আত্মার পরপার নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ছিল অপার আগ্রহ, ভয় পেতেন অপঘাত মৃত্যু, কৌতূহলে নিয়মিত করেছেন প্ল্যানচেটচর্চাও

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 10, 2021 3:50 pm|    Updated: April 15, 2021 2:17 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 10, 2021 3:50 pm Updated: April 15, 2021 2:17 am

মৃত্যুচিন্তা, মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে দেখা আত্মহনন; এই আত্মহননের ইচ্ছাই একবার গ্রাস করেছিল কবিকে, মৃত্যুর বহুবছর আগে! ১৯১৪-র ২৫শে সেপ্টেম্বর শ্রীনিকেতন থেকে এক চিঠিতে পুত্র রথীন্দ্রনাথকে জানান, ইউনানি ডাক্তারের ওষুধ খেয়ে তাঁর মানসিক উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ পড়ে সেই সমস্ত উপসর্গ চিহ্নিত করে বুঝতে পারেন তাঁর মধ্যে কাজ করছে অবসাদ, মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা, কান্নার ইচ্ছে, হতাশা, আত্মহত্যার প্রবণতা, অহেতুক রাগ ইত্যাদি! কী লিখেছিলেন সেই চিঠিতে? ‘‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করেছে, মনে হয়েছে আমার দ্বারা কিছুই হয়নি এবং হবেনা। আমার জীবনটা যেন আগাগোড়া ব্যর্থ…।’’

২৯শে জানুয়ারি ১৯১৫, বন্ধু সিএফ অ্যান্ড্রুজকে কার্যত একই কথা লেখেন, ‘‘I feel that I am on the brink of a breakdown.’’ সৌভাগ্যক্রমে এর কয়েকদিন পরেই এই অবসাদ দূরীভূত হয়, শিলাইদহে এসে রথীন্দ্রনাথকে জানান তাঁর ক্লান্তি আর দুর্বলতা দূর হয়ে গেছে। নাহলে যে ইতিহাসটাই বদলে যেত!

১৯০২ সালের ২৩শে নভেম্বর। জোড়াসাঁকোয় অসুস্থ মৃণালিনীর পাশে বসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সারারাত পরিচারিকার মতো মৃণালিনীর পাশে জেগে তাঁর সেবা করেন। ভোররাতে চারিদিকের নিস্তব্ধতায় রথীন্দ্রনাথ বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁদের মা যাত্রা করেছেন পরপারে। বাইশ বছর পরে একদিন আন্দেজ জাহাজে বসে এই অভিজ্ঞতার অনুরণিত করে লিখেছিলেন, “…সঙ্গীহীন এ জীবন শূন্যঘরে হয়েছে শ্রীহীন,/ সব মানি—সবচেয়ে মানি, তুমি ছিলে একদিন।”

মৃত্যুকে ‘সুন্দর’, ‘মানবাত্মার সান্ত্বনাস্থল’ হিসেবে দেখলেও রবীন্দ্রনাথের জীবনে কী সাধারণভাবে তাঁকে আপন করে নিতে পেরেছিলেন? হয়তো পারেননি, তাই কি চেয়েছিলেন নিজের মেয়ের অপঘাতে মৃত্যু! অপঘাতে মৃত্যুকে ভয় পেতেন রবীন্দ্রনাথ, ১৯৩৯-এ কুমার জয়ন্ত রায়কে সে কথা জানিয়ে লেখেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ মৃত্যুকে বিন্দুমাত্র ভয় করিনি। ভয় করি অপঘাতে মৃত্যুকে।’’

নিজের ছোটো মেয়ে মীরার সঙ্গে নগেন্দ্রনাথের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথকে এক আত্মযন্ত্রণার সামনে এনে দাঁড় করায়। নগেন্দ্রনাথ মীরা  উপর শারীরিক নিগ্রহ করতেন! বাবা হিসেবে কীভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব, ভেবেছিলেন তাঁর জন্যই মেয়ের জীবনটা বোধহয় নষ্ট হয়ে গেল! এই মানসিক অবস্থায় রথীন্দ্রনাথকে লেখা চিঠিতে তিনি সেই আর্ত হাহাকার করেছিলেন, ‘‘বিয়ের রাত্রে মীরা যখন নাবার ঘরে ঢুকছিল তখন একটা গোখরো সাপ ফস করে ফনা ধরে উঠেছিল— আজ আমার মনে হয় সে সাপ যদি তখনই ওকে কাটত তাহলে ও পরিত্রাণ পেত।’’

শুনুন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: জয়ন্ত মিত্র
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল