‘জেলখানায় লেখা সত্তর’; বন্দীদশায় লেখার সারি, শতশত কণ্ঠের নীরব আর্তনাদ, আত্মার রক্তাক্ত প্রতিচ্ছবি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 17, 2021 4:18 pm|    Updated: April 17, 2021 11:08 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 17, 2021 4:18 pm Updated: April 17, 2021 11:08 pm

অন্ধ চৌখুপির মধ্যে কুড়িয়ে নেওয়া সিগারেটের খালি প্যাকেটের ভেতরের সাদা কাগজে লেখা হতো গান। জেলখানায় গান প্রতিদিনের। বন্দী জীবনের অসহনীয়তাকে সহ্য করায়। টিনের কৌটোকে একতারা, মাটির ভাঁড়কে গুপিযন্ত্র, থালা বাজিয়ে সঙ্গত করা। কিন্তু গানও ‘জেল-কোড’ বিরোধী। গাওয়া, লেখা সব’ই আইনে নিষিদ্ধ। তেমনই এক গানের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন জয়া মিত্র।

“একাত্তরের একেবারে শেষদিকে বহরমপুর জেলের অফিসে একদিন তিমিরের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির তিমির সিংহ…শুনলাম নতুন একটা গান এসেছে তিমিরদের কাছে। তক্ষুনি আমাকে শেখাতে হবে সেটা।..তিমির এক এক লাইন করে গাইছে ছোট গানটা, সঙ্গে সঙ্গে গাইছি স্মৃতিতে বসিয়ে নেবার জন্য। তিমিরের ভরাট সুরেলা গলা ভাসছে জেল অফিসের ঝুলপড়া বন্ধ বাতাসে।”

জেলখানায় যে ডায়েরি লেখা, সেসবের মধ্যে সৌমেন গুহের ডায়েরির একটি অংশে গিয়ে আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসে, যন্ত্রণার রুদ্ধতায়,

“খুব কষ্টে চুপিচুপি গোপনে, একটু পেন্সিলের শিষ আর একটুখানি কাগজ জোগাড় করেছি এক মেয়াদি মেটের কাছ থেকে…হরেক রকম গল্প বলতে হয়েছে তাকে। ও বুঝেছিল আমার যন্ত্রণা…কিছু বোঝা যায় না, কি লিখছি ঝাপসা অস্পষ্ট, ক্ষুদে ক্ষুদে লেখা। কাগজ তো জোটে না বলে শুধু নয়। গোপন রাখতে হবে এ লেখাটুকু।” অথবা “পাগল না হওয়ার উপায়..সেটা এবার পেয়ে গেছি, দেখিস দেয়াল, অবাক হয়ে দেখিস…আমি কিছুতেই পাগল হবো না।”

এইভাবেই দেয়ালের সঙ্গে নিজের কথা বলে, ডায়েরির পাতায় আত্মার যন্ত্রণার অক্ষরগুলোকে বিষ পিঁপড়ের মতো ছড়িয়ে দিয়ে মনোভার নামানোর চেষ্টা চলতো হয়তো।

জেলখানা থেকে চিঠি লেখার, চিঠি পাঠানোর অনেক নিয়ম-কানুন। মাসে একটা বা দুটো পোস্টকার্ড পাওনা। মাঝে মাঝে সেই পোস্ট কার্ডও মেলেনা, জোগান নেই তাই। সেই চিঠি কতৃপক্ষ দেখে সম্মতি দিলেই ইংরাজিতে ছাপ পড়বে, ‘পাসড্ এন্ড সেন্সরড্’। আর এই পরীক্ষায় পাশ না করলে সে চিঠি বাতিল। এইসবের পরেও চিঠি পাঠানো হতো না, হলে পৌঁছতে অন্তত এক মাস। পোস্টকার্ড দিলেও কলম দেওয়া বারণ। আর জবাবি চিঠি এলেও সে নেওয়াতেও অজস্র এমন বাঁধা। এসব চিঠি লেখা হতো মাকে, শহীদ কমরেডের মাকে শোকের শীতলপাটি বিছিয়ে দিতে, বাড়ির সদস্যদের। বাড়ির ছোটদের বেড়ে ওঠা জানান দিত চিঠি।

শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল