অনুরোধের পরেও সেই কাজ হাতছাড়া হয়। একে একে সমস্ত প্রযোজকরাই শচীন কত্তার থেকে কাজ নিয়ে নিতে থাকেন। পাশে দাঁড়ান দেব আনন্দ। তিনি আশ্বাস দেন, শচীন কত্তা যদ্দিন না সুস্থ হবেন, তদ্দিন তিনি অপেক্ষা করবেন। এস. ডি.-দেব আনন্দ জুটির ছবি ‘গাইড’ মুক্তি পায়। গান এবং ছবি দুই-ই বক্স অফিসে বিপুল সফল। পাঁচের দশকে বাবার সঙ্গে গুরু-র ছবি ‘প্যায়াসা’, ‘কাগজ কে ফুল’, ছয়ের দশকে ‘গাইড’ এবং ‘আরাধনা’-তে রাহুল দেব কাজ করেছিলেন সহকারী সংগীত পরিচালক হিসাবে। ‘৬৮ সালের ‘পড়োশন’, ‘৭০-এ ‘কাটি পতঙ্গ’, থেকে আটের দশকের শেষ পর্যন্ত তাঁর লাগাতার সাফল্যের যাত্রা অব্যাহত থেকেছে।

আটের দশকে বেশ কয়েকটি ঘটনা আর. ডি.-র মিউজিক্যাল কেরিয়ারের পক্ষে বিপুল অন্তরায় হয়। ‘৮২ সালে দেব আনন্দের ড্রিম প্রজেক্ট ‘স্বামী দাদা’ চূড়ান্ত ফ্লপ হয়। দেব আনন্দের সমস্ত রাগ এবং বিরক্তি গিয়ে পড়ে রাহুল দেবের উপর। তাঁর ধারণা হয়, রাহুল দেব যথেষ্ট ভাল সুর তৈরি করেননি, সেই এই ছবির দুর্ভাগ্যের কারণ। পঞ্চম দেব আনন্দকে যথেষ্ট অনুরোধ করেন একসঙ্গে কাজ করার, অথবা আরও একটা সুযোগ দিলে ঠিকই ক্ষতি পুষিয়ে দেবেন। সেই ছোট থেকে দেখছেন পঞ্চমকে, অত্যন্ত সংকটেও বাবাকে বিপদের থেকে রক্ষা করেছেন, আর এখন এমন করলে, বাকিদের কাছে কী বার্তা যাবে! বলিউড তো গুজব আর রটনায় চলে, কেউ কি আর পঞ্চমের সঙ্গে কাজ করতে চাইবেন! দেব তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়।

অন্য পরিচালকরাও রাহুল দেবকে কাজ দেবেন প্রতিশ্রুতি দিয়েও, ভুলে যেতেন অথবা এড়িয়ে যেতেন। রমেশ সিপ্পির সঙ্গে ‘শোলে’র পর রাহুল দেব আবার কাজ পান, ‘শান’ এবং ‘সাগর’-এ। শেখর কাপুর এবং সুভাষ ঘাই দু’জনেই প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোনও কাজ করেন না। এমনকী, যশ চোপড়ার ব্যানারে ‘৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিওয়ার’ সুপারহিট হওয়া সত্ত্বেও সেই দিক থেকে কোনও কাজের ডাক আর আসে না। রাহুল ছিলেন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ। কাজ করিয়ে টাকা না দিলেও কোনদিনও কারও কাছে কোনও অভিযোগ করেননি। অথবা কাজের জন্য কখনও কারও কাছে চাইতেও যাননি।

তারপর! শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা, সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল